kalerkantho


রাউজানে প্রবাসী ফখরুল খুন

বাল্যবিয়ের কুফল বলছেন ইউএনও-স্কুলশিক্ষকরা

জাহেদুল আলম, রাউজান (চট্টগ্রাম)   

২২ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



সাবেক স্ত্রীর বাসায় জবাই করে স্বামীকে হত্যাচেষ্টা এবং পরে হাসপাতালে মারা যাওয়ার ঘটনাটিকে বাল্যবিয়ের কুফল মনে করছেন রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম হোসেন রেজাসহ স্কুলের শিক্ষক ও সচেতন মহল। এক বছর আগে স্কুলে পড়া অবস্থায় উম্মে হাবিবা মায়ার বিয়ে নিয়ে তার পরিবার তাড়াহুড়ো না করলে এমন পরিস্থিতি হত না বলে মন্তব্য করেছেন তাঁরা। মায়াকে অপ্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে বিয়ে দেওয়ার চেষ্টার ঘটনা প্রশাসন পণ্ড করে দেওয়ার পরও গোপনে আবার বিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

জানা যায়, রাউজানের গহিরা ইউনিয়নের উত্তর দলইনগর এলাকার আবুল বশর বাবুল ও রাশেদা আকতারের মেয়ে উম্মে হাবিবা মায়া একবছর আগে গহিরা দলইনগর স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। ওই সময় তার মা-বাবা মোবারকখীল এলাকার তাজুল ইসলামের ছেলে ওমানপ্রবাসী ফখরুল ইসলামের সঙ্গে মায়ার বিয়ে পাকাপাকি করেন। বাল্যবিয়ের খবরটি শিক্ষকদের মাধ্যমে জানতে পারেন উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শামীম হোসেন রেজা। তিনি ওই সময় উদ্যোগী নিয়ে বিয়েটি বন্ধ করেন।

এ প্রসঙ্গে শামীম হোসেন রেজা বলেন, ‘বিয়ে বন্ধ করার পরও তারা দুই পরিবার মিলে বিয়েটি আদালতের মাধ্যমে এফিডেভিট করে গোপনে সম্পন্ন করে। যদি ওই বিয়ে না হত তাহলে এ ধরনের পরিস্থিতি হত না। বাল্যবিয়ের কুফল এটি। আমি এ জন্যই বাল্যবিয়ে বন্ধ করি। এখন এ ঘটনার কারণে যে মরলো সেও মরছে, যে মারছে, সেও মরছে। এটা অন্যদের জনও একটি সতর্কবার্তা। বয়স কম হওয়ার কারণে মেয়েটি এ ধরনের কাজ করছে।’

মায়ার স্কুল দলইনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পিন্টু নন্দী বলেন, ‘উম্মে হাবিবা মায়া বিজ্ঞান বিভাগ থেকে গত বছর এসএসসি পাস করেছে। মায়ার পরিবার যদি তার বিয়ে নিয়ে না ভেবে পড়ালেখা স্বাভাবিকভবে চালিয়ে নিত, উচ্চশিক্ষা লাভ করে মায়া তার সিদ্ধান্ত সে নিতে পারত। তখন প্রাপ্তবয়স্ক হতো সে। তাহলে আজকে এ ধরনের করুণ পরিণতি হতো না। মায়ার পরিবারের ভুলের কারণে এখন দুই পরিবার তছনছ হয়ে গেল।’

প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গহিরা চৌমুহনীর উত্তর পাশে জনতা ব্যাংকের পেছনের ৪তলা বিশিষ্ট আমেরিকা প্রবাসী আবু তাহেরের বাসার ৩য় তলার ভাড়াটিয়া ঘর থেকে আগুনের ধোঁয়া বের হতে দেখলে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত আগুন নেভাতে যান। একইসময় তাঁরা বাসার সিঁড়িসহ ফ্লোরে রক্তের দাগ দেখে বাসার ছাদে উঠে দেখেন গলাকাটা অবস্থায় পড়ে আছে উম্মে হাবিবা মায়ার সাবেক স্বামী ফখরুল ইসলামের রক্তাক্ত দেহ। সঙ্গে সঙ্গে সেখান থেকে তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে গহিরা জে কে মেমোরিয়াল হাসপাতালে, পরে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। শনিবার সন্ধ্যায় হাসপাতালে মারা যান ফখরুল ইসলাম।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ছয়মাস আগে ফখরুল প্রবাস থেকে এলে দুই পরিবারের বোঝাপড়ায় আদালতের মাধ্যমে গোপনে ১৬ লাখ টাকা কাবিননামামূলে ফখরুল ও মায়ার বিয়ে হয়। মায়ার ‘পরকীয়া প্রেম’ নিয়ে দুই পরিবারের মনোমালিন্যের কারণে দুই মাস আগে আদালতের মাধ্যমে ফখরুলকে তালাকনামা পাঠান স্ত্রী মায়া। এর পর এক পর্যায়ে মায়ার মা রাশেদা আকতার কাবিননামার অর্থের মীমাংসা চেয়ে রাউজান পৌরসভায় আবেদন করেন। এর প্রেক্ষিতে প্রায় দেড়মাস আগে পৌরসভার প্যানেল মেয়র বশির উদ্দিন খানের মধ্যস্থতায় কাবিনের ৮ লাখ টাকা ধার্য করে ৬ মাসের মধ্যে তা পরিশোধ করার সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয় ফখরুলকে।



মন্তব্য