kalerkantho


ডাক্তারের দেখা পায় না রোগী

জাকির হোসেন, দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি)   

২২ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



ডাক্তারের দেখা পায় না রোগী

দীঘিনালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা ব্যবস্থা নাজুক হয়ে পড়েছে। বেশ কটি চিকিৎসকের পদ শূন্য রয়েছে। যাঁরা পদায়নে রয়েছেন তাঁদের মধ্য থেকেও আবার প্রেষণে রয়েছেন জেলা সদর হাসপাতালে। এ ছাড়া কর্মরতরাও নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত না থাকায় রোগীদের দুর্ভোগের শেষ নেই।

শুধু দীঘিনালা উপজেলাবাসী নন, সড়ক যাতায়াতের সুবিধার কারণে রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার একাংশ এবং লংগদু উপজেলার একাংশের বাসিন্দারা চিকিৎসার জন্য দীঘিনালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওপর নির্ভরশীল। অথচ এখানে রোগীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও চিকিৎসকের দেখা পান না বলে অভিযোগ করছেন ভুক্তভোগীরা।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অফিস সহকারী আশাপূর্ণ চাকমা জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, জুনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারি, মেডিসিন, গাইনি, অ্যানেসথেশিয়া, আরএমও, ডেন্টাল সার্জন এবং দুজন চিকিৎসা কর্মকর্তাসহ ৯টি পদ রয়েছে উপজেলা সদর হাসপাতালে। এর মধ্যে পদায়নে রয়েছেন ৬ জন। তাঁরা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, জুনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারি), জুনিয়র কনসালটেন্ট (মেডিসিন), দুজন চিকিৎসা কর্মকর্তা এবং ডেন্টাল সার্জন। এ পদায়ন থেকে  জুনিয়র কনসালটেন্ট (মেডিসিন) ডা. অনুতোষ চাকমা প্রেষণে খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে রয়েছেন।

এ ছাড়া উপজেলার পাঁচ সাব সেন্টারে পাঁচজন চিকিৎসা কর্মকর্তা থাকার পদ থাকলেও শুধু উপস্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র বোয়ালখালীতে পদায়নে আছেন ডা. মো. সাঈদ ইজাজুল হক। তিনিও আবার প্রেষণে রয়েছেন খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে।

জামতলী এলাকার  মুন্নি আক্তার (৩৫) অভিযোগ করে বলেন, ‘গত শনিবার পৌনে ১১টার দিকে আমার ৮ বছর বয়সী জরাক্রান্ত শিশুকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে যাই। ঘণ্টাখানেক অপেক্ষা করার পরও কোনো চিকিৎকের দেখা পাইনি। এ সময় আরো প্রায় ৪০/৫০ রোগীকে টোকেন হাতে চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকের কক্ষের বাইরে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। কিন্তু কোনো কক্ষেই চিকিৎসক ছিলেন না।’

ওই সময় কর্তব্যরত ছিলেন জুনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারি) ডা. আবু নাছের মো. জোবায়ের। জানতে চাইলে তিনি জানান, ডিউটি শেষ হওয়ার আগ মুহূর্তে তিনি পার্শ্ববর্তী বোয়ালখালী নতুন বাজারে গিয়েছিলেন।

ছোটমেরুং সোবানপুর এলাকার আবুল হোসেন (২৫) জানান, গতকাল রবিবার তাঁর নানি নূরজাহানকে (৭০) মোটরসাইকেল ধাক্কা দেয়। এর পর দ্রুত তাঁকে নিয়ে ছোটেন উপজেলা সদর হাসপাতালে। সকাল ৯টায় হাসপাতালে পৌঁছলেও মেলেনি কোনো চিকিৎসক। এক পর্যায়ে স্বজনরা  চিৎকার শুরু করলে প্রায় ৩০ মিনিট পর একজন এসে নূরজাহানকে দেখে মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনা কবলিত আশঙ্কাজনক রোগী নিয়ে যাওয়ার পরও চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তোলেছেন আবুল হোসেন।

জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. একরামুল আজম জানান, জনসংখ্যা অনুপাতে গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা দীঘিনালায় চিকিৎসক সংকট রয়েছে। সে কারণে চিকিৎসাসেবা কিছুটা হলেও বিঘ্নিত হচ্ছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘শনিবারের ঘটনার সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক কিছুক্ষণের জন্য বাইরে গিয়েছিলেন; পরে অবশ্য আবার চলে আসেন।’

গতকাল রবিবার দুর্ঘটনার রোগী নিয়ে যাওয়ার সময়ে চিকিৎসক না থাকা ব্যাপারে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘সকাল ৯টায় তো চিকিৎসক বাসাতেই ছিলেন। তবু বিষয়টি আমি খোঁজ নিয়ে দেখব।’



মন্তব্য