kalerkantho


ইউপিডিএফের বয়কটের মুখে অচলাবস্থার ৫ মাস

পানছড়ি বাজার কবে চালু হবে

শাহজাহান কবির সাজ, পানছড়ি (খাগড়াছড়ি)   

২১ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



পানছড়ি উপজেলার প্রাণকেন্দ্র পানছড়ি বাজারে অচলাবস্থার পাঁচ মাস পূর্ণ হলো শনিবার। গত ১৯ মে আঞ্চলিক সংগঠন ইউপিডিএফ বাজার বয়কটের ঘোষণা দেয়। এর পর দিন থেকে এখনো বাজারে বিরাজ করছে ভুতুড়ে অবস্থা। রবিবার সাপ্তাহিক বাজারবারে সব সম্প্রদায়ের মিলনমেলা থাকলেও বর্তমানে ক্রেতাবিহীন দোকানপাটে অলস সময় পার করছেন পাঁচ শতাধিক দোকানি। তাছাড়া পাহাড়ি সম্প্রদায়ের লোকজনও তাঁদের উৎপাদিত ফসলাদি বাজারজাত করতে না পেরে পড়েছেন বিপাকে।

জানতে চাইলে পানছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি সম্প্রতি এ উপজেলায় যোগদান করেছি। বাজার বয়কটের ব্যাপারে আমি খণ্ড খণ্ড ভাবে শুনেছি। এখনো বিস্তারিত জানা হয়নি। সব কিছু জেনে এ ব্যাপারে কী করা যায় সে ব্যাপারে উদ্যোগ নেব।’

জানা যায়, পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠন ইউপিডিএফ ও জেএসএসের মধ্যে বিরোধ-সংঘর্ষের জের ও জেএসএসের কয়েকজন সদস্য পানছড়ি বাজারের শুকতারা বোর্ডিংয়ে অবস্থানের কারণেই বয়কটের ডাক দেয় ইউপিডিএফ। দীর্ঘ পাঁচ মাস অতিবাহিত হলেও এর কোনো সুরাহার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ফলে এনজিও আশা, ব্র্যাক, পদক্ষেপ, গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসায়ীরা পরিশোধ করতে পারছেন না সাপ্তাহিক কিস্তি।

এদিকে মুদিপণ্য বিক্রেতাদের জিম্মি করে রেখেছে স্থানীয় দুই-চারজন ‘দালাল’ ব্যবসায়ী। তাঁরা নানান কৌশলে নিজেরা পণ্য মজুদ করে নিরীহ ব্যবসায়ীদের জোরপূর্বক চড়াদামে কিনতে বাধ্য করেন। ফলে বাজারে বিভিন্ন পণ্যের মূল্য ক্রেতার ক্রয়সীমার বাইরে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক ব্যবসায়ীর দাবি, পানছড়ি বাজারের গোটা চারেক ‘দালাল’কে শায়েস্তা করলেই দ্রব্যমূল্যের দাম স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে।

এ ব্যাপারে পানছড়ি বাজার উন্নয়ন কমিটির সভাপতি হেদায়েত আলী তালুকদার বলেন, ‘বাজারের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে চেষ্টা চলছে। হয়তো কিছুদিনের মধ্যে একটা ভালো খবর আসতে পারে।’ বাজার উন্নয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল কাশেম এ অবস্থার জন্য প্রশাসনকেই দায়ী করেন। তিনি বলেন, ‘প্রশাসন হস্তক্ষেপ করলে এটা সমাধান করা কোনো ব্যাপার না। পানছড়ি বাজারের ক্রেতা-বিক্রেতাদের সহাবস্থান নিশ্চিত করাসহ বিভিন্ন সমস্যাদি সমাধানকল্পে প্রশাসনের সুদৃষ্টি চায় বাজার ব্যবসায়ী ও আপামর জনগণ।’



মন্তব্য