kalerkantho

হাত বাড়ালেই মাদক মেলে

রামগড় (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি   

১৯ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



হাত বাড়ালেই মাদক মেলে

রামগড় সীমান্ত এলাকায় মাদকের ব্যবহার ও পাচার বেড়ে গেছে। ওই কাজে কিশোর-তরুণসহ নানা বয়সী মানুষ জড়িত। চোরাকারবারিরা পুলিশ-বিজিবির অভিযানের মধ্যেও এ কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত উপজেলার মাসিক আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভায় আলোচনা হয়। এতে পৌরসভার প্যানেল মেয়র ১ আহসান উল্যাহ বলেন, ‘রামগড়ে মাদক খুবই সহজলভ্য। হাত বাড়ালেই পাওয়া যায়। ঘরে বসেই মেলে নেশাদ্রব্য। সম্প্রতি পুলিশ জগন্নাথ পাড়া এলাকার মদ ও জুয়ার আসর থেকে ৭ জনকে আটক করে টাকা নিয়ে ছেড়ে দেয়।’

রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) তালাত মাহমুদ অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে সভায় বলেন, ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করছে। তবে অপরাধীরা ধরা পড়লে কতিপয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক ব্যক্তির তদবির বেড়ে যায়। তাঁদের টেলিফোনের কারণে সঠিকভাবে কাজ করা যায় না।’

রামগড় ৪৩, বিজিবির (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) সুবেদার নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ভারতীয় মাদক, বিভিন্ন দ্রব্যসামগ্রী কিংবা গরু আটক হলে কিছুসংখ্যক ব্যক্তি টেলিফোনে তদবির করে। কিন্তু বিজিবি মাদক ও চোরাচালান দমনে কঠোর অবস্থানে রয়েছে।’ জানা গেছে, একের পর এক মাদককারবারি ধরা পড়লেও এদের অপতৎপরতা বন্ধ হচ্ছে না।    

উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল কাদের বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক বৈঠকে মাদক প্রতিরোধের কথা বলা হলেও প্রতিকার হচ্ছে বলে তো মনে হয় না। লোকজন বলাবলি করছে, মাদকের রমরমা কারবার এখন রামগড়ে। মাদক যেন বেড়েই চলছে এলাকায়। বিভিন্ন এলাকায় নারীরাও মাদক পাচার ও ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছে বলে শোনা যায়।’

সরেজমিন সীমান্ত এলাকায় বসবাসরত স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রামগড় সীমান্তের বিভিন্ন হাটবাজারে ইয়াবা, ফেনসিডিল, হেরোইন, গাঁজা, চোলাইমদসহ নানা ধরনের মাদকদ্রব্য অবাধে বিক্রি হয়। ভারত থেকে পাচার হয়ে আসা ফেনসিডিল, ভারতীয় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মদ, গাঁজা এবং দেশি চোলাই মদ এখানে খুবই সহজলভ্য। রামগড় ও এর আশপাশের নির্দিষ্ট কিছু স্থানে এসব নেশাজাতীয় দ্রব্য পাওয়া যায়। যদিও বিজিবি-পুলিশ বিভিন্ন সময় মাদকাসক্তদের ডেরায় হানা দিয়ে তাদের ধরছে। তবু বন্ধ নেই চোরাকারবারীদের দৌরাত্ম্য।

সূত্র জানায়, রামগড়ের মহামুনি, সোনাইপুল, দারোগাপাড়া, ফেনীরকূল, আনন্দপাড়া, আবাসিক এলাকা, পর্যটন এলাকা, জগন্নাথপাড়া, বল্টুরাম, গর্জনতলী, মাস্টারপাড়া, চৌধুরীপাড়া, তৈচালা, লালছড়ি, লামকুপাড়া, খাগড়াবিল, গার্ডপাড়া, বাংলাবাজার, বাগানবাজার, বাঘমারা, বড়বিল, চিকনছড়া, হেঁয়াকো, বালুটিলা, আমতলা, কয়লামুখ, জালিয়াপাড়া, নাকাপা প্রভৃতি এলাকায় মাদকসেবীদের দৌরাত্ম্য সবচেয়ে বেশি।

স্থানীয় কমিউনিটি পুলিশের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুল জলিল বলেন, ‘এসব এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাদকসেবীদের বেশ কয়েকবার বিতাড়িত করেছি। কিন্তু কয়েকদিন পরই তারা এলাকায় ফিরে আসে। এ জন্য দরকার স্থানীয় লোকজনের সচেতনতা।’

অনুসন্ধানে জানা যায়, রামগড় এলাকার অভিজাত পরিবারের সন্তানেরাও মাদকসেবীদের সাহচর্যে এসে মারাত্মকভাবে নেশার জগতে ঢোকে পড়ছে। পারিবারিক অশান্তির কারণে হতাশায় ভোগে শেষ পর্যন্ত তাঁরা বিপথগামী হয়ে পড়ে। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক হতাশাগ্রস্ত অভিভাবকেরা জানান, মাদকাসক্ত অবাধ্য সন্তানদের বাগে আনতে বন্ধুবান্ধব ও পারিবারের পক্ষে নানাভাবে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। কিন্তু বহু চেষ্টার পরও তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরানো যাচ্ছে না।

রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারেক মো. হান্নান বলেন, ‘পুলিশের পক্ষে একা মাদকবিরোধী অভিযানে সফলতা পাওয়া কঠিন। এ কাজে জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় লোকজনদের আন্তরিক অংশগ্রহণ খুবই জরুরি। কেননা মাদকসেবী ও পাচারের সঙ্গে স্থানীয়রা জড়িত থাকতে পারে।’ তবে এলাকায় মাদক পাচারের বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।



মন্তব্য