kalerkantho


পূজামণ্ডপে উপচেপড়া ভিড়

দুর্গোৎসব

দ্বিতীয় রাজধানী ডেস্ক   

১৯ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



পূজামণ্ডপে উপচেপড়া ভিড়

সাতকানিয়ায় পূজামণ্ডপে সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম চৌধুরী (বামে) এবং বাঁশখালীতে আওয়ামী লীগ নেতা ড. জমির উদ্দিন সিকদার। ছবি : কালের কণ্ঠ

দুর্গোৎসবের নবমীতে মণ্ডপে মণ্ডপে ভক্তদের উপচেপড়া ভিড়। পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের মণ্ডপ পরিদর্শন, মতবিনিময় ও উপহারসামগ্রী বিতরণ চলে। নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধির পাঠানো খবরে বিস্তারিত :

সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) : বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম চৌধুরী এমপি বলেছেন, ‘বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। সকল জাতি-ধর্ম-বর্ণ ও গোত্রের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ধর্মীয় উৎসব পালন করছে।’ তিনি মঙ্গলবার রাতে সাতকানিয়ার বাজালিয়া, পুরানগড়, কালিয়াইশ ও ধর্মপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে এ কথা বলেন।

পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে আরো উপস্থিত ছিলেন সাতকানিয়া পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কাঞ্চন আচার্য, কেঁওচিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মাস্টার মোহাম্মদ ইদ্রিচ, উত্তর সাতকানিয়া যুবলীগের সভাপতি আ স ম ইদ্রিচ, সাধারণ সম্পাদক ওচমান আলী, কালিয়াইশ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাকিম আলী, সাধারণ সম্পাদক মাস্টার মো. মহিউদ্দিন, কেঁওচিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রিপন দাশ সুজন, ধর্মপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান, বাজালিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ চৌধুরী, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি মোহাম্মদ আলী, আবুল কালাম, সাতকানিয়া পূজা উদযাপন পরিষদের সহসভাপতি দোলন কান্তি দাশ, রঞ্জন আচার্য, প্রকৌশলী লিখন কান্তি দাশ, ছোটন চক্রবর্তী, শম্পা দেবী, অমল কান্তি দাশ, কিশোর কুমার দাশ ও ছাত্রলীগ নেতা মোহাম্মদ এমরান।

উল্লেখ্য, নজরুল ইসলাম চৌধুরী এমপি সাতকানিয়ার কালিয়াইশ, কেঁওচিয়া, ধর্মপুর, বাজালিয়া ও পুরানগড়ের প্রত্যেক পূজামণ্ডপে গরিব অসহায়দের মাঝে বস্ত্র বিতরণ করেন।

বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) : পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করছেন আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির সহ-প্রচার সম্পাদক ড. জমির উদ্দিন সিকদার। এ সময় তিনি বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের সাথে মতবিনিময় করেন এবং নগদ অর্থ প্রদান করেন। পাশাপাশি আসন্ন নির্বাচনে বাঁশখালী আসন থেকে নৌকা মার্কায় মনোনয়ন প্রত্যাশী বলেও প্রচার চালান। ওই সময় তাঁর সাথে ছিলেন বাঁশখালী হামেদিয়া মাদরাসার অধ্যক্ষ মওলানা জমির উদ্দিন নেছারী, আওয়ামী লীগ নেতা আবু তালেব, তরুণ শিল্পপতি কৈলাশ দাশ, বাঁশখালী প্রাইমারি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অশোক দাশ, ডা. অসিত দাশ প্রমুখ।

চকরিয়া (কক্সবাজার) : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার পেয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত চকরিয়ার হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষেরা। উপহার নিতে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে উপচে পড়া ভিড় ছিল উপজেলা পরিষদ চত্বরে।

অনুষ্ঠানে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাফর আলম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শুভেচ্ছা উপহার বিতরণ উদ্বোধন করেন। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নূরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান। উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) খোন্দকার মো. ইখতিয়ার উদ্দীন আরাফাত, থানার ওসি মো. বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সভাপতি তপন কান্তি দাশসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং বিভিন্ন সংগঠনের দায়িত্বশীলরা।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নূরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান কালের কণ্ঠকে জানান, ‘চকরিয়া উপজেলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের ৩২১৬ এবং বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ৫১৭ পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে প্রতি পরিবারকে নগদ ৩০০০ টাকা করে দেওয়া হয়েছে।’

চকরিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জাফর আলম বলেন, ‘শুধু মুসলিম সম্প্রদায় নয় এবার প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের লোকজন পেয়েছেন ১ কোটি ১১ লক্ষ ৯৯ হাজার টাকা। শেখ হাসিনা আজ প্রধানমন্ত্রী আছেন বলেই এসব সম্ভব হচ্ছে। এ জন্য আগামীতেও শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’ জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, জেলার ৮ উপজেলার হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ১৬৬৭০ পরিবারের মাঝে ৩০০০ টাকা করে সর্বমোট ৫ কোটি ১০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়।

সন্দ্বীপ (চট্টগ্রাম) : সংসদ সদস্য মাহফুজুর রহমান মিতা বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় থাকে তখন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নিরাপদে থাকেন। আর বিএনপি যখন ক্ষমতায় আসে তখন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নানা নির্যাতন চলে। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর সন্দ্বীপে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর নগ্ন হামলা চালানো হয়েছিল। তখন অনেক হিন্দু পরিবারসহ আওয়ামী লীগের তিন হাজার নেতাকর্মীকে সন্দ্বীপ ছেড়ে পালাতে হয়েছিল।’ তিনি বুধবার রাতে সন্দ্বীপের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের সময় এ কথা বলেন। এ সময় তিনি কালাপানিয়া শ্রীশ্রী শ্যামা মায়ের মন্দির, যুগল মন্দির, হরিগুরু চাঁদ ঠাকুর, চেউরিয়া রাধামন্দির, পৌরসভার জগন্নাথ দেবালয়, আখড়াবাড়ি কালীমন্দির, রহমতপুর লোকনাথমন্দির ও আনন্দময়ী কালীমন্দির পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে ইঊএনও নুরুল হুদা, ভাইস চেয়ারম্যান মাইন উদ্দিন মিশন, থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শাহজাহান, চেয়ারম্যান আবুল খায়ের নাদিম, আওয়ামী লীগ নেতা আলাউদ্দিন বেদন, মশিউর রহমান বেলাল, আবু তাহের ও পূজা পরিষদের নেতারা তাঁর সঙ্গে ছিলেন।

 



মন্তব্য