kalerkantho


নাফ নদের তীরে স্কুল দপ্তরির গলাকাটা লাশ

হাটহাজারীতে ধর্ষণের পর কিশোরী হত্যা

কোম্পানীগঞ্জে নিখোঁজ ব্যক্তির লাশ পুকুরে

নোয়াখালী, হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) ও টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি   

১৯ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



হাটহাজারীতে ধর্ষণের পর কিশোরী হত্যা

হাটহাজারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের খিল্লাপাড়া তুফানের বাড়ি এলাকা থেকে নিখোঁজের চার দিন পর কলি আক্তার (১৬) নামে এক কিশোরীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ইউনিয়নের ছনখোলা নামক এলাকার ইটভাটা সংলগ্ন শৌচাগারের ট্যাঙ্ক থেকে বুধবার সন্ধ্যায় পুলিশ তাঁর গলিত লাশ উদ্ধার করে। শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে সে নিখোঁজ হয়। অনেক খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে কিশোরীর বাবা মঙ্গলবার হাটহাজারী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

লাশ উদ্ধারের পর বুধবার রাতে হত্যা মামলা করেন কিশোরীর বাবা। এর পর পুলিশ এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নজরুল ওরফে মিঠু (৩০) নামে স্থানীয় নোয়াপাড়া সন্দ্বীপ কলোনির এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। তিনি তিন সন্তানের জনক। বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে খুনের দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে নজরুল ওরফে মিঠু বলেন, ধর্ষণের পর  শ্বাসরোধ করে তিনি খুন করেছেন ওই কিশোরিকে।

থানা ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মির্জাপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের তুফানের বাড়ির দরিদ্র চুট্টু মিয়ার কন্যা কলি আক্তার (১৬) গত শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বাড়ির নিকটবর্তী খালার বাড়ি থেকে নিজ ঘরে ফেরার পথে নিখোঁজ হয়।

থানা সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম জুডিশিয়াল আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট বেগম সুস্মিতা আহমেদের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন নজরুল ওরফে মিঠু। আদালতে তিনি বলেন, ‘পূর্ব পরিচয়ের জের ধরে নিহত কলিকে ফুসলিয়ে ঘটনাস্থলে নিয়ে ধর্ষণ করি। এ সময় কলি চিৎকার দিলে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করে নিকটবর্তী শৌচাগারের ট্যাঙ্কে লাশ গুম করি।’

নিহত কিশোরির মা বাছু আকতার বলেন, ‘তিন সন্তানের জনক বখাটে মিঠু প্রায় এক বছর আগে কলিকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। আমরা না বলায় বখাটে মিঠু ক্ষুব্ধ হয়ে মেয়েকে বিভিন্ন সময়ে উত্ত্যক্ত করে আসছিল।’ তিনি মেয়ের ধর্ষক ও খুনির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। 

হাটহাজারী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শামীম শেখ জানান, খুনের দায় স্বীকার করে আসামি নজরুল ওরফে মিঠু আদালতে বৃহস্পতিবার ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

টেকনাফ : উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নে নিখোঁজ এক স্কুল দপ্তরির গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় হোয়াইক্যং ইউনিয়নের উনছিপ্রাং খালের স্লুচগেট এলাকা থেকে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত ব্যক্তি হোয়াইক্যং আলী আছিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের দপ্তরি এবং একই ইউনিয়নের দৈংগাকাটা গ্রামের জাফর আলমের ছেলে আব্দুর রশিদ (৪০) বলে নিশ্চিত করেছে তাঁর পরিবার।

হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (আইসি) সুব্রত রায় বলেন, ‘স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে খবর পেয়ে নাফ নদের তীরে বস্তাবন্দী অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করা হয়। তবে লাশের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।’

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লাশের শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখে ধারণা করা হচ্ছে তাঁকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। এ ছাড়া তাঁর দুই পায়ের গোড়ালিতেও কাটার চিহ্ন রয়েছে।

পরিবারের দাবি, গত ১৪ অক্টোবর রাত থেকে রশিদ নিখোঁজ হন। তাঁর নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় জানানো হয়েছিল। এর পর আত্মীয়স্বজন ও পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় রশিদের খোঁজ নেন। কিন্তু তাঁরা রশিদকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করতে ব্যর্থ হন।

হোয়াইক্যং আলী আছিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোস্তাফা কামাল চৌধুরী মুসা বলেন, ‘রশিদ আমার প্রতিষ্ঠানে ২২ বছর ধরে সততার সাথে দপ্তরি পদে চাকরি করে আসছিল। কখনো তাকে ঝামেলায় জড়াতে দেখিনি। ব্যক্তি হিসেবে সে খুব ভালো ছিল।’

টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রণজিত কুমার বড়ুয়া বলেন, ‘একজন স্কুল দপ্তরি নিখোঁজের বিষয়টি অবহিত হওয়ার পর পুলিশের একাধিক দল তাঁকে উদ্ধারে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ নেয়। কিন্তু তাঁর ব্যবহৃত ফোনটিও বন্ধ থাকায় কোনো উৎস থেকে তাঁর হদিস পাওয়া যাচ্ছিল না। পুলিশের অভিযান চলা অবস্থায় বৃহস্পতিবার তাঁর লাশ উদ্ধার হয়।’

নোয়াখালী : নিখোঁজের তিনদিন পর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট পৌরসভা এলাকা থেকে বাহার উদ্দিন (৫৫) নামে এক ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে ৪ নম্বর ওয়ার্ডের শওকত মিয়ার নতুন বাড়ির পুকুর থেকে ভাসমান লাশটি উদ্ধার করা হয়। নিহত বাহার ওই বাড়ির মৃত হাবিব উল্যাহর ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে শওকত মিয়ার নতুন বাড়ির পুকুরে একটি লাশ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয় লোকজন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের লাশ উদ্ধার করে।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘নিহত বাহার উদ্দিন গত তিনদিন ধরে নিখোঁজ ছিল এবং তাঁর মানসিক সমস্যা ছিল বলে জানিয়েছে তাঁর পরিবার। প্রায় সময় তিনি বাড়ির বাইরে থাকতেন। তিনি মাদকাসক্ত ছিলেন বলেও তাঁর পরিবার নিশ্চিত করেছে।’

ওসি জানান, নিহতের শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে নেশাগ্রস্ত হয়ে পুকুরে পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।



মন্তব্য