kalerkantho


পেকুয়ায় ঘরের দেয়াল ধস

ঘুমন্ত দুই শিশুকে হারিয়ে নির্বাক মা

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি   

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



রাতে খাওয়া-দাওয়া শেষে কোলের দুই শিশুকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন মা। এর কিছুক্ষণ পর ইটের গাঁথুনির দেয়াল ধসে পড়ে ঘুমন্ত দুই শিশুসহ মায়ের ওপর। এতে ঘটনাস্থলেই তিন বছরের শিশু শের আলী নিহত হয়। গুরুতর আহত হয় দুই বছরের শিশু ইয়াছিন আলী ও মা আলমাস খাতুন (৩৪)। এর মধ্যে শিশু ইয়াছিনকে মুমূর্ষু অবস্থায় প্রথমে একটি প্রাইভেট হাসপাতাল, পরে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যায় সে। মা আলমাস খাতুন প্রাথমিক চিকিত্সা নিয়ে বাড়িতে ফিরেছেন। কিন্তু কোলের দুই সন্তানকে হারিয়ে এখন পাগলপ্রায় তিনি। তাঁর কান্নায় এলাকার পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠেছে। গত সোমবার রাত ৯টার দিকে মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া ইউনিয়নের কাদিমাকাটা গ্রামে। নিহত শিশুরা ওই গ্রামের শ্রমিক পুতন আলীর ছেলে।

বারবাকিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মাওলানা বদিউল আলম জিহাদী কালের কণ্ঠকে জানান, ইউনিয়নের কাদিমাকাটা গ্রামের দিনমজুর পুতন আলী পেশায় একজন শ্রমিক। এ কারণে তিনি বাড়ির বাইরে ছিলেন সোমবার রাতে। স্বামী বাড়িতে না থাকলেও খাওয়া-দাওয়া শেষে স্ত্রী আলমাস খাতুন কোলের দুই শিশুকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত ৯টার দিকে হঠাৎ সেমিপাকা ঘরের দেয়াল ধসে পড়ে ঘুমন্ত দুই শিশু ও মায়ের ওপর। এতে ঘটনাস্থলে তিন বছরের শিশু শের আলী নিহত হয়। অপর শিশু দুই বছরের ইয়াছিন আলী এবং মা আলমাস খাতুন গুরুতর আহত হলে উদ্ধার করে পেকুয়া সদরের একটি প্রাইভেট হাসপাতালে নেওয়া হয়। আশঙ্কাজনক হওয়ায় শিশু ইয়াছিনকে পাঠানো হয় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। কিন্তু পথিমধ্যে মারা যায় শিশু ইয়াছিনও।

পেকুয়া থানার ওসি মো. জহিরুল ইসলাম খান জানান, খবর পাওয়ার পর পরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং স্থানীয়দের সহায়তায় হতাহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে এবং লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার পর দুই শিশুর দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।

পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মাহবুব-উল করিম বলেন, ‘যে বাড়িতে মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা ঘটেছে তা ছিল একটি সেমিপাকা ঘর। কিন্তু সেই ঘরের দেয়ালগুলো একেবারে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছিল। এর পরও ঝুঁকি মাথায় নিয়ে সেই ঘরে বসবাস করতে গিয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।’

ইউএনও বলেন, ‘দুই শিশু মারা যাওয়া এবং দেয়াল ধসে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যথাসাধ্য সহায়তা করা হবে। এ জন্য স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এ সংক্রান্ত কাগজপত্র আমার দপ্তরে জমা দিতে।’

স্থানীয় শোকাহত লোকজন জানান, ইটের দেয়াল চাপায় একসঙ্গে দুই শিশুর মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কোলের দুই শিশুকে হারিয়ে নির্বাক মা। দিনমজুর শ্রমিক বাবা পুতন আলীও ভেঙে পড়েছেন একসঙ্গে দুই সন্তানকে হারিয়ে।

 

 

 



মন্তব্য