kalerkantho


পানছড়ি বাজারে যেতে বাধা

অভিযোগের তীর ইউপিডিএফের দিকে

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি   

২১ মে, ২০১৮ ০০:০০



এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিবদমান দুটি পাহাড়ি আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের বিরোধের জের ধরে পানছড়িতে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। রবিবার সাপ্তাহিক হাটবার হলেও অধিকাংশ পাহাড়িকে বাজারে দেখা যায়নি।

ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন, ইউপিডিএফের বাধার কারণে সাধারণ পাহাড়িরা বাজারে আসতে পারেননি। খাগড়াছড়ি-পানছড়ি সড়কে যানবাহনও চলাচল করেনি। আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলগুলোর বিরোধে সাধারণ পাহাড়ি-বাঙালিরাও দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

অবশ্য ইউপিডিএফ বলছে, দুর্বৃত্তদেরকে বাজারে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার প্রতিবাদ জানাতে জনগণই সচেতনভাবে বাজার বয়কট করেছে। এর সঙ্গে ইউপিডিএফের সংশ্লিষ্টতা নেই।

উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, পরিস্থিতি উত্তরণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েকদিন ধরে এমএন লারমাপন্থী পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী পানছড়ি বাজারের ‘শুকতারা বোডির্ং’-এ অবস্থান নিয়েছেন। এ ঘটনায় ইউপিডিএফের (প্রসিত খীসা) লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। এরই মধ্যে ইউপিডিএফের পক্ষ থেকে বোর্ডিং থেকে তাঁদেরকে বের করে দেওয়ার জন্য ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ দেওয়া হচ্ছিল। এর পরও ওই নেতাকর্মীরা বোর্ডিংয়ে থাকায় ইউপিডিএফ পানছড়ি বাজার বর্জনের হুমকি দেয়। এ ঘটনার জের ধরে রবিবার সাপ্তাহিক হাটবার হলেও অধিকাংশ পাহাড়িকে বাজারে আসতে দেওয়া হয়নি। খাগড়াছড়ি-পানছড়ি সড়কে যানবাহন চলাচলের চেষ্টা করলেও ইউপিডিএফ বাধা দেয়। এতে সাধারণ পাহাড়ি-বাঙালিরা চরম দুর্ভোগের শিকার হন।

শুকতারা বোর্ডিংয়ের ম্যানেজার অমল কান্তি নাথ বলেন, ‘একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে বোর্ডিংয়ে লোকজন রাখার ওপর সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়। তাঁদের বলেছি, এটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এখানে যেকোনো দলমতের লোক থাকতে পারে।’

পানছড়ি বাজার উন্নয়ন কমিটির সহসভাপতি তপন বৈদ্য বলেন, ‘ইউপিডিএফের লোকজন ফোন দিয়ে জনসংহতি সমিতির লোকজনকে বাজার থেকে বের করে দেওয়ার জন্য বলেছেন। অন্যথায় যেকোনো ঘটনার জন্য তাঁরা দায়ী থাকবেন না বলে সতর্ক করে দিয়েছেন। সে কারণেই ইউপিডিএফ বাজার বর্জন করে থাকতে পারে।’

পানছড়ি বাজারে অবস্থানকারী কয়েকজন পাহাড়ি অভিযোগ করেছেন, অস্ত্রধারী ইউপিডিএফ সদস্যদের ভয়ে সাধারণ পাহাড়িরাও জিম্মি। বিক্রম ত্রিপুরা, রূপম চাকমা ও দীপংকর চাকমা বলেন, ওদের গুম, খুন ও চাঁদাবাজিতে আমরা অতীষ্ঠ। অনেকে ঘরবাড়িতে থাকতে পারছেন না। ওদের ভয়ে সাধারণ পাহাড়িরা বাজারেও আসতে পারছেন না।

বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মো. নিজাম উদ্দিন ও মো. পিয়ার প্রশ্ন তুলে বলেন, কী ইউপিডিএফ, কী জনসংহতি সমিতি; প্রত্যেক দলই চাঁদাবাজি করে। এবার পানছড়ি বাজারেও কি তাদের জন্য থাকতে পারব না?

পানছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবুল হাসেম বলেন, ‘বাজার বয়কট একটি গর্হিত কাজ। এতে খেটে খাওয়া কৃষক ও প্রান্তিক চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। এই পরিস্থিতি উত্তরণের চেষ্টা চলছে। সহসাই সমস্যা সমাধান হবে বলে আশা করছি।’

এদিকে বাজারের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রবিবার বিকেলে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সেনাবাহিনীর পানছড়ি সাব জোন কমান্ডার মেজর সোহেল আলম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল হাসেম, ওসি মো. মিজানুর রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বাহার মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক জয়নাথ দেব, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নাজির হোসেন, বাজার উন্নয়ন কমিটির সভাপতি হেদায়েত আলী তালুকদার ও সেক্রেটারি আবুল কাসেম উপস্থিত ছিলেন। সভায় হাটবারে বাজারে উপস্থিতি কম হওয়াসহ বিরাজমান অবস্থা সম্পর্কে আলোচনা হয়। এ সময় বাজার ব্যবসায়ীরা দ্রুত সংকটের উত্তরণ চাইলে প্রশাসনের কর্মকর্তারা সমাধানের আশ্বাস দেন।

ইউপিডিএফ খাগড়াছড়ি জেলা সংগঠক মাইকেল চাকমা বলেন, ‘ইউপিডিএফের কথায় যদি সব অচল হয়ে যেত, তাহলে ভালোই হত। বাজার বয়কট ও সড়কে যান চলাচল বন্ধ হওয়ার সাথে ইউপিডিএফের সংশ্লিষ্টতা নেই। মূলত পানছড়ি বাজারে কিছু দুর্বৃত্ত আশ্রয়-প্রশ্রয় নেওয়ায় জনগণই সচেতনভাবে বাজার বয়কট করেছে।’

উল্লেখ্য, অতিসাম্প্রতিক সময়ে পাহাড়ে আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিরোধ চলছে। এর জের ধরে প্রতিপক্ষের হামলায় জনসংহতি সমিতি (এমএন লারমা), প্রসিত খীসার নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফ ও সদ্য গঠিত ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) দলের বেশ কয়েকজন নিহত হন।

 


মন্তব্য