kalerkantho


মিরসরাইয়ে বন্দর নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে চুক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

৪ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



মিরসরাইয়ে হচ্ছে দেশের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক অঞ্চল। এ প্রকল্প ঘিরে একটি বন্দর নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। যেখানে চট্টগ্রাম বন্দরের মতো ১০ মিটার গভীরতার জাহাজ ভিড়তে পারবে।

প্রকল্পটি নির্মাণে কারিগরি ও আর্থিক সম্ভাব্যতা যাচাই করতে সাড়ে ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ডেনমার্কের একটি কম্পানির সঙ্গে বুধবার বন্দর ভবনে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। প্রতিষ্ঠানটি আগামী ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন তৈরি করে বন্দরের কাছে জমা দেবে। এরপরই পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে।

চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম খালেদ ইকবাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মিরসরাইয়ে নির্মিতব্য দেশের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক অঞ্চলের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রকল্প। প্রতিষ্ঠানটি বর্ষামৌসুমসহ আগামী ছয় মাসের মধ্যে এই প্রকল্পের কারিগরি ও আর্থিক সম্ভাব্যতা যাচাই করবে এবং ধারণাগত মাস্টারপ্ল্যান দেবে। একইসঙ্গে আমাদের সামর্থ্যের মধ্যে বাস্তবায়ন সম্ভব কিনা সেই প্রস্তাবও দেবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এই প্রকল্প থেকে অবশ্যই আমরা ইতিবাচক কিছু আশা করছি। আমরা চাই স্টাডি রিপোর্টে সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ বিষয় ওঠে আসুক।’ 

জানা গেছে, সরকার দেশের অর্থনীতিতে গতি আনতে এবং পরিকল্পিত শিল্পায়নের জন্য পুরো দেশে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক জোন গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে। ইতোমধ্যে ৫৫টি সরকারি উদ্যোগে এবং ১১টি বেসরকারি শিল্প উদ্যোক্তাদের অনুমোদন দিয়েছে। অনুমোদিত প্রকল্পের মধ্যে দেশের সবচেয়ে বড় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল হচ্ছে মিরসরাইয়ে। যেখানে একসঙ্গে ২৫টি শিল্প অঞ্চল হবে। প্রথমধাপে ৫৫০ একর জমি চূড়ান্ত হয়েছে, যেখানে এক লাখ লোকের কর্মসংস্থান হবে। দ্বিতীয় ধাপে ১৩শ একর জমি চূড়ান্ত করা হবে, যেখানে বিনিয়োগ হবে কমপক্ষে ৫ লাখ লোক। ধাপে ধাপে ৩০ হাজার জায়গা জুড়ে শিল্প অঞ্চলটি বাস্তবায়িত হলে অন্ততঃ ২০ লাখ লোকের কর্মসংস্থান হবে। ফলে এ অঞ্চল থেকেই বছরে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য বিদেশে রপ্তানির আশা করছে বাংলাদেশ ইকোনোমিক জোন অথরিটি বা বেজা কর্তৃপক্ষ।

প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে দেড় বছর আগে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘিরে একটি বন্দর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার। এরপর চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এর প্রাথমিক সম্ভাব্যতা যাচাই করে এবং বন্দর চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয় প্রকল্প স্থান। এরপর প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। দেশি-বিদেশি ২৯ প্রতিষ্ঠান এতে অংশ নেয়। এর মধ্যে র‌্যাম্বল ডেনমার্ক এএস, বাংলাদেশের ডেভলপমেন্ট ডিজাইন কনসালটেন্ট এবং জাপানের প্যাডেকু কম্পানি যৌথভাবে এই প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য নির্বাচিত হয়। গতকাল বুধবার বন্দর ভবনে তাদের সাথে চুক্তি হয়। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে র‌্যাম্বল ডেনমার্ক এএস পক্ষে জেনস চের হেলবেক হেডে স্বাক্ষর করেন ও বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বন্দর বোর্ড সদস্য, সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


মন্তব্য