kalerkantho


ভূমি মন্ত্রণালয়ে সাঁট মুদ্রাক্ষরিক পদে নিয়োগ

১৩ বছরেও পরীক্ষার জন্য ডাকা হয়নি

মোশতাক আহমদ    

১৯ আগস্ট, ২০১৭ ১০:০৩



১৩ বছরেও পরীক্ষার জন্য ডাকা হয়নি

নরসিংদী জেলার মোনহরদী উপজেলার শাহীনা নাছরিন ভূমি মন্ত্রণালয়ে সাঁট মুদ্রাক্ষরিক পদে নিয়োগ পেতে আবেদন করেছিলেন ২০০৪ সালের ১৫ এপ্রিল। সে সময় শাহীনার বয়স ছিল ২৭ বছর ৩ মাস ১৮ দিন। ২০০৮ সালে তাঁর সরকারি চাকরিতে আবেদন করার বয়সসীমা শেষ হয়ে গেছে। সাঁট মুদ্রাক্ষরিক ছাড়াও অফিস সহকারী, কম্পিউটার অপারেটর, সহকারী হিসাবরক্ষক, অফিস সহকারী কাম মুদ্রাক্ষরিক ও এমএলএসএসসহ বিভিন্ন পদে নিয়োগের জন্য ২০০৪ সালের ৮ এপ্রিল একটি জাতীয় পত্রিকায় ওই বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিল ভূমি মন্ত্রণালয়। কিন্তু ১৩ বছর পরেও নিয়োগ পরীক্ষা দিতে ডাক পাননি শাহীনা নাছরিনসহ সাড়ে সাত হাজার আবেদনকারী। অথচ ভূমি মন্ত্রণালয় এর পরে কয়েক দফায় জনবল নিয়োগ দিয়েছে। এ অবস্থায় ২০০৪ সালের আবেদনকারীরা মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে এখন উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন সুবিচার পাওয়ার আশায়।

ওই আবেদনকারীদের মধ্যে আরো আছেন শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার মাছুয়াখালী গ্রামের মাহবুব আলম, মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার রজরুসার গ্রামের বিল্লাল হোসেন, পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুবিদখালীর মো. সহিদুজ্জামান, বরগুনার আমতলী উপজেলার দক্ষিণ রাওয়া গ্রামের মো. আতিকুর রহমান সুজন।

আতিকুর রহমান সুজন জানান, তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স পাস করেছেন। ২০০৪ সালে তিনি ভূমি মন্ত্রণালয়ে চাকরির জন্য আবেদন করেছিলেন। কিন্তু ১৩ বছরেও তাঁকে পরীক্ষার জন্য ডাকা হয়নি।

অথচ ২০১৪ সালে আরেকটি নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেয় মন্ত্রণালয়। নতুন বিজ্ঞপ্তির আবেদনকারীদের দ্রুততার সঙ্গে নিয়োগ দেওয়ার জন্য গত মার্চ মাসে লিখিত পরীক্ষাও নেওয়া হয়। কিন্তু ২০০৪ সালের আবেদনকারীরা উপেক্ষিত রয়েছেন।

ভুক্তভোগী ওই আবেদনকারীদের অভিযোগ, মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের একটি চক্র তাঁদের কাছে অসাধু উপায়ে কিছু আবদার করেছিল। তাঁরা তা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় বারবার নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হলেও তাঁদের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, একজন যুগ্ম সচিব এই মন্ত্রণালয়ে ৮ থেকে ৯ বছর ধরে কাজ করছেন। বিভিন্ন শাখায় অবস্থান করে একটি চক্র তৈরি করেছেন তিনি। তাঁর নেতৃত্বাধীন চক্রটিই অনিয়মের মাধ্যমে শিক্ষিত বেকার তরুণদের বঞ্চিত করছে। নতুন নিয়োগের জন্য মৌখিক ও কম্পিউটার পরীক্ষা অনুষ্ঠানের সময়সূচি রয়েছে গতকাল শুক্রবার ও আজ শনিবার। ২০০৪ সালের বঞ্চিতরা এই নিয়োগ বন্ধ করার জন্য উচ্চ আদালতে একটি রিট আবেদন (নং ১১৬৯৯/২০১৭) দায়ের করেছেন। আগামীকাল রবিবার এর তারিখ নির্ধারিত আছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব মুজিবুর রহমান হাওলাদার কালের কণ্ঠকে বলেন, এটা তাঁর জানা ছিল না। এ জন্য তিনি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চান। কিন্তু তাঁরা সেভাবে সচিবকে জানাতে পারেননি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, ২০১৪ সালে যে নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে তার পেছনে কোটি টাকার ঘুষ দুর্নীতি হয়েছে। এর ফলে আগের আবেদনকারীদের বঞ্চিত করে নতুনদের তড়িঘড়ি করে নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ওই কর্মকর্তা আরো জানান, মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিব ও একজন উপসচিবের নেতৃত্বে একটি চক্র নতুন নিয়োগের জন্য মোটা অঙ্কের টাকা ঘুষ নিয়েছে। তাই তারা ২০০৪ সালের নিয়োগ নিয়ে কোনো প্রক্রিয়া করতে চাইছেন না।

জানতে চাইলে ভূমি মন্ত্রণালয়ের কর্মচারী নিয়োগ কমিটির সভাপতি যুগ্ম সচিব মুজিবুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, তিনি ৮ থেকে ৯ বছর যাবৎ ভূমি মন্ত্রণালয়ে চাকরি করছেন ঠিকই, কিন্তু কোনো অনিয়ম দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নন। ২০০৪ সালের আবেদনের বিষয়ে তিনি কিছু্ জানেন না বলে দাবি করেন।



মন্তব্য