kalerkantho


পুলিশ কন্ট্রোল রুমে যোগাযোগ

সিএনজির গায়ে এখনো বন্ধ সিটিসেল নম্বর!

ওমর ফারুক    

৫ আগস্ট, ২০১৭ ০৯:৫৩



সিএনজির গায়ে এখনো বন্ধ সিটিসেল নম্বর!

বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা। যাত্রাবাড়ী বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে আছেন আবু হানিফ নামে এক ব্যক্তি। তিনি একের পর এক সিএনজি অটোরিকশা ডাকছেন মগবাজার যাওয়ার জন্য। কিন্তু কোনো সিএনজি অটোরিকশা যেতে রাজি হচ্ছে না। ক্ষোভে ফুঁসতে থাকেন তিনি। একপর্যায়ে অভিযোগ করার জন্য একটি সিএনজি অটোরিকশার পেছনে থাকা পুলিশ কন্ট্রোল রুমের নম্বর ০১১৯৯৮০৬১১১, ২২২, ৮৮৮ একটি কাগজে লিখে নেন।

এরপর তিনি নিজের মোবাইল নম্বর থেকে প্রথমে ফোন করেন ১১১ নম্বরে। সেই নম্বরটি ফোনকলের শব্দ পাননি। না পেয়ে আবারও ২২২ নম্বরের কল করেন।   সে নম্বরও একই অবস্থা। সর্বশেষ ৮৮৮ নম্বরটিতে ফোন করেন।

সে নম্বরেরও একই অবস্থা। এবার বিরক্ত হয়ে আর ফোন করেননি। অবশেষে তাঁর মনে পড়ে অনেক আগেই তো সিটিসেল নম্বর বন্ধ হয়ে গেছে। এ রকম অনেকেই বিপদে পড়ে পুলিশের সহযোগিতা চাইতে গিয়ে সিটিসেল নম্বরে ফোন করে হয়রানি হন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পুলিশ কন্ট্রোল রুমের সিটিসেল নম্বরের পরিবর্তে গ্রামীণ ফোনের নম্বর যুক্ত করা হয়েছে। তবে সেই নম্বর অল্পসংখ্যক অটোরিকশায় লাগানোর কারণে সাধারণের চোখে পড়ছে না। শিগগিরই নতুন করে আরো ১৫ হাজার নম্বর সিএনজি অটোরিকশায় লাগানোর জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এই নম্বর কে লাগায় তা জানতে চাইলে সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিক নেতারা জানান, পুলিশের এই নম্বরগুলো কোনো কম্পানির তরফ থেকে বিজ্ঞাপন হিসেবে লাগানো হয়ে থাকে। অন্যদিকে রেডিও স্পাইস নামের একটি রেডিওর সঙ্গে চুক্তি করেছে পুলিশ। ওই রেডিওতে রাজধানীর কোথায় কোথায় যানজট রয়েছে তা নিয়মিত প্রচার করা হবে বলে জানা গেছে। শিগগিরই এ কার্যক্রম শুরু হবে বলে এক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

জানতে চাইলে পুলিশ কন্ট্রোল রুমের ট্রাফিকের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. জাহিদুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, 'সিটিসেল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরপরই গ্রামীণের নম্বর দেওয়া হয়েছে। নতুন দেওয়া নম্বরগুলোতে প্রতিদিন অসংখ্য লোক ফোন করে। অভিযোগের গুরুত্ব বুঝে আমরা ব্যবস্থা নিয়ে থাকি।'

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'এমন অভিযোগও আসে যে সিএনজি অটোরিকশা আছে চালক নেই। পুলিশকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।'

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীতে চলাচলকারী সিএনজি অটোরিকশার পেছনে পুলিশ কন্ট্রোল রুমের সংক্ষিপ্ত নাম পিসিআর লিখে মোবাইল নম্বর দিয়ে রাখা হয়েছে। তাতে ফোন করে সাধারণ মানুষ সেবা পাওয়ার কথা। অথচ গত বছর অক্টোবরে সিটিসেল বন্ধ হওয়ার পর ৯ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো পুলিশ কন্ট্রোল রুমের নম্বর বেশির ভাগ সিএনজি অটোরিকশার পেছনে রয়েছে সেই নম্বরগুলোই। যে কারণে হঠাৎ কেউ সমস্যায় পড়লে পুলিশের সহযোগিতা পেতে গিয়ে পড়তে হচ্ছে সমস্যায়।

রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ঘুরে দেখা গেছে, সিটিসেলের পুরনো নম্বরের পাশাপাশি সিএনজি অটোরিকশার পেছনে শোভা পাচ্ছে পুলিশ কন্ট্রোল রুমে ০১৭০৭৮০৬১১১/০১৭০৭৮০৬২২২/০১৭০৭৮০৬৮৮৮ এই নম্বরগুলো। গত বৃহস্পতিবার এই নম্বরগুলোতে ফোন করা হলে তাত্ক্ষণিকভাবেই ধরতে দেখা গেছে। ফোন ধরেই পুলিশ সদস্যরা জানতে চান সমস্যার কথা।

পরিচয় দিয়ে কথা বললে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্য মো. বাবুল হোসেন কালের কণ্ঠ’কে বলেন, 'আমাদের এখানে বিভিন্ন সমস্যার বিষয় জানাতে ফোন করেন সাধারণ মানুষ।' এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কোথাও কোন অ্যাক্সিডেন্ট হলে ফোন করে জানায়, রাস্তায় পানি উঠলেও ফোন করে জানায়। ’

তার ভাষ্যমতে, সবচেয়ে বেশি অভিযোগ আসে সিএনজি অটোরিকশার চালকদের বিরুদ্ধে। তারা যাত্রীদের নিয়ে যেতে চান না বা যাত্রীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন অথবা মিটারে না গিয়ে অধিক টাকা দাবি করেন ইত্যাদি অভিযোগ আসে। অভিযোগ আসার পর কন্ট্রোল রুম থেকে ওয়্যারলেসের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এলাকায় দায়িত্ব পালনকারী সার্জেন্টকে বিষয়টি জানানো হয়। সার্জেন্ট গিয়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।'



মন্তব্য