kalerkantho


চাকরি ভোলায়, থাকেন ঢাকায়

রাশেদ হোসেন রুবেল, ভোলা   

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



ভোলা সদর হাসপাতালের তিন কনসালট্যান্ট ঢাকায় বাস করে নিয়মিত বেতন তোলেন। স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ এ নিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারছে না।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, অবেদনবিদ ডা. কামরুল ইসলাম গত দুই মাসে এক দিনও হাসপাতালে আসেননি। অস্থিবিশেষজ্ঞ কনসালট্যান্ট ফাইজুল হক ও ওষুধ বিশেষজ্ঞ কনসালট্যান্ট মো. আহসান উল্লাহ রুমি মাসে দু-এক দিন হাসপাতালে থাকেন। তাঁরা কোনো রাতের লঞ্চে ভোলায় এলেও পরের দিন আবার ফেরত চলে যান ঢাকায়। এ ক্ষেত্রে সরকারি চাকরিবিধি ও সিভিল সার্জনের নির্দেশনাকে তোয়াক্কা করছেন না।

হাসপাতাল সূত্রে আরো জানা যায়, ডা. আহসান উল্লাহ ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে ভোলায় যোগ দিয়ে বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। প্রথমে ভোলা সদরের কয়েকটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সারাক্ষণ থাকতেন। তবে সেখানে বেশি দিন অবস্থান না করে এখন ঢাকায় অবস্থান করেন। ডা. কামরুল ইসলাম একই বছরের নভেম্বরে যোগদানের পর থেকে ঢাকায় অবস্থান করছেন। ডিসেম্বর ও জানুয়ারির দিকে তিনি মাসে দু-এক দিন ভোলায় এলেও গত দুই মাসে এক দিনও হাসপাতালে আসেননি। ডা. ফাইজুল হক মাঝেমধ্যে ভোলায় থাকেন। কিন্তু হাসপাতালে আসেন না। হাসপাতালে এলেও তিনি ভালো করে রোগী না দেখে চলে যান। এর ফলে ভেঙে পড়েছে হাসপাতালের মেডিসিন ও সার্জারি বিভাগের সব সেবা।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, মেডিসিনের চিকিৎসক না থাকায় রোগীদের প্রায়ই অন্যত্র রেফার করা হয়। এ ছাড়া যেকোনো বড় দুর্ঘটনায় রোগীরা সার্জারির সেবা থেকে বঞ্চিত হন।

হাসপাতালের সংস্থাপন শাখা সূত্রে জানা যায়, গত আগস্টে তিন হাজার রোগী ভর্তি হয়ে সেবা নিয়েছে। জরুরি বিভাগ থেকে চার হাজার ৪০০ জন সেবা নিয়েছেন। এ ছাড়া পাঁচ টাকার টিকিট করে গড়ে প্রতিদিন চার শতাধিক রোগী বহির্বিভাগে সেবা নিয়ে থাকেন। ১০০ শয্যার ভোলা সদর হাসপাতালের জন্য ৫০ শয্যার জনবলের ওপর নির্ভর করে চলতে হয়। জেলার ২০ লাখ মানুষের একমাত্র আধুনিক চিকিৎসার ভরসা এ হাসপাতাল। ১০০ শয্যায় ৫৭ জন ও ৫০ শয্যার জন্য ২২ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও আছেন মাত্র ১১ জন। এর মধ্যে তিনজন নিয়মিত অনুপস্থিত। ফলে কর্মস্থলে থাকা চিকিৎসকদের হিমশিম খেতে হয়। অবেদনবিদ কামরুল ইসলামের মোবাইল ফোনো একাধিকবার কল করেও মতামত নেওয়া সম্ভব হয়নি। ফাইজুল গতকাল ভোলায় থাকলেও কল রিসিভ করেননি। রুমিকেও পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে ভোলা সিভিল সার্জন ডা. রথীন্দ্রনাথ মজুমদার জানান, কামরুল ইসলামকে দুই মাস আগে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তিনি জবাব না দেওয়ায় তাঁর বেতন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফাইজুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় রয়েছে। তিনি হাসপাতালে ভালো করে রোগী দেখেন না এবং থাকেনও না। এ জন্য তাঁকে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। তবে আহসান উল্লাহ একমাত্র মেডিসিন কনসালট্যান্ট হওয়ায় তাঁকে কিছু বলা যাচ্ছে না। নতুন একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ কনসালট্যান্ট নিয়োগ হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এভাবে একটি হাসপাতাল চলতে পারে না। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’



মন্তব্য