kalerkantho


শুভ জন্মদিন, হেলাল হাফিজ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৭ অক্টোবর, ২০১৭ ১৩:৪৭



শুভ জন্মদিন, হেলাল হাফিজ

'এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়, এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়'- বাংলাদেশের কবিতামোদী ও সাধারণ পাঠকের মুখে মুখে উচ্চারিত এই পঙক্তিটি যাঁর কলমনিঃসৃত, আজ তাঁর জন্মদিন। ১৯৪৮ সালের এই দিনে (৭ অক্টোবর) নেত্রোকোনায় জন্ম নেন বাংলাদেশের অন্যতম প্রতিভবান কবি হেলাল হাফিজ।

কালোত্তীর্ণ হওয়ার জন্য যে দিস্তে দিস্তে লেখার প্রয়োজন পড়ে না, কবি হেলাল হাফিজ তার অন্যতম উৎকৃষ্ট উদাহরণ।  

বাবা খোরশেদ আলী তালুকদার আর মা কোকিলা বেগম। ১৯৬৫ সালে নেত্রকোনা দত্ত হাই স্কুল থেকে এসএসসি এবং ১৯৬৭ সালে নেত্রকোনা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। ওই বছরই কবি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে ভর্তি হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থায় ১৯৭২ সালে তিনি তৎকালীন জাতীয় সংবাদপত্র দৈনিক পূর্বদেশে সাংবাদিকতায় যোগদান করেন। ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত তিনি ছিলেন দৈনিক পূর্বদেশের সাহিত্য সম্পাদক। ১৯৭৬ সালের শেষ দিকে তিনি দৈনিক দেশ পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদক পদে যোগদান করেন। সর্বশেষ তিনি দৈনিক যুগান্তরে কর্মরত ছিলেন।  

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের ক্র্যাকডাউনের রাতে অলৌকিকভাবে বেঁচে যান কবি হেলাল হাফিজ।

সে রাতে ফজলুল হক হলে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় পড়ে সেখানেই থেকে যান। রাতে নিজের হল ইকবাল হলে (বর্তমানে জহুরুল হক) থাকার কথা ছিল। সেখানে থাকলে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নৃশংস হত্যাযজ্ঞের শিকার হতেন। ২৭ মার্চ কারফিউ তুলে নেওয়ার পর ইকবাল হলে গিয়ে দেখেন চারদিকে ধ্বংসস্তূপ, লাশ আর লাশ। পরে নদীর ওপারে কেরানীগঞ্জের দিকে আশ্রয়ের জন্য বুড়িগঙ্গা পাড়ি দেন।

তাঁর কবিতা সংকলন 'যে জলে আগুন জ্বলে' ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত হওয়ার পর অসংখ্য সংস্করণ হয়েছে। ওই গ্রন্থটির ১২টি সংস্করণ প্রকাশিত হলেও এরপর গ্রন্থ প্রকাশের ক্ষেত্রে তার নিস্পৃহতা দেখা যায়। ২৬ বছর পর ২০১২ সালে আসে তার দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'কবিতা একাত্তর'। তাঁর অন্যতম জনপ্রিয় কবিতা 'নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়'। ২০১৩ সালে তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কারে ভূষিত হন।


মন্তব্য