kalerkantho


আলোচনায় কলকাতার ম্যাগাজিন 'কালিমাটি'

ভূত ও ঈশ্বর! কেন ভয়, কেন ভক্তি?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৪ আগস্ট, ২০১৭ ২০:১৯



ভূত ও ঈশ্বর! কেন ভয়, কেন ভক্তি?

ম্যাগাজিনের দুনিয়ায় 'কালিমাটি' একটি পরিচিত নাম। বিগত কয়েক বছর ধরে বইমেলায় কালিমাটি একটি করে সংখ্যা প্রকাশ করছে।

এবং সংখ্যাগুলি বেশ জনপ্রিয়ও হয়েছে। এবছর ২০১৭ কলকাতা বইমেলায় প্রকাশিত হল কালিমাটি-র ১০৩তম সংখ্যা, বিষয় ‘অতিপ্রাকৃত’।

কেন বিষয় 'অতিপ্রাকৃতি'? পত্রিকার সম্পাদকীয়ই উত্তর দিচ্ছে এই প্রশ্নের। সেই সম্পাদকীয়টি তুলে দেওয়া হল পাঠকদের জন্য।

'ভূত-ভবিষ্যত-বর্তমান, জীবনের এই তিনটি পর্যায়ে আমরা নিজেদের অজান্তেই সামিল হয়ে যাই। কিন্তু শক্তি অর্থাৎ শরীরের ভেতরের শক্তি এবং শরীরের বাইরের শক্তি, এই দুই বিমূর্ত অনুভবের কাছে আমরা কীভাবে সামিল হতে পারি! যেমন যতদিন পর্যন্ত ভাইরাসের অস্তিত্ব আমাদের গোচরের বাইরে ছিল, আমরা তাকে মেনে নিতে পারিনি। প্রমাণের অপেক্ষায় থেকেছি। আসলে অপ্রাকৃত বা অতিপ্রাকৃত, ইংরেজিতে যাকে ‘সুপারন্যাচারাল’ বলা হয়, এই বিষয়টি এখনও পর্যন্ত আমাদের সবার কাছেই রহস্যময় ও কুয়াশাচ্ছন্ন। আবার অতিপ্রাকৃত বলতে সাধারণত দুটি বিষয়ের ভাবনা মাথায় আসে– ভূত ও ঈশ্বর।

বিশেষত এই দুই অশরীরীকে অধিকাংশ মানুষই ভয় করেন। আর ভয় থেকেই আসে ভক্তি। আসলে আমরা সবাই ভয় পেতে ভালোবাসি।

এই ধরুন শরীরের অবয়বের বাইরে যে শরীরীবোধ আছে, যা ধরেও ঠিক ধরতে পারা যায় না। আবার যে ভয়ের প্রতি আমরা আকৃষ্ট হই, তার কূল কিনারা খুঁজে না পেলেও মন অনেক সময় তা বিশ্বাস করতে চায়। এই যেমন কোনো গোরু আকাশে উড়বে, এটা নিতান্তই অবাস্তব। কিন্তু গরু আকাশে উড়তে গেলে যা যা প্রয়োজন, তা সবই বাস্তবের অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ অভ্যাসগত ভাবে যা কিছু আমরা চাক্ষুস করি, তাই আমরা বিশ্বাস করি। কিন্তু অবিশ্বাসেরও অনেক উপাদান বাস্তব দিয়েই সৃষ্টি করা হয়।

আবার দেখুন স্টকহোমে সংরক্ষিত ডেভিল’স বাইবেল, ন্যাক্রোম্যানসি, নাইট মেয়ারস প্ল্যানচেট, উইচক্র্যাফট– এসবের তাৎপর্যই বা কী! অথবা এই অদ্ভুত জগত না থাকলেও যদি কোনও তরঙ্গদৈর্ঘ্য থাকে, তারাই বা কীভাবে শক্তি বন্টন করে! অনেকেরই বিশ্বাস আত্মা ছিল এবং আছে। কিন্তু ভূত মানে তো অতীত, আর আত্মা মানে এক্টোপ্লাজিমিয় বায়বতা! বিজ্ঞান এসব মানে না, স্বীকার করে না। কারণ এর কোনও ব্যাখ্যা নেই, প্রমাণ নেই। অথচ এই যে সব ‘সুপারন্যাচারাল’ ধারণা বা ‘কনসেপ্ট’, যা বিজ্ঞানসম্মত দৃষ্টিকোণে কখনই গ্রহণযোগ্য নয়, তা কিন্তু মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করে চলেছে মানবসভ্যতার সেই প্রাকপর্ব থেকেই। আর তাই স্বাভাবিক কারণেই মনুষ্যসৃষ্ট যে কোনও সৃজনেও তার উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। শিক্ষা, সাহিত্য, কলা, সংস্কৃতি, ধর্ম, জীবনচর্যা, প্রথা, আচার আচরণ– সর্বত্রই।

আর ঠিক এই অবস্থানে দাঁড়িয়ে ‘কালিমাটি’ পত্রিকার ১০৩তম সংখ্যায় আলোচনার জন্য আমরা বেছে নিয়েছি ‘অতিপ্রাকৃত’ বিষয়টিকে।

সূত্র : এই সময়


মন্তব্য