kalerkantho


মারলিন ক্লারার কয়েকটি কবিতা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১০ জুন, ২০১৭ ০৩:০৯



মারলিন ক্লারার কয়েকটি কবিতা

মারলিন ক্লারা

ইদের খুশি রাশিরাশি

নিজের সাথে যুদ্ধ করে সারাটি মাস ধরে
সিয়াম সাধন করলো যারা কতোই যতন করে
এবার তাদের ফসল তোলার সময় এলো ভাই
এলো যে ঐ ইদুল ফিতর খুশির সীমা নাই!
ভাইবন্ধু পাড়াপড়শি সবার তরে আজ
ইদের খুশির বার্তা জানাই ভুলে সকল লাজ।
আম্মু রাঁধেন পোলাও কোরমা, দাদি চালের রুটি
ভাবীর হাতের শিককাবাব আর মাংস ভুনার জুটি!
কদুর সেমাই লাচ্ছা সেমাই সেমাই কতো রকম
ঘন দুধের পায়েস খাবো, খাবো রসকদম!
ময়মুরুব্বির দোআ নেবো, দোআ দেবো আরও
আমার চেয়ে ছোট যারা, দেবো গরীবদেরও!
ধনী গরীব নাই ভেদাভেদ আজকে আমার দ্বারে
কোন রকম দুঃখ নিয়ে কেউ যেন না ফেরে!
তুমি আমি সবাই মিলে এসো গেয়ে উঠি
আজকে বলো "ইদ মোবারক " আজকে মোদের ছুটি!

 

 

 

তোমার তবে বসত কোথায়

নারী তুমি ছোট্ট যখন, ছিলে বাপের বাড়ি
খেলার ছলে জড়িয়ে নিতে মায়ের নতুন শাড়ি!
একটু বড়, যখন তুমি ইস্কুলেতে পড়
নানারকম ভাবনা নিয়ে ভয়ে জড়সড়!
কলেজ এবং ভার্সিটিতে পড়াশোনা প্রেম
মনেহতো জীবন যেন সোনায় মোড়া ফ্রেম!
শখের রান্না, মায়াকান্না, কতকিছুর ভিড়ে
দিনগুলো তোর হারিয়ে গেলো
হরেক স্বপন কেড়ে! 
স্বপ্ন পুরণ স্বপ্ন পুরণ গেলি স্বামীর বাড়ি
স্বামী তোকে পরিয়ে দিলো
সোনায় গড়া বেড়ি!
এইটা বারণ ওইটা নিষেধ, কত ছলাকলা
আসল কথা মুখটি বন্ধ, নিষেধ কথা বলা!
ছেলে কোলে সকল ভুলে রও দাঁড়িয়ে রোজ
বড় হলে এই ছেলেটাই নেবে তোমার খোঁজ! 
চুলের ধারে রূপোর রেখা বয়স হলো কত
স্মৃতির ঝুড়ি ঢেলে বসে হিসেব মেলাও যত!
বাপের পরে স্বামীর শাসন, এখন আছে ছেলে
গুনেগেঁথে বলো দেখি আসলে কী পেলে!

 

মরুর বুকে সবুজ রেখা

কাজের মাঝে ব্যস্ত ছিলাম
সকাল থেকে সাঝ,
অনেক দিনের পরে কিছু
সময় পেলাম আজ!
ক্লান্ত আমি, তবু তোমার
ভালোবাসার টানে,
একে একে ক্লান্তি মুছি
নিবিড় রূপটানে!
ব্যাকুল হৃদে খুঁজি তোমায়
তুমি কোথা হায়,
বুকের ভেতর গুমরে ওঠে
গভীর বেদনায়!
খুদে লিপি পাঠাই তোমায়
ভালোবাসার খামে,
হয়তো সেটা পেয়েছিলে
অন্য কোন নামে!
না চিনিলে আমায় তুমি
আধেক চেনা আমি,
আমার কাছে তুমি আজও
হীরার চেয়েও দামি!
এমনি হয়তো হবার ছিলো
ভাগ্যে ছিলো লেখা,
তোমার জীবন মরুর বুকে
আমিই সবুজ রেখা!


ভুলেই যাবো, বলছি তোমায়

মনে পড়ে? বলেছিলে "কোনদিনও ভুলবো না"
মনের ঘরে তোমায় ছাড়া অন্য কারেও তুলবো না!"
কিশোরী সেই বন কুমারী ভেবেছিলো সত্যি সব
নিবিড় ভালোবেসেছিলো উজাড় করে অনুভব!
একে একে দিন চলে যায়,দিনের পিছে মাস গুলো
বাসতে ভালো ভুল করেনি,কোনদিনও এক চুলও!
কলির কেষ্ট তুমি যে সে বুঝতে কভু পারেনি
আর কারেও ধারেকাছে কখনো সে মানেনি!
যখনি সে চাইতো তোমায়, গেছ সরে ক্রমশ
পুরনো আর ভাল্লাগেনি, নতুন জনই নমস্য!
ছল করেছ ভালোবাসায় সেই মেয়েটা বুঝেনি
তাইতো আজও সেই নামটা ভুলতে সেযে পারেনি! 
আমি কিন্তু বলছি তোমায়, নইকো আমি তার মতো
আদর যেমন দিতে পারি, শাস্তিও দেই মনোমতো!
বসে বসে অশ্রু দিয়ে ধুয়ে দেবো তোমার পা
সেসব আশা জলে ভাসাও, ভুলো ওসব যাচ্ছেতা!
দেবো নেবো মতবাদে আজকে সবার আস্থা যে
এমনটাই লাগছে ভালো, ফিরে এসো বাস্তবে!
যেমন তুমি নাচিয়ে যাবে তেমনি আমি নাচবো না
আমার মতেই বাঁচবো আমি, তোমার মতে বাঁচবো না।


সোনালি ছবি

এক বিকেলের সোনায় কেনা তোমার রঙীন ছবি
ভাসিয়ে দেবো মাঝ গাঙেতে, শুনে রেখো কবি!
ভাবছ তুমি অন্ত্যমিলে নানান ছন্দে রাঙিয়ে
লুটে নেবে অনেক পুলক হৃদয়খানি ভাঙিয়ে!
কেউবা যাবে আসবে কেহ, কাজ কি বল রেখে খোঁজ
ঝিঁঝিঁর নূপুর বাজিয়ে দেখো নতুন মুখ আসবে রোজ!
এই জগতে শ্যামের বাঁশি তুমিই কেবল বাজাবে,
ভক্তরা সব তোমার তরেই নিজের তরী সাজাবে!
আমায় তুমি ভুল বুঝো না, করোনা কো সন্দেহ
আপন হাতের নিবেদনে সাজিয়ে দেবো মন-দেহ!
সকল গণিত এক নিয়মে হতো যদি সমাধান
কিসের তবে বাহবা আর কিসের তরে কে মহান!
শোনো কবি আমার মনেও এক আকাশের নীল নিয়ে
লিখেছিলেন মহাকাব্য বিধি অনেক মন দিয়ে!
এক নদীতে সহস্র স্রোত, তারই তলে ডুব দিয়ে
দেখো দেখি চোখে আমার মনের অনেক ভাব নিয়ে!
সেইযে কবে আমার চোখের নোনা জলে মন দিয়ে
বেঁধেছিলে নোঙর খানি আর ওঠোনি দম নিয়ে!
কোথায় তোমার প্রমত্ত ঢেউ,কোথায় খেলা মন নিয়ে
আমার বুকেই অবগাহন, মন হারালে এইখানে!


বাঘমামারা দেয় যে হামা

বাংলাদেশের বাঘমামারা 
ক্রিকেট খেলা খেলে
নামী দামী দেশ গুলোরে
দিলো নিচে ফেলে!
রয়েলবেংগল টাইগারদের
আঁকাবাঁকা খেলা
কাঁপিয়ে দিলো ওদের হৃদয়
পালা বাবা পালা!
বিশ্বদ্বারে দেশের নামটি
উজ্বল করে তোলে
তেলে জলে বেড়ে ওঠা
মোদের সোনার ছেলে!
মাঝেমাঝে যদিওবা
যায়গো কেটে তাল
দুটি একটি খেলায় হেরে
বাঁধায় যে গোলমাল!
কিন্তু বলো আজকে তারা
খেললো কেমন করে
একই খেলায় দুটো শতক
ছিনিয়ে নিলো ওরে!
আগামীতে আরও ভালো
খেলা দেখতে চাই
জেতা ছাড়া আর তো কোন
উপায় তাদের নাই!


মন্তব্য