kalerkantho


নাটোর স্টেশন | মাহতাব হোসেন

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৯ জুন, ২০১৭ ১৬:২৩



নাটোর স্টেশন | মাহতাব হোসেন

রাজশাহী থেকে যেতে হবে পার্বতীপুরে। সন্ধ্যার পরে সরাসরি কোনো বাস নেই। প্রথমে বাসে করে নাটোর যেতে। এরপরে ট্রেনযোগে পার্বতীপুরে। বাস সরাসরি থাকলে সরাসরি রংপুর চলে যাওয়া যেত। 'প্রিয়তা'কে রেখে আসতেই একটু দেরি হয়ে গেছে। আমার খুব কাছের বন্ধু প্রিয়তা, দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে যায়। তার হঠাৎ চলে যাওয়ায় আমার মনে কি ছন্দপতন ঘটিয়েছিল! আমি টের পাই নি। টের পাওয়ার আগেই সে কয়েকদিনের জন্য রংপুরে আসে। তখন আমি রংপুরে। দুইদিন পর আবার রাজশাহী ফিরে যাবে সে। যাওয়ার আগে, আমাকে নিয়ে যাবে। ব্যাপারটা এইরকম-

‘তুমি আমাকে রাজশাহী দিয়ে আসো। আমি একা যেতে পারবো না। ‘
আমার ওপর তার একচ্ছত্র অধিকার। এই অধিকার আমি তাকে দেইনি বা সে নেয়নি। হয়ে গেছে। কেন হয়ে গেছে জানি না। কিছু কিছু অধিকারবোধ মনে হয় ঐশ্বরিকভাবে চলে আসে কিংবা জন্ম নেয়। ফার্স্ট ইয়ারে একই সাথে পড়ি। ক্লাসে ও আমার সাথে বসে। পারলে পেছনেই বসি। স্যারের পড়া আমাদের মাথায় ঢোকেই না। ক্লাসের একটা শ্রেণি ধরেই নেয়, 'আমরা খারাপ ছাত্র। ' তাই পেছনেই বসি। আমি যে ভালো ছিলাম তাও কিন্তু না। ক্লাস শেষে সবাই চলে যেত। আমরা থেকে যেতাম। ওর বাসাও ক্যাম্পাসের পাশে। আমিও হলেই থাকি। অতএব সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত আমরা ইচ্ছেমতো ঘোরাঘুরি করতে পারি। সেটা হয় না। তার আগেই সে চলে যায়। এমন একদিন দ্বোতলার ফাঁকা ক্লাসে বসে আছি দুজন। একজন সিনিয়র স্যার এসে আমাদের দেখে ফেললেন। স্যার তেমন কিছু বললেন না-
‘তোমরা এখনো যাও নি?’
’না স্যার এইতো যাচ্ছি’
‘আচ্ছা চলে যাও বিকেল হয়ে গেছে সব তালা মেরে দেবে’
‘জ্বি স্যার’

সেদিন অবশ্য আমরা আর ছিলাম না ক্লাসে। ক্যান্টিনে চলে এলাম। ক্যান্টিনে এসে প্রিয়তার ছোটবোন রিঙ্কির সাথে দেখা হলো। এক বছরের ছোট। দুজনের মধ্যে এত মিল। দুজনের সখ্যও বেশ। রিঙ্কিও জানতো আমাদের মধ্যে প্রেম ছিল না। রিঙ্কিও জানতো ‘বন্ধুত্বের চেয়ে একটুখানি বেশি’ বলতে একটা বাক্য এখন প্রচলিত। এইটা সেই সময়ের জনপ্রিয় গান। তাই এখন বন্ধুত্বের চেয়ে একটুখানি বেশি হতেই পারে। এতে মাইন্ডের কিছু নেই। এই যেমন আমার একটা লাল স্কোরপিয়ন সাইকেল ছিল। একদিন বৃষ্টিতে তাঁকে সাইকেলের পেছনে চাপিয়ে গোটা ক্যাম্পাস ঘুরে বেড়ালাম। তখন অবশ্য ছাত্র-ছাত্রীরা তেমন একটা ছিল না। থাকলে হয়তো তারা ওই বাক্যটা মানতে চাইতো না। প্রচণ্ড বৃষ্টি। গোটা ক্যাম্পাস বৃষ্টিতে সবুজ হয়ে গেছে। মাঠে পানি জমে গেছে। কি অদ্ভুত সুন্দর।   রাস্তার দুই ধারে সারি সারি গাছগুলোয় মায়া ভর করেছে। পুরো সবুজাভ ক্যাম্পাসে তাকে আমার সাইকেলে ঘোরালাম। এই যে ও রাজশাহী চলে গেল। আমাকে কিছুই বলে নি। আমি জানতামও না। সে ভর্তি হওয়ার পরে আমাকে জানালো। অথচ আমরা কি ছিলাম?

তাঁকে রাজশাহীতে রেখে পরেরদিন বাসে নাটোরে ফিরছিলাম। সাথে নিয়ে এক বুক শূন্যতা । বাসের জানালায় প্রচণ্ড বাতাস, আমাকে এলোমেলো করে ফেলছিল। বড় হয়ে যাওয়া চুলগুলো সন্ধ্যারাতের বাতিগুলো থেকে চোখ সরিয়ে নিতে বাধ্য করছিল। রংপুরে মডার্ন মোড়ে প্রিয়তা'র মা তাকে তুলে দেয়। যে বাসে তুলে দেবে সে বাসেই আমাকে আলাদা ভাবে  উঠে যেতে হবে। এটাই ছিল নির্দেশ। আলাদাভাবে উঠলাম ঠিকই কিন্তু একসাথে আর বসতে পারলাম কই। বগুড়া অতিক্রম করার পরে একই সিটে বসার সুযোগ হলো। আমার গা ঘেষে বসেই জোরে হাত চেপে ধরলো।
‘শয়তান এতোক্ষণ দূরে ছিলে ক্যান?’
‘আমি কই দূরে ছিলাম, সিটই তো ছিল না বাসে। এইসব আধা লোকাল বাসে চড়ো কেন?’
‘চাকরি করো আগে, একটা গাড়ি কিনে ফেলবা সেটাতে আমাকে নিয়ে ঘুরবা’

আমি হেসে ফেলি। দুপুর গড়িয়ে যাওয়ার পরে আমরা রাজশাহী পৌঁছাই। ও তখন হলে সিট পায় নাই। মেসে চলে যায়। আমি এক বড় ভাইয়ের কাছে গিয়ে উঠি। সেদিন বিকেলেই গোটা রাজশাহী ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাস আমরা ঘুরি। রিকশায়, পায়ে হেঁটে। মেহেরচণ্ডী যাই। চারুকলা ঘুরে এসে সোহরাওয়ার্দী হলের পাশের পুকুর পাড়ে বসি। সন্ধ্যার আগেই উঠে পড়ি। বিনোদপুরে গিয়ে নাস্তা করি। এভাবেই প্রথম দিনটা কেটে যায়। রাতে ফোন দিয়ে আলোচনা করে নেই পরেরদিন কোথায় ঘুরবো।

কানে হেডফোন লাগিয়ে চোখ আছি। বাস চলছে নাটোরের দিকে। চাইলে আজও থেকে যেতে পারতাম। কিন্তু টিউশনি আছে। স্টুডেন্ট এর মা’কে বলেছি জরুরি কাজে রংপুরের বাইরে যাচ্ছি। একদিন পরেই চলে আসবো। ফিরতে হচ্ছে। বুকে গভীর অথবা ভারি কিছু একটা নিয়ে ফিরছি। চোখে ভাসছে নানা ছবি- পদ্মার চরে কতদূরে চলে গিয়েছিলাম মনে নাই। পদ্মার চরে যেতে হলে প্রথমে নৌকায় আগে নদীর অংশটা পার হতে হয়। প্রিয়তার নৌকায় চড়ার অভিজ্ঞতা নেই। আমি আমাকে ধরে বসে। বিশাল প্রমত্তা পদ্মা রাজশাহীর এই অংশে শুকনো মৌসুমে জল কমে যায়। আবার ভরা বর্ষায় ভরা যৌবনে ফিরে যায়। পদ্মার জলের অংশটুকু পার হয়ে আমরা চরে চলে যাই। বেশ কিছুদূর যাওয়ার পরে মনে হলো সত্যিই আমরা কোনও মরুভূমিতে এসে পড়েছি। বিভুতির শঙ্করের মতো আমারও পানির পিপাসা লাগে। প্রিয়তা এসে মুখের মধ্যে পানির বোতল ধরে। আমি ঢক ঢক করে গলা, কলিজা, ফুসফুস ভেজাই। আমি ভেবেছিলাম এই আদুরে মেয়ে হয়তো চরাঞ্চলের বেশিদূর যেতে চাইবে না। অথচ ওরই আগ্রহ বেশি। আমাকে ছেড়ে ছেড়ে সামনে দৌঁড়াতে থাকে। আমিও পিছু নেই। কোথাও চরের বালু-মাটি খাড়া হয়ে ওপরে উঠে গেছে। আবার কোথাও নেমে গিয়ে খাতের সৃষ্টি করেছে।

হাঁটতে থাকি আরেকটু হলেই কি ভারতীয় সীমান্ত? ভারতীয় সীমান্তরক্ষীবাহিনী কি গুলি করে দেবে। বাতাসে প্রিয়তার চুল চুড়ছে, উড়ছে বেগুনি রেশমী ওড়না। মুখে হাসির উদ্ভাস। এইরকম একজনের সাথে থেকে কি বুকে বুলেট নেওয়া যায় না?

যে বাসটায় নাটোর ফিরছি সেটা একটা মাঝারি কোয়ালিটির বাস। কোনো লোকজন দাঁড়িয়ে নেই। আমার পাশে একজন মুরব্বি গোছের লোক বসেছেন। আমার দিকে তাকিয়ে আছেন। কোনো প্রশ্ন করবে কি না ভাবছে।
'চাচা কিছু বলবেন?'
'না, কিছু বলবো না, মনে কি কোনো কারণে কষ্ট?'
'নাতো'
'বাবা কষ্ট আসে, আবার কষ্টের দিন চলে যায়। মন খারাপ করেন না। '
'ঠিক আছে চাচা'
খেয়াল করি, আমার চোখের কোল কিছুটা ভেজা। রিকশায় বাসস্ট্যান্ডে ফিরে আসার সময় প্রিয়তা আমার হাত চেপে ধরেছিল। হাউমাউ করে কান্নাকাটি করছিল। চোখ দিয়ে অনবরত পানি পড়ছিল। আমি চুপচাপ বসে আছি। আমার বলার কিচ্ছু নেই। তার চোখ থেকে পানি টুপ টুপ করে আমার হাতে পড়ে। আমার হাত ভিজে যায়, তার জামা ভেজে। রিকশাওয়ালা মাঝে মাঝে মাথা ঘুরিয়ে দেখে। রাস্তা দিয়ে পাশ কেটে চলে যাওয়া বাইকওয়ালা এক পলক চেয়ে দেখে, রাস্তার পাশের মুড়ি বিক্রেতা দেখে, আমার হাত চেপে ধরে এক তরুণী কান্নাকাটি করছে। প্রিয়তা বোঝে না এইসব কান্নাকাটি অঝোর ধারায় বৃষ্টি নামায়। বৃষ্টি নামে চোখের আঁড়ালে। বুকের গভীরের খাঁজে খাঁজে।

বাস থেকে নাটোর স্টেশনে নেমেই রাতের শেষ ট্রেনটা মিস করি। একটুর জন্য মিস আফসোস বাড়ায়। এরপরের ট্রেন সম্ভবত দ্রুতযান এক্সপ্রেস। আমাকে ভোরের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। স্টেশনের অপেক্ষারত কক্ষে বসি। কানে একটাই গান বেজে যাচ্ছে। গানটা বন্ধ করতেই টের পাই বুকের ভেতর তোলপাড়। অজানা ভয় গ্রাস করে আমাকে। স্টেশনের পেছনে একটা রেস্তোরাঁ আছে। রেস্তোরাঁয় খেতে যাই। খাওয়ার নিয়েও খেতে পারি না। একটা রুই মাছের টুকরো নিয়েছিলাম। কেন জানি খেতে পারলাম না। রেস্তোরাঁকে দোষ দিতে পারি না। আমার ভেতর থেকেই যেন খাবারের প্রতি অরুচি উঠে আসছে। কানে হেডফোন লাগিয়ে গোটা স্টেশন পায়চারি করি। লোকজন তেমন একটা নেই। একজন বদ্ধ উন্মাদ ঘুরে বেড়াচ্ছে। উন্মাদনা চরম মাত্রায় তুলে একটু পরে দেখি সেও ঘুমিয়ে পড়েছে। বুকের ভেতর একটা তীব্র যন্ত্রণা টের পাচ্ছি। মনে হচ্ছে গানের কথাগুলো সেই যন্ত্রণাকে প্রশমিত করার বৃথা চেষ্টা করে যাচ্ছে।

প্রিয়তার সাথে আমার আর তেমন কোনো স্মৃতি নেই। মাঝে মাঝেই সে একটা বন্ধ নম্বর থেকে টেক্সট করতো। টেক্সটে লেখা থাকতো 'আই লাভ ইউ। ' আমি ফোন ব্যাক করেও বন্ধ পেতাম। একদিন ঠিকই ওকে ধরে ফেললাম। আমি বুঝতেও পারতাম না আসলে সে টেক্সটগুলো কেন পাঠাতো। আমি জিজ্ঞেস করলাম
'কেন এই ধরনের টেক্সট পাঠাও?'
'মজা লাগে, তাই'
'ঠিক আছে এসব মজাই থাকুক। আজীবন মজাই থাকুক। '
আমি কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছিলাম। কয়দিন হবে? তিনদিন মনে হয়। সে ফোন করে কি ভয়াবহ কান্নাকাটি। মনে আছে ৯৬ টা মিসডকলের পর তার ফোন রিসিভ করেছিলাম। রিসিভ করেই 'থ। ' এইরকমভাবে কেউ কান্নাকাটি করতে পারে আমার জানা ছিল না। ওকে মাফ করেছি কি না এটা নিশ্চিত করার পরে সে কান্নাকাটি থামিয়েছিল। কিন্তু এত কান্নাকাটি সে কিভাবে করলো আমার বোধগম্য হচ্ছিল না। কেন না তার মা অনেক কঠিন মহিলা। বাবা পুলিশ কর্মকর্তা। মা পুরো পরিবার সামলায়। যেখানেই যায় সাথে থাকে মা। প্রিয়তাদের বাড়িতে একবার যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল। মা ছিল না। রিঙ্কিও ছিল না। ওর আরেক বড়বোন ছিল। এত অমায়িক ব্যবহার। প্রীতি নাম। প্রীতি আপু এত আন্তরিক ছিলেন যে বলার মতো না।

স্টেশনে উল্টোদিক থেকে একটা ট্রেন ঢোকে। সম্ভবত খুলনার দিকে যাবে। মেইল ট্রেন। প্রচুর লোক। নাটোর স্টেশনে ট্রেন ঢুকলেই বুঝি একদল হকার নাটোরের কাঁচাগোল্লা নিয়ে কোত্থেকে যে ছুটে আসে। এই মধ্যরাতেও কাঁচাগোল্লার লোকজন ছুটে এলো। প্রচুর লোক এই মধ্যরাতেও নামলো ট্রেন থেকে। অনেক শ্রমজীবী মানুষ ভর্তি ট্রেন। সবাই কাজের খোঁজে ছুটছেন। সম্ভবত ধানকাটার মৌসুম এখন। এই সময়েই নীলফামারী অঞ্চলেরা মানুষেরা ধানকাটার জন্য উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় যায়। মাস শেষে থোকা টাকা নিয়ে বাড়ির মানুষদের জন্য জামা-কাপড়, স্নো পাউডার নিয়ে ফেরে। ফেরার সময় মুখে থাকে আনন্দের ঝলাকানি। এখন সম্ভবত কাজের সন্ধানে বেরোনো লোকই ট্রেনে বেশি। সকালে গিয়েই কোথাও না কোথাও কাজ জুটিয়ে ফেলবে। স্টেশন কাঁপিয়ে ট্রেন চলে যায়। আবার পুরো স্টেশনে নেমে আসে নীরবতা। শূন্যতা। যেমনটা বুকের ভেতর। খাঁ খাঁ স্টেশন। রাতের স্টেশন। এই স্টেশনেই এক বিখ্যাত গীতিকার লিখেছিলেন ‘চিরচেনা এই প্রিয় স্টেশনে, ট্রেনটা আমাকে নামিয়ে দিল… কেউ আমাকে চিনলো না। ’ গীতিকারের নাম লতিফুল ইসলাম শিবলী। গেয়েছিলেন ফারুক মাহফুজ আনাম জেমস। দিঘাপাতিয়ার রাজার এই শহরেই ছিলেন জীবনানন্দ দাসের বনলতা। যে দু’দণ্ড শান্তির বার্তা কবিকে দিয়েছিলেন, যার চুলের অরণ্যে হারিয়েছিলেন কবি।  

আমাকে এখন পার্বতীপুর যেতে প্রথমে। এরপরেই নেমেই পরের ট্রেনে রংপুর। কখন পৌঁছবো জানি না। কিন্তু পৌঁছতে হবে। বিকেলে টিউশনি আছে। এই শূন্য স্টেশনে হেঁটে বেড়াই। কখন ট্রেন আসবে জানি না। কানের হেডফোন খুলে পকেটে রাখি। প্লাটফরমের কোনো চায়ের দোকান খোলা নেই। বাইরে চলে যাই। ভাত খেয়েছিলাম যে রেস্তোরাঁয় সেখানে চা আছে। গলায় চা ঢালি। আজ দুপুরে চা খেয়েছিলাম প্রিয়তার সাথে। সাহেববাজারের একটা ফুটপাতের টি স্টলে।

প্রিয়তার একটা ব্যাপার ভালো লাগে। সে যে পরিবেশে যায় নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে পারে। ফুটপাতে দাঁড়িয়ে কত সাবলীলভাবে আমার সাথে চা খেল। পার্স থেকে বের করে দোকানিকে টাকা দিল। খুচরা ছিল। দোকানি কোত্থেকে মিনিট দশেক বাদে খুঁচরা নিয়ে ফিরলো। আমাকে চায়ের দাম মেটাতে দিল না। চা খেয়ে প্ল্যাটফরমে চলে আসি। পায়চারি করি। কানে হেডফোন গুঁজে একের পর এক প্লে লিস্ট চেঞ্জ করি। অস্থির লাগে। শেষরাতের নাটোর স্টেশনে এক যুবক এক বুক অবর্ণনীয় অনুভূতি নিয়ে হাঁটাহাটি করে। দূরে কোথাও কর্কশ কণ্ঠে কাক ডেকে ওঠে। অথবা মধুর কণ্ঠে রাতজাগা পাখি। আমার ঠিক খেয়াল নেই। কানে হেডফোনের কারণেই হয়তো সব এলোমেলো লাগে। কিংবা চোখে ঘুম নেই বলে। না ঘুমের কারণে আমার এলোমেলো লাগে না। একবার আমি টানা দুইরাত ঘুমাই নি। রংপুর মেডিক্যাল কলেজের করিডোরে নির্ঘুম রাত কাটিয়েছি। এক বন্ধুর আত্মীয় অসুস্থ ছিলেন। সেই বন্ধুর সাথে সবসময় থাকতে হয়েছিল আমাকে।

ভোর চারটার দিকে ‘দ্রুতযান এক্সপ্রেস’ গমগম করে স্টেশনে এসে থামে। ট্রেনে উঠে পড়ি। থামে। ট্রেনে সব ঘুম ঘুম যাত্রী। নাটোর স্টেশন থেকে ট্রেন ছাড়ে। নতুন ইঞ্জিনের দ্রুতযান অন্ধকারের বুক চিরে এক সফেদ প্রভাতের দিকে ছুটে যায়। সাথে একবুক অবর্ণনীয় অনুভূতি নিয়ে এক যুবক......


মন্তব্য