kalerkantho


আনন্দ পুরস্কার পেলেন আনিসুজ্জামান

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৩০ এপ্রিল, ২০১৭ ০০:৪৩



আনন্দ পুরস্কার পেলেন আনিসুজ্জামান

১৪২৩ বঙ্গাব্দের আনন্দ পুরস্কার পেলেন রবীন্দ্র-গবেষক-অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। তার ‘বিপুলা পৃথিবী’ আত্মজীবনী বইটির জন্য এই স্বীকৃতি। আজ সন্ধ্যায় ওবেরয় গ্র্যান্ড হোটেলে আনিসুজ্জামানের হাতে আনন্দ-সম্মান তুলে দেন ভারতের প্রখ্যাত কবি শঙ্খ ঘোষ।  

পুরস্কার গ্রহণের পর আনিসুজ্জামান বলেন, আমি এই পুরস্কার পেয়ে আনন্দিত ও গর্বিত। আমি ২০ বছর ধরে এই আনন্দ পুরস্কারের সঙ্গে জড়িত ছিলাম। এবার আমি সেই দায়িত্ব থেকে বিদায় নেওয়ার পর এবার আমাকেই দেওয়া হল এই পুরস্কার। যেন গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের পর এই পুরস্কার প্রাপ্তি। সত্যিই এই পুরস্কার পেয়ে আমি দারুণ আনন্দিত। খুশি।

নতুন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে আনিসুজ্জামানের ‘বিপুলা পৃথিবী’ আত্মজীবনীর সূচনা। তারপর তা ছড়িয়ে পড়ে সেই দেশের ইতিহাসের তিন দশকের পটভূমি জুড়ে।

ইতিহাসের বহু ঘটনা তিনি দেখেছেন ভেতর থেকে। বহু উদ্যোগে সক্রিয় থেকেছেন নিজেও। ‘বিপুলা পৃথিবী’ আত্মস্মৃতিতে রয়েছে বাংলাদেশের অন্তরঙ্গ সামাজিক উচ্চারণ। এই বিরল আবেদনকে এবার সম্মানিত করা হল আনন্দ-সম্মানে।

আনন্দ পুরস্কারের ঐতিহ্য বহুদিনের। ১৯৫৮ সালে প্রথম বার এই পুরস্কার পেয়েছিলেন বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও সমরেশ বসু। অর্ধ শতাব্দীরও বেশি যাত্রাপথে আনন্দ পুরস্কারের কিছু ববর্তন ঘটেছে। এই বছর, ২০১৭ থেকে এই পুরস্কারের নির্বাচন পদ্ধতি কিছুটা পরিমার্জিত হয়েছে। ১ জানুয়ারি ২০১৫ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০১৬ সালের মধ্যে প্রকাশিত বাংলা বইয়ের একটি প্রাথমিক সম্ভার থেকে বিচারকমণ্ডলীর সম্মানিত সদস্যারা প্রথম পর্যায়ে নিজের পছন্দের একটি করে বই বাছাই করেছেন। তারপর চূড়ান্ত পর্যায়ে তারা সমবেত ভাবে সেই তালিকা থেকে আনিসুজ্জামানের ‘বিপুলা পৃথিবী’ বইটিকে নির্বাচন করেছেন। এ বছর আনন্দ পুরস্কারের বিচারকমণ্ডলীতে ছিলেন কৃষ্ণা বসু, রামানন্দ বন্দ্যোপাধ্যায়, সমরেশ মজুমদার, সেলিনা হোসেন এবং সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়।

আনিসুজ্জামানের জন্ম ১৯৩৭ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের বসিরহাটে। কলকাতার পার্ক সার্কাস হাইস্কুলে শিক্ষাজীবনের শুরু করেন তিনি। এই স্কুলেই সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছেন। তারপর বাংলাদেশে চলে যাওয়া। অষ্টম শ্রেণিতে ভর্তি হন খুলনা জেলা স্কুলে। সেখানে শিক্ষাজীবন শেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অধ্যাপক হন। আনিসুজ্জামান প্রত্যক্ষভাবে ১৯৭১-এ মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস নিয়ে তার গবেষণা সবিশেষ উল্লেখযোগ্য।


মন্তব্য