kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


'ডেভিড কপারফিল্ডের মতো আমিও বাড়ি থেকে পালিয়েছিলাম'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৩ অক্টোবর, ২০১৬ ১৫:০৫



'ডেভিড কপারফিল্ডের মতো আমিও বাড়ি থেকে পালিয়েছিলাম'

রুসকিন বন্ড ভারতের সবচেয়ে বড় লেখকদের মধ্যে অন্যতম। তিনি ভারতে ইংরেজি লেখার জন্য অর্জন করেছেন সাহিত্য একাডেমি অ্যাওয়ার্ড।

এ ছাড়াও পদ্মশ্রী ও পদ্মভূষণ পুরস্কারও তিনি জিতেছেন। এখন ৮২ বছর বয়স এ লেখকের। সম্প্রতি তার একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছে। হিন্দুস্তান টাইমসকে তিনি জানান তার জীবনের বেশ কিছু তথ্য।

কিছুটা অন্তরালে থাকতেই পছন্দ করেন এ 'লাজুক' লেখক। তিনি ফোনে বলেন, 'আমি যা কিছু লিখেছি তার সবই কোথাও ছাপা হয়েছে বা আছে। আমার ১৫০টি শিরোনামে লেখা রয়েছে, যা মন্দ নয় বলেই আমার মনে হয় (হাসি দিয়ে বলেন)। তবে গত ৫০-৬০ বছর ধরে আমি এ কাজেই আছি। '

৮২ বছর বয়সী এ লেখক জানান তার সর্বশেষ বই 'হুইসপার ইন দ্য ডার্ক'। এটি মূলত হিমালয়ের বিভিন্ন ভূতের গল্পের সংকলন।

তাহলে তিনি কী অতিপ্রাকৃত বিষয়ে বিশ্বাসী? এ প্রশ্ন করতে অবশ্য না-বাচক উত্তর দেন তিনি। বন্ড বলেন, 'ঠিক তা নয়। কিন্তু আমি সত্যিই তাদের দিকে তাকিয়ে থাকতে ভালোবাসি। আমার লেখালেখির স্বার্থেই তাদের দিকে নজর রাখতে হয় (হাসি)। অন্যভাবে বলতে গেলে আমি তাদের কল্পনা করি। কিন্তু আমি বহু মানুষের দেখা পেয়েছি যারা দাবি করেন ভূত দেখার। কোনো কোনো সময় আমি তাদের অভিজ্ঞতাও লিখেছি। '

লেখক স্বীকার করেন ভয়ের গল্পগুলো সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিনি বলেন, 'অধিকাংশ ভূতের গল্পই ছোট। এটি কার্যকর করার জন্য আকর্ষণীয় হওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। আর এজন্য আপনার বেশি চিন্তাভাবনার প্রয়োজন নেই। '

বন্ড শিশুদের জন্যও লেখালেখি করেন। তিনি জানান, বর্তমানে প্রকাশনাশিল্প শিশুদের জন্য বই ছাপানোর প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করেছে। আর এ জন্য এখন বাজারে প্রচুর শিশুদের বই পাওয়া যায়। তবে তিনি যখন এ বিষয়ে লেখালেখি শুরু করেছিলেন তখনও শিশুদের বই এতটা ছিল না।

ছোটবেলায় কোন ধরনের বই পড়ে তিনি উৎসাহিত হয়েছেন? এ প্রসঙ্গে বন্ড বলেন, 'আমার পড়া প্রথম বই হলো এলিস ইন ওয়ান্ডারল্যান্ড। আমি অ্যাডভেঞ্চার গল্প পড়তে শুরু করি। আমার সময় এ ধরনের বেশি বই পাওয়া যেত না। আর এ কারণে আমি যে বইগুলো পড়া শুরু করি সেগুলোকে বড়দের বই বলা হতো। সে সময়কার বহু বইকেই এখন ক্লাসিক বই অভিহিত করা হচ্ছে। '

চার্লস ডিকেন্সের অসাধারণ বই হলো ডেভিড কপারফিল্ড। এ বই পড়েই বন্ড তার লেখালেখি শুরুতে উৎসাহিত হয়েছিলেন বলে জানান। তিনি বলেন, 'এ বইটি পড়ে আমি ডেভিড কপারফিল্ডের সঙ্গেই যেন ভ্রমণ করেছিলাম। আমি তখন ১৩ বা ১৪ বছর বয়সী, যখন বইটা পড়ি। এটি আমাকে লেখালেখিতে উৎসাহিত করে। একসময় আমি ডেভিড কপারফিল্ডের মতোই বাড়ি থেকে চলে গিয়েছিলাম। পরে অবশ্য পকেট ফাঁকা হয়ে গেলে আবার ফিরে আসি। '


মন্তব্য