kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


আশা পূর্ণ হলো না

বালার্ক চালাষ   

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২২:৫১



আশা পূর্ণ হলো না

আমার আশা পূর্ণ হলো না। আমার অনেক আশাই অপূর্ণ থেকে যায়।

কিছু আশা হাজার চেষ্টা করেও আর পূরণ করতে পারবো না!- আমারই ভুলে, অলসতায়। এটাই খুব কষ্ট দেয়, বিদ্ধ করে আমাকে।

বঙ্গবন্ধুর দেখা পাইনি। সুযোগ পেয়েও অন্নদা শঙ্কর রায়, মান্না দের সঙ্গে দেখা হলো না। সুচিত্রা সেনের সাক্ষাৎ পাওয়া অসম্ভব ছিল? কথা থাকলেও আবার যাওয়া হয়নি শামসুর রাহমানের কাছে। বারবার কাছে গিয়েও কথা বলতে পারিনি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে। বুকে জমা অজস্র কথা, প্রশ্ন তাঁদের কাছে গেলেই যে ফুরিয়ে যেতো!
কতবার চেয়েছি, সৈয়দ শামসুল হকের সঙ্গে একটু বসবো, দুটো ছবি তুলবো, একটি সাক্ষাৎকার নেবো। তাঁর লেখা নিয়ে তাঁকে প্রশংসায় ভাসিয়ে দেবো। বলবো, আপনার ‘মার্জিনে মন্তব্যের’ ‘কবিতার কিমিয়া’ শব্দদ্বয় থেকে ‘কিমিয়া’ বাদ দিয়ে বাঙলা কোনো শব্দ যোগ করুন।
কিছু দিন আগে সহকর্মী মাহতাবের সঙ্গে আলাপ করছিলাম সৈয়দ হকের সাক্ষাৎ পাওয়ার ‘উপায়’ নিয়ে। তিনি বললেন, যেহেতু তিনি অসুস্থ সেহেতু তাঁর সাক্ষাৎ পাওয়া সহজ হবে না। আমি বললাম, তবু চেষ্টা করে দেখি না। যেকোনো দিনই তো তিনি চলে যেতে পারেন! পরে ভেবেছি, অসুস্থ কবিকে বিরক্ত করার দরকার কী! তিনি সুস্থ হয়ে উঠুন, তারপর দেখা করবো। মনে মনে প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম কিভাবে কী কী আলাপ করা যায়।
হলো না, হলো না! মঙ্গলবার (২৭.৯.২০১৬) বিকেলে চিরবিদায় নিয়েছেন তিনি! কেন এতো দ্রুত চলে গেলেন?! এ মেনে নেওয়া যায় না!
কয়েক দিন ধরে পড়ছিলাম আর আনন্দ-বিস্ময়ে ডুবে যাচ্ছিলাম সৈয়দ শামসুল হকের ‘বৈশাখে রচিত পঙক্তিমালা’ ও ‘পরানের গহীন ভিতর’। কয়েক বছর আগে কণ্ঠশীলনের মঞ্চায়নে তাঁর ‘ঈর্ষা’ দেখে আমি হতবাক। ভাবছিলাম, এই ভাষা তিনি পেলেন কোথায়!
জাতীয় কবিতা উৎসবে কতবার দেখেছি সৈয়দ শামসুল হককে। এতো বড়, বিখ্যাত মানুষ তিনি, তাই কথা বলার সাহস সঞ্চয় করে উঠতে পারিনি কোনোদিন।
যেখানেই থাকুন ভালো থাকুন সব্যসাচী।
নায়করাজ রাজ্জাক, কবরী, ববিতা, রোজিনা- আপনাদের সঙ্গে দেখা করবো। আশা করি আশাহত করবেন না।


বালার্ক চালাষ,

সহসম্পাদক, কালের কণ্ঠ


মন্তব্য