kalerkantho

রূপকথার গল্প

২১ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



রূপকথার গল্প

মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজের ‘যদি একদিন’-এ অভিনয় করেছেন দুই বাংলার তিন তারকা তাহসান খান, তাসকিন রহমান ও শ্রাবন্তী চ্যাটার্জি। তাঁদের সবাইকে ছাপিয়ে আলোচনায় উঠে এসেছে শিশুশিল্পী আফরিন শিখা রাইসা। তার গল্প শোনাচ্ছেন নাবীল অনুসূর্য, ছবি তুলেছেন মোহাম্মদ আসাদ

 

‘যদি একদিন’-এর প্রিমিয়ারে রাইসা বসেছিল ‘তিশা খালামণি’র পাশে। তিশা মানে নুসরাত ইমরোজ তিশা, রাইসার অভিনয়ের আইডল। বড় হয়ে তাঁর মতো বড় অভিনেত্রী হতে চায় ও। ছবি শেষ হওয়ার পর ওর অভিনয়ে মুগ্ধ হয়ে সেই তিশাই ওকে জড়িয়ে ধরে রাখলেন কয়েক মিনিট! শুধু তিশাই নয়, ছবিতে ওর সাবলীল অভিনয় মুগ্ধ করেছে সবাইকে।

অথচ জীবনে প্রথম যেবার ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছিল, ঠিকমতো কথাই বলতে পারেনি রাইসা। সেটা ২০১৩ সালের কথা। একটা বিজ্ঞাপনের অডিশন দিতে ওকে নিয়ে গিয়েছিল মা। সঙ্গে ছিল ওর বড় ভাই আবিরও। অডিশন ছিল ওর, অথচ সুযোগ পেয়ে গেল আবির! অবশ্য বেশিদিন অপেক্ষা করতে হয়নি রাইসাকে। পরের বছরই ক্যামেরার সামনে অভিষেক হয়ে যায় ওর। সেটাও একেবারে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর একটা বিজ্ঞাপনে। ডাকটা এসেছিল ওর বড় ভাইয়ের বদৌলতেই। সেই বিজ্ঞাপন করতে গিয়ে অন্য রকম একটা সমস্যার মুখোমুখি হয়েছিল রাইসা, ‘শুটিং চট্টগ্রামে। তখন আমার ছোট ভাই একদম ছোট। তাই মা যেতে পারেনি, বাবা গিয়েছিল। কিন্তু বাবা তো খাইয়ে দিতে পারে না। পুরো চারটা দিন মায়ের হাতে না খেয়েই থাকতে হয়েছিল আমাকে।’

ফারুকীর করা সুপারস্টার এলইডি বাল্বের সেই বিজ্ঞাপনের স্থিরচিত্র শোভা পেল দেশের নানা প্রান্তে, বিলবোর্ড ও প্ল্যাকার্ডে। আর রাইসাও একের পর এক কাজ পেতে লাগল। স্যাভলনের একটা বিজ্ঞাপনে মডেল হলো ক্রিকেটার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের সঙ্গে। রাইসা নিজেও খেলাধুলায় বেশ ভালো। স্কুলে প্রতিবছর খেলাধুলায় পুরস্কারও পায়। কিন্তু খেলাধুলা নয়, নাটক আর সিনেমাই ওর বেশি পছন্দ। সবচেয়ে পছন্দের ছবি ‘ফ্রোজেন’ আর ‘মোয়ানা’। গরমকালে তো ওর প্রায়ই ‘এলসা’ হয়ে সবকিছু বরফ দিয়ে ঢেকে দিতে ইচ্ছে করে।

এখন তো ও নিজেই নাটক-সিনেমার লোক হয়ে গেছে। বিজ্ঞাপনের পাশাপাশি এখন নাটকেরও নিয়মিত মুখ। এরই মধ্যে প্রায় ২০টার মতো নাটকে অভিনয় করেছে। সুযোগ হয়েছে মুরাদ পারভেজ, সাগর জাহান, কৌশিক শংকর দাস, চুমকি হাসান, জাকারিয়া শৌখিনের মতো নির্মাতার নাটকে। সেগুলোতে অভিনয় করেছে দিলারা জামান, শহীদুজ্জামান সেলিম, শর্মিলী আহমেদ, জাহিদ হাসান, নুসরাত ইমরোজ তিশার মতো শিল্পীদের সঙ্গে। ‘মাখন মিয়ার উদার বউটা’ নাটকে অভিনয় করে বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছিল রাইসা। ‘যদি একদিন’ সিনেমায় ওর কাজ করার সুযোগও আসে এই নাটকটার কারণেই।

‘যদি একদিন’-এর অন্যান্য অভিনেতা-অভিনেত্রী প্রায় ঠিক করে ফেলেছিলেন পরিচালক। কিন্তু ‘রূপকথা’ চরিত্রের জন্য মনমতো শিশুশিল্পী খুঁজে পাচ্ছিলেন না। ৪৬ জনের অডিশন নিয়ে ফেলেছেন রাজ। তখনই ‘মাখন মিয়ার উদার বউটা’ দেখেন রাজ। খুঁজে পান তার ছবির ‘রূপকথা’কে। ‘রাজ মামাই আম্মাকে ফোন দিয়েছিলেন। পরদিন আম্মার সঙ্গে উনার অফিসে যাই। আমার কিন্তু অডিশন হয়নি। রাজ মামা কাগজে একটা সংলাপ লিখে আমাকে পড়ে শোনাতে বলেছিলেন। আমি পড়িনি।’ না পড়ে রাইসা উল্টো প্রশ্ন করেছিল, ‘ক্যামেরা কই? ক্যামেরা ছাড়া আমি সংলাপ বলব না।’

রাইসার কথা শুনে হেসে ফেলেন রাজ। বয়সে ছোট হলে কী হবে, রাইসা তো কম কাজ করেনি! এমনকি এর আগে সিনেমাও করেছে, মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘ডুব’ আর রায়হান রাফির ‘দহন’। রাজ তো ওকে মনে মনে পছন্দ করেই রেখেছেন, তাই মেনে নিলেন ওর কথা। বললেন পরদিন আবার আসতে। শুরু হয় রাইসাকে রূপকথায় রূপান্তরের কাজ। সহশিল্পীদের সঙ্গে ওকে সহজ করে তুলতে নিয়মিত সবাই মিলে আড্ডা দিতে লাগলেন। জানা গেল, রাইসা সাইকেল চালাতে পারে না। কিন্তু রূপকথা তো সাইকেল চালাতে পারে। রাজ নিজেই রাইসাকে সাইকেল চালানো শেখাতে নেমে পড়লেন।

‘যদি একদিন’-এর জন্য রাইসাকে সপ্তাহখানেকের জন্য কক্সবাজার যেতে হয়েছিল। সেখানে শুটিং তো হয়েছেই, শুটিংয়ের বাইরের সময়টাতেও খুব মজা হয়েছে। ‘যখন শুটিং থাকত না ইচ্ছামতো সাগরে ঝাঁপাঝাঁপি করতাম। প্রতিদিন আইসক্রিম খেতাম। সবাই আমাকে খুব আদর করত। সবচেয়ে বেশি আদর করত শ্রাবন্তী আন্টি। তাহসান আঙ্কেল আর রাজ মামাও খুব আদর করত। কারো কোনো কথায় মন খারাপ হলে রাজ মামা সঙ্গে সঙ্গে তাকে ডেকে বকা দিত।’ অবশ্য রাইসাও একবার বকা খেয়েছিল। ‘কান্নার একটা দৃশ্য ছিল। ঠিকমতো করতে পারছিলাম না। তখন সিনেমাটোগ্রাফার নাজমুল মামা এসে এমন বকা দিল, সঙ্গে সঙ্গে কেঁদে দিয়েছিলাম।’ পরে অবশ্য সবাই ওর কান্নার ‘অভিনয়ের’ খুব প্রশংসাও করে।

রাইসাকে ‘যদি একদিন’-এ নেওয়ার কথা পরিচালক জানিয়েছিলেন ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে। সেখানে লিখেছিলেন, ‘ও চমক হয়ে ধরা দেবে দর্শকদের কাছে।’ ছবিটা মুক্তি পাওয়ার পর সেটাই সত্যি হলো। সামনে দর্শকদের জন্য রাইসা আরো বড় চমক হয়ে আসবে কি না এখন কেবল তারই প্রতীক্ষা।

মন্তব্য