kalerkantho

তারার সঙ্গে প্রেম

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



তারার সঙ্গে প্রেম

অপূর্ব, নিরব ও মাহিয়া মাহি প্রেম করে বিয়ে করেছেন শোবিজের বাইরের তিনজন মানুষকে—নাজিয়া হাসান অদিতি, তাশফিয়া ঋদ্ধিপারভেজ অপু। ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে তাঁরা বলেছেন তারকার সঙ্গে প্রেম, বিয়ে ও সংসারের কথা

 

আগে বুঝিনি ও কত বড় তারকা

পারভেজ অপু

আমার বন্ধুর বন্ধুর বন্ধু মাহি। সেই সূত্রেই পরিচয়। প্রথম দেখা সিলেটে। বন্ধুদের নিয়ে ও সিলেটে ঘুরতে এসেছিল। জানতাম সে নায়িকা। তবে ওর যে এত পরিচিত, সেটা ব্যবহারে বোঝা যায়নি। খুব কম কথা হতো আমাদের মধ্যে—হাই/হ্যালো! তবে দিনে দিনে আমাদের মধ্যে একটা ভালো বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মাহির সরলতা ও চঞ্চলতা আমাকে মুগ্ধ করেছে। ২০১৫ সালে আমাদের নিয়মিত কথাবার্তা শুরু হয়। মানে ফোন নম্বর নেওয়া বা বন্ধুদের থেকে আলাদা হয়ে কথা বলা। পরের বছরই আমাদের বিয়ে, এটা তো সবাই জানেন। বিয়ের আগে আসলে আমি বুঝিনি যে ও কত বড় তারকা। মাহি সাদা মনের মানুষ, কোনো অহংকার নেই, খুব সাধারণ চলাফেরা। এটা সব সময়ই আমাকে মুগ্ধ করে। ওর এই ব্যবহারটা অনেকে বুঝতে পারে না, হয়তো ওকে ভুল বোঝে। শোবিজের বাইরের মানুষ আমি। কখনোই ওকে কাজে বাধা দিই না। তবে চেষ্টা করি ওকে সঙ্গ দিতে। আমার কাজ না থাকলে ওর শুটিংয়েও চলে যাই। ওকে সঙ্গ দিই।

 

বিয়েতে বেশ ঝামেলা হয়েছিল

তাশফিয়া ঋদ্ধি

ফেসবুকেই আমাদের পরিচয়। ওকে ভালো লাগত আগে থেকেই। আমিই প্রথম নক দিয়েছিলাম। এভাবে যে প্রেম হবে, সংসার হবে—তখন আমাদের কারো মাথায়ই ছিল না। ওকে তো অনেকেই নক করে। কিন্তু আমার সঙ্গে কেন কথা বলেছে পরে জানতে চেয়েছিলাম। ওর মনে হয়নি আমি ফান করার জন্য বা শোবিজে কাজ করার জন্য ওকে নক দিয়েছি। এটাই নাকি ওর ভালো লেগেছে। সাধারণত যারা ওকে নক দেয়, এসবের জন্যই বেশি দেয়। উত্তরায় আমার বাসার কাছাকাছিই দেখা হয় প্রথম। এরপর তো আমাদের প্রেম গাঢ় হয়। বিয়েতেও বেশ ঝামেলা হয়েছিল। বাবা কেস করে দেয় ওর নামে। তবে আমাদের ভালোবাসাটা বেশ মজবুত ছিল এবং আছে। যে কারণে বাইরের কোনো ঝামেলাই কখনো সম্পর্কে বাধা হতে পারেনি। এখন তো দুই মেয়ের    মা-বাবা আমরা। সব কিছুই আসলে আমাদের কাছে অনেক প্রাপ্তির।

অনুলিখন : ইসমাত মুমু

 

এখনো আপনি করে বলি

নাজিয়া হাসান অদিতি

এক কমন ফ্রেন্ডের মাধ্যমে আমাদের পরিচয়। পরে একটা বিয়েতে দেখা হয়। কয়েক দিন পরই ফেসবুকে অ্যাড হই। এটা ২০০৭ সালের ঘটনা। ২০১১ সালে আমাদের বিয়ে হয়। মাঝখানে অনেক গ্যাপ ছিল। পরিচয়ের শুরুতে জানতাম তিনি বড় তারকা। তবে তাঁর কোনো নাটক তখনো দেখিনি। প্রথম দেখি ২০০৮ সালে, ‘এক্স ফ্যাক্টর’। এখন তো তাঁর অভিনয়ের ফ্যান। শুরুতে আমাদের কথা হতো কালেভদ্রে। যেমন—আমার দাদি অসুস্থ, তখন হয়তো তাঁকে সেটা জানাতাম। তিনি আবার খোঁজখবর নিতেন। আমি কিন্তু এখনো তাঁকে আপনি করে বলি! তাঁর পুরনো দিনের রীতি-রেওয়াজ ভালো লাগে। অনেকেই হয়তো বলবেন, আমাদের আন্ডারস্টান্ডিং ভালো না। অনেকে আমাকে বলেন, তুমি কি খুব ভয় পাও? তাই আপনি করে বলো? আসলে এটা ভয়ের কোনো ব্যাপার না। আমরা আর দশটা হাজব্যান্ড অ্যান্ড ওয়াইফের মতোই। তাঁর কাজ থাকে, আমিও আমার কাজ করি। দরকারে কল দিই। সময় বের করে একসঙ্গে ঘুরতে বের হই। তিনি অনেক রাগী। তবে রাগটা পুষে রাখেন না। ব্যাড মেমোরিজ একেবারে রাখেন না। যত রাতেই শুটিং করে ফিরুন না কেন, তখন থেকেই আমাদের জীবন শুরু হয়—একসঙ্গে খাওয়া, গল্প করা, মুভি দেখা। বাইরের কোনো ক্রাইসিস আমাকে বলেন না। অনেকেই বলেন, অপূর্ব রোমান্টিক নাটক করে, তার অনেক ভক্ত আছে, বিশেষ করে মেয়ে ভক্ত। ফেসবুকে আমার অনেক ছবিতে মেয়েরা কমেন্ট করে ‘হি ইজ মাইন’, ‘আই হেট ইউ’, ‘আই জেলাস ইউ’। আমি কখনোই তাদের ইগনোর করি না। বরং তাদের কমেন্টে লাইক দিই। আমাকে যদি কেউ জেলাসই না করে তাহলে অপূর্বর সাকসেস কী! ছেলে আয়াশকে নিয়ে আমরা ভালোই আছি।

মন্তব্য