kalerkantho


জমজমাট থ্রিলার

হালে বিবিসির থ্রিলার মিনি সিরিজগুলো দারুণ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। তবে ‘বডিগার্ড’ যেন ছাড়িয়ে গেছে আগের সব কটিকে। বছরের অন্যতম জনপ্রিয় সিরিজটি নিয়ে লিখেছে নাসরিন হক

১৫ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



জমজমাট থ্রিলার

২০১৬ সালে বিবিসির ছয় পর্বের থ্রিলার মিনি সিরিজ ‘দ্য নাইট ম্যানেজার’ ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। সেটা এতটাই যে এক সিজনেই শেষ ঘোষণা দেওয়ার পরও দর্শকদের অনুরোধে ফের দ্বিতীয় সিজন করতে ‘বাধ্য’ হচ্ছেন নির্মাতা। এ বছর আগস্টে প্রচার শুরু হওয়া ‘বডিগার্ড’ যেন হাঁটছে সে পথেই। আগেরটির মতো এটিও থ্রিলার, এটির পর্বও ছয়টি। গল্প ব্রিটিশ পুলিশ সার্জেন্ট ডেভিড বাডকে নিয়ে। আফগানিস্তানের যুদ্ধের ময়দানে দায়িত্ব পালন করা বাড এখন ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেহরক্ষী। এক ব্যক্তিগত সফর থেকে ফেরার সময় ট্রেনে আত্মঘাতী হামলার চেষ্টাকালে এশীয় বংশোদ্ভূত নারীকে আটকাতে সক্ষম হয় বাড। এর পর থেকেই ঘটতে থাকে নানা ঘটনা। বাডের সন্তানরা যে স্কুলে পড়ে তার খুব কাছে বোমা হামলা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে হত্যার চেষ্টা করা হয়। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই ফের হামলা। এবার অনেক চেষ্টা করেও বাড বাঁচাতে পারে না তাকে। ব্যর্থতায় মুষড়ে পড়ে সে। কিন্তু সবই কি বিচ্ছিন্ন ঘটনা? এই নিয়েই এগিয়েছে গল্প। এখানেই শেষ নয়, তদন্তের একপর্যায়ে জানা যায়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কেও জড়িয়েছিল বাড! প্রধান চরিত্র ডেভিড বাট করেছেন রিচার্ড মাডেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকায় কেলি হাওয়েজ। দারুণ সফল এই সিরিজ দুজনের ক্যারিয়ারেই নতুন মাত্রা যোগ করেছে। যেমনটা হয়েছিল টম হিডলস্টনের ক্ষেত্রে। ‘দ্য নাইট ম্যানেজার’-এ তাঁর দারুণ পারফরম্যান্সের পর তাকে জেমস বন্ড করারও দাবি উঠেছিল। তেমনটা হয়েছে রিচার্ডের সঙ্গে। হুট করেই ভক্তসংখ্যা বেড়ে গেছে কয়েক গুণ। অভিনেতা ভীষণ উপভোগ করছেন ব্যাপারটা, ‘সব কিছু যেন রাতারাতি বদলে গেছে। এখন বাইরের সব মানুষই আমাকে চিনতে পারে।’ গল্পের দারুণ বুনট আর টানটান নির্মাণই সিরিজটির জনপ্রিয়তার মূল কারণ মনে করেন অভিনেতা। ২০০২ সালের পর বিবিসির সবচেয়ে বেশি ভিউয়ার পাওয়া সিরিজ এটি। শেষ পর্বটি তো ভেঙে দিয়েছে সর্বকালের ভিউয়ারশিপের রেকর্ড। ষষ্ঠ পর্বটি প্রচারের সময় একসঙ্গে এটি দেখেছে ব্রিটেনের এক কোটি ৪০ লাখ দর্শক। ব্রিটেনে এত দর্শক একসঙ্গে কোনো একটি টিভি অনুষ্ঠান দেখেছে শুধু বিশ্বকাপ ফুটবলের সময়। শুধু সাধারণ দর্শকই নয়, সমালোচকরাও পছন্দ করেছে ‘বডিগার্ড’। ‘রটেন টমাটোজ’-এ ১০-এর মধ্যে প্রায় ৯-এর মতো স্কোর করেছে। ব্রিটেনে দারুণ জনপ্রিয়তার পর এর স্বত্ব কিনে নেয় ‘নেটফ্লিক্স’। ফলে বিশ্বজুড়ে দর্শকরা সহজেই দেখতে পারছে সিরিজটি। প্রথম সিজনের এত ভালো সাড়া পাওয়ার পর নির্মাতা ভাবছেন পরের সিজন নিয়ে, যদিও আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি এখনো। সিরিজটির পুরো শুটিং হয়েছে যুক্তরাজ্যেই।



মন্তব্য