kalerkantho


জাদুর খোঁজে প্যারিসে

‘হ্যারি পটার’ সিরিজের শেষ ছবি মুক্তি পেয়েছে বেশ কয়েক বছর। হ্যারি ভক্তরা অবশ্য এখনো ডুবে আছে জাদুর দুনিয়ায়। তাদের জন্য জে কে রাওলিংয়ের নতুন উপহার ‘ফ্যান্টাস্টিক বিস্টস’ সিরিজ। ২০১৬ সালে প্রথম কিস্তির পর আগামীকাল মুক্তি পাচ্ছে দ্বিতীয়টি—‘ফ্যান্টাস্টিক বিস্টস : ক্রাইমস অব গ্রিন্ডেলওয়াল্ড’। ছবিটি নিয়ে লিখেছেন হাসনাইন মাহমুদ

১৫ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



জাদুর খোঁজে প্যারিসে

বইয়ের দোকানে প্রথমবারের মতো হ্যারি পটারের বই শোভা পাওয়ার পর একে একে কেটে গেছে ২১টি বছর। সাতটি বেস্টসেলার বই আর আটটি ব্লকবাস্টার চলচ্চিত্র জাদুকর কিশোর হ্যারি পটারকে বিশ্বজুড়ে পরিণত করেছে জনপ্রিয় এক চরিত্রে। স্রষ্টা জে কে রাওলিংও পৌঁছে গেছেন অন্য উচ্চতায়। হ্যারির গল্প শেষ হলেও শেষ হয়নি জাদু দুনিয়ার গল্প। ২০১৬ সালে রুপালি পর্দায় আসে ‘ফ্যান্টাস্টিক বিস্টস অ্যান্ড হয়ার টু ফাইন্ড দেম’। হ্যারির জন্মের অনেক আগের এই গল্প নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্রটি বক্স অফিস থেকে তুলে নেয় প্রায় সাড়ে আট শ মিলিয়ন ডলার! তাই তো প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এবং জে কে রাওলিং ট্রিলজি থেকে এক লাফে পাঁচ পর্বের চলচ্চিত্রের সিরিজে পরিণত করার পরিকল্পনা করেন। এরই ধারাবাহিকতায় সিরিজের প্রথম কিস্তি মুক্তির ঠিক দুই বছর পর আসছে দ্বিতীয়টি—‘ফ্যান্টাস্টিক বিস্টস : ক্রাইমস অব গ্রিন্ডেলওয়াল্ড’।

পূর্ববর্তী পর্বটির গল্প আমেরিকার পটভূমিতে হলেও এবার গল্প প্যারিসকে কেন্দ্র করে। আগের পর্বের মুখ্য চরিত্র সেই জাদুর প্রাণিবিদ নিউট স্ক্যামান্ডারকে দেখা যাবে ফ্রান্সের রাজধানীতে একের পর এক দুর্ধর্ষ অ্যাডভেঞ্চারে জড়াতে। ওদিকে কালো জাদুকর গেলার্ট গ্রিন্ডেলওয়াল্ড নিজেকে মুক্ত করার পর অনুচরদের জড়ো করতে থাকে। উদ্দেশ্য একটাই, জাদুকরদের হয়ে সাধারণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে তাদের বিলুপ্ত করা। এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধেই লড়াইয়ে নামে নিউট স্ক্যামান্ডার। এ লড়াইয়ে তার সঙ্গী হয় হ্যারির সেই প্রিয় হেডমাস্টার আলবাস ডাম্বলডোর। পূর্ববর্তী পর্বের মতোই নিউট স্ক্যামান্ডার চরিত্রে দেখা যাবে অস্কারজয়ী অভিনেতা এডি রেডমেইন এবং কালো জাদুকর গ্রিন্ডেলওয়াল্ড চরিত্রে জনি ডেপকে। ডাম্বলডোর চরিত্রে আছেন জুড ল। চলচ্চিত্রটিতে আরো দেখা যাবে ক্যাথেরিন ওয়াটারসন, ড্যান ফগলার, অ্যালিসন সুডল, এজরা মিলারকেও। আবারও পরিচালকের চেয়ারে আছেন ডেভিড ইয়েটস। 

চলচ্চিত্রটির মুক্তি নিয়ে বিশ্বজুড়ে ভক্তদের উন্মাদনার শেষ নেই। মূল সিরিজে দেখা দেওয়া অথবা উল্লিখিত বেশ কয়েকটি চরিত্রের উপস্থিতি নিয়েই এই উত্তেজনা। আলবাস ডাম্বলডোরের যৌবনের সেই উত্তেজনায় ঠাসা দিনগুলো তো আছেই, পাশাপাশি দেখা যাবে বিখ্যাত আলকেমিস্ট নিকোলাস ফ্লামেলকেও। প্রথম বইয়ের কাহিনি যে পরশপাথরকে ঘিরে, সেই পরশপাথরের মালিক এই নিকোলাস ফ্ল্যামেল। পাশাপাশি লর্ড ভোল্ডেরমর্টের সেই ভয়াল সাপ নাগিনির শুরুর গল্পও রূপায়িত হয়েছে এ চলচ্চিত্রে। ছবির আরেক প্রধান চরিত্র লেটা লেসট্রেঞ্জ যে কিনা আবার ভোল্ডেমর্টের অন্যতম প্রধান অনুচর বেল্লাট্রিক্সের আত্মীয়। তবে ভক্তরা অপেক্ষায় আছে, হয়তো হ্যারি পটারের কোনো পূর্বপুরুষকে দেখা যাবে পর্দায়। অনেকে তো ট্রেলারটি চুলচেরা বিশ্লেষণ করে এ সিদ্ধান্তেও চলে এসেছে যে ছবিতে হ্যারির দাদা ফ্লিমন্ট পটারকেও দেখতে পাওয়া যাবে।

প্রথম চলচ্চিত্রটি মুক্তির পর থেকেই জল্পনা চলছিল দ্বিতীয়টির যুবক ডাম্বলডোরকে নিয়ে। ডাম্বলডোর চরিত্রে জুড লর রূপায়ণ ভক্তদেরও খুশি করেছে। ‘হ্যারি পটার’ সিরিজে এ চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন রিচার্ড হ্যারিস ও মাইকেল গ্যাম্বন। ভক্তকুল তাই খুব সংশয়ে ছিল চরিত্রটি না আবার বেহাতে নষ্ট হয়ে যায়। তবে জুড ল যে তাঁর সর্বোচ্চটুকু দিয়েই চেষ্টা করেছেন তা বলার অপেক্ষা রাখে না। জুড লর চরিত্রটির প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ পায় এডি রেডমেইনের কথায়ই, ‘তার চোখ, মুখ সবই যেন ছিল রাওলিংয়ের লেখা উপন্যাসের সেই চরিত্র।’ জুড ল নিজেও বেজায় উচ্ছ্বসিত চরিত্রটি নিয়ে, ‘চরিত্রটিকে ভালোবেসে পর্দায় তুলে আনাটাই ছিল গর্বের বিষয়।’

গ্যালার্ট গ্রিন্ডেলওয়াল্ড চরিত্রে জনি ডেপের রূপায়ণকে অনেকেই ভালো চোখে দেখেনি। সম্প্রতি একের পর এক নানা কেলেঙ্কারিতে জড়ানো ডেপের বিরুদ্ধে ছিল অনেক পাঁড় পটার ভক্তরাও। তবে তার ওপর সম্পূর্ণ ভরসা রেখেছিলেন লেখিকা রাওলিং। তিনি যে একদম ঠিক ছিলেন, তার প্রমাণ মেলে সমালোচকদের কথায়। বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে সবার মুখে একটাই কথা— ‘গ্রিন্ডেলওয়াল্ড একজনই, সে জনি ডেপ।’



মন্তব্য