kalerkantho


প্রথম স্কুল

জীবনের প্রথম স্কুল ঘিরে সবারই আবেগ-অনুভূতি একটু বেশি। নিজেদের প্রথম স্কুলের স্মৃতি শেয়ার করেছেন তাহসান, মিলন মাহমুদ, নিশীতা ও কর্ণিয়া। লিখেছেন রবিউল ইসলাম জীবন

৮ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



প্রথম স্কুল

তাহসান খান

এক বন্ধুর সঙ্গে ঝগড়া করেছিলাম

তাহসান

ইস্কাটনের ‘এজি চার্চ স্কুল’ আমার জীবনের প্রথম স্কুল। নার্সারি থেকে ক্লাস টু পর্যন্ত পড়েছিলাম সেখানে। আম্মু আমাকে স্কুলে দিয়ে যেতেন। সে বয়সে ফাঁকিবাজির বিষয়টি মাথায় ঢোকেনি। তাই পড়াশোনা ঠিকমতোই করতাম। খেলাধুলার প্রতিও ঝোঁক ছিল। তখন নতুন কিছু খেলা শিখেছিলাম—ছোঁয়াছুঁয়ি, বরফপানি, টিলো-স্পেস প্রভৃতি। ক্লাসের ফাঁকে ফাঁকে খেলাগুলো খেলতাম। স্কুলে একটা সুইমিংপুল ছিল। সেখানেও দাপাদাপি করতাম। আমাদের স্কুলের একজনকে দেখতাম ‘নাতিখাতি বেলা গেল’ গানটি গাইত। আম্মু প্রতিদিন কোনো না কোনো টিফিন দিত। সবচেয়ে বেশি নেওয়া হতো আলুর চিপস। ক্লাসে একবার এক বন্ধুর সঙ্গে ঝগড়া করেছিলাম। সেটা এখনো মনে আছে। কিন্তু কী নিয়ে, কেন সেই ঝগড়া হয়েছিল, সেটা এখন মনে নেই।


মিলন মাহমুদ

পেয়ারা, হরীতকী নিয়ে এসে একে অন্যকে খাওয়াতাম

মিলন মাহমুদ

আমার গ্রামের বাড়ি খুলনার বাগেরহাটে। সেখানকার ধরাদোয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় আমার জীবনের প্রথম স্কুল। ক্লাস থ্রি পর্যন্ত স্কুলটিতে পড়েছিলাম। তারপর ঢাকায়। প্রথম দিন স্কুলে যাওয়ার বিষয়টি সেই বয়সে আমাকে একটা ঘোরের মধ্যে নিয়ে গিয়েছিল! সেখান থেকেই শুরু হলো বন্ধু বানানো। ক্লাসের কেউ কারো সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে চাইলে বাড়ি থেকে পেয়ারা, হরীতকী নিয়ে এসে একে অন্যকে খাওয়াতাম। সেটা ছিল অনেক আবেগের একটা বিষয়। এখনকার বন্ধুত্বের মধ্যে এমন প্রাণের স্পর্শ নেই। প্রথম স্কুলের বন্ধুদের মধ্যে পরে সবচেয়ে বেশি যোগাযোগ ছিল ওয়ালিদের সঙ্গে। সে এখন সম্ভবত দুবাইয়ে। স্কুল মাঠ, ঘুরে বেড়ানো, ডানা মেলার সেই দিনগুলো এখনো চোখে ভাসে। ছেড়ে আসার পর ২০-২৫ বছর আগে জীবনে একবারই সে স্কুলে যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল। তবে মনে মনে বারবার সেখানে ফিরে যাই। সেই ছোটবেলাটা এখনো খুঁজে বেড়াই।


নিশীতা বড়ুয়া

অনেক কম কথা বলতাম

নিশীতা বড়ুয়া

আমার জীবনের প্রথম স্কুল কুমিল্লা কান্দিরপাড়ের   নিবেদিতা কিন্ডারগার্টেন। সেখানে দুই বছর পড়েছিলাম। ক্লাস ওয়ান ও টু। ঠাকুরমা হাত ধরে নিয়ে যেতেন, নিয়ে আসতেন। ক্লাস হতো সকাল ৭টা থেকে ১০টা পর্যন্ত। অনেক সময় এত সকালে উঠতে পারতাম না। বাসার সবাই জোর করে উঠিয়ে দিতেন। স্কুলের পাশেই আমার এক আন্টির বাসা ছিল। তিনি আবার সেই স্কুলের টিচার ছিলেন। ক্ষুধা লাগলে তার বাসায় চলে যেতাম। খেয়েদেয়ে আবার স্কুলে আসতাম। বড় হয়ে অনেক দুষু্ব হলেও প্রথম স্কুলে থাকতে অনেক কম কথা বলতাম। তবে ক্লাসের পড়াটা ঠিকই পড়ে যেতাম। সেটা মা-ই শিখিয়ে দিতেন। বড় হয়ে এক-দুইবার সে স্কুলে গিয়েছি পূজা দেখতে। যখন পেছনের জীবনের স্মৃতিগুলো ভাবি তখন স্কুলটির কথাও মনে পড়ে।   এই এখন যেমন ইচ্ছে করছে উড়াল দিয়ে স্কুলটিতে যাই!


জাকিয়া সুলতানা কর্ণিয়া

সবাই আমার টিফিন খেয়ে ফেলত

কর্ণিয়া

আমার প্রথম স্কুল ‘বিএএফ শাহীন স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ কুর্মিটোলা। ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত এই স্কুলে পড়েছি। স্কুলজীবনের এমন সব গল্প আছে, যা বলে শেষ করা যাবে না। ক্লাস টুর ঘটনা। আমি তখন সকালবেলা শিউলি ফুল কুড়াতাম। একদিন সকালে শিউলি ফুল কুড়াতে কুড়াতে ওখান থেকেই বান্ধবীর সঙ্গে ক্লাসে চলে যাই। নাশতার কথা ভুলেই গিয়েছিলাম। ক্ষুধায় সেদিন ক্লাসে মাথা ঘুরে পড়ে গিয়েছিলাম! এরপর থেকে আম্মু ব্যাগে  টিফিন দিয়ে দিতেন। প্রতিদিন বাসায় এলে চেক করতেন খেয়েছি কি না। আমার খেতে ইচ্ছা করত না। এ জন্য আম্মুর বকা শুনতে হতো। এরপর থেকে টিফিনগুলো বন্ধুদের দিয়ে শেষ করতাম। কিছুদিন পর সবাই নিজ থেকেই আমার টিফিন খেয়ে ফেলত। এত শুকনা ছিলাম যে ব্যাগ কাঁধে নিলে আমাকে আর দেখা যেত না। অন্যদের ব্যাগ তাদের গার্ডিয়ানরা বহন করলেও মা বললেন, আমারটা আমাকেই নিতে হবে। এভাবেই নিয়ম শিখতে হবে। একদিন এক আন্টি আমাকে নিয়ে আফসোস করে বলছিলেন, ‘মেয়েটা এত ছোট, শুকনা। অথচ তার মা তাকে এত বড় একটা ব্যাগ দিয়ে রেখেছেন। এটা কোনো কথা হলো?’ কথাটা তিনি যার কাছে বলেছিলেন তিনিই ছিলেন আমার মা!



মন্তব্য