kalerkantho


কী জাদু আয়ুষ্মানে?

২০১৮ সালে বলিউডে দর্শক-সমালোচক পছন্দের দুই ছবি ‘আন্ধাধুন’ আর ‘বাধাই হো’ দিয়ে বছরের সবচেয়ে সফল অভিনেতাদের একজন তিনি। গেল বছরও দারুণ কেটেছিল আয়ুষ্মান খুরানার। কিন্তু কী তাঁর সাফল্য রহস্য? লিখেছেন ফাবিহা তনিকা

৮ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



কী জাদু আয়ুষ্মানে?

‘আপনার সাফল্যের রহস্য কী’—বাঁধাধরা এই প্রশ্নের উত্তর শুনে রহস্যময়ভাবে আয়ুষ্মান তাঁর নামের ইংরেজি বানান দেখতে বলেন। সেখানেই নাকি তাঁর সব সাফল্যের সূত্র নিহিত। ডাবল ‘এন’ আর ডাবল ‘আর’ দিয়ে অভিনেতার নামের বানান একটু অদ্ভুতই বটে। ঘটনা হলো অভিনেতার বাবা পেশাদার জ্যোতিষী। তিনিই অনেক হিসাব-নিকাশ করে ছেলের নামের বানান এভাবে দিয়েছেন। এতে নাকি সাফল্য নিশ্চিত! বাবার কথা যে বিফলে যায়নি সে তো দেখাই যাচ্ছে। ২০১৭, ২০১৮ টানা দুই বছর বলিউডের সবচেয়ে সফল অভিনেতার একজন তিনি। অথচ অনেক বিশেষজ্ঞই তাঁর শেষ দেখে ফেলেছিলেন ‘হাওয়াইজাদে’ মুক্তির পর। কিন্তু এর ঠিক ২৭ দিনের মাথায় ‘দম লাগাকে হেইসা’ দিয়ে সবার মুখ বন্ধ করে দেন তিনি; যদিও সুজিত সরকারের ‘ভিকি ডোনার’ দিয়ে শুরুটা ভালোই ছিল। কিন্তু সমালোচকরা তাঁকে লম্বা রেসের ঘোড়া মনে করেননি। তাঁর গান গাওয়া, ভিজে ক্যারিয়ারের দিকে ইঙ্গিত করে বলা হয়েছিল—সে হচ্ছে সেই ক্রিকেট খেলোয়াড়ের মতো যে একটু ব্যাটিং, একটু বোলিং পারে; আসলে কিছুই পারে না। এদের দিয়ে টি-টোয়েন্টি খেলা যায়, টেস্ট ম্যাচ সম্ভব নয়। কিন্তু আয়ুষ্মান মনে করেন গান, আরজে তাঁর দুর্বলতা নয়, ‘আমি ঠিক ছবিটা নির্বাচন করতে পারি, এটা নিয়ে আমার গর্বও আছে। আমি সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রচুর মিশেছি। দীর্ঘদিন রাস্তায় পথনাটক করেছি, লোকাল ট্রেনে গিটার বাজিয়ে পয়সা তুলেছি। আমি জানি সাধারণ দর্শক কী চায়। সে জন্যই আমার নির্বাচন করা ছবির সঙ্গে দর্শক একাত্ম হতে পারে,’ বলেন অভিনেতা। গেল বছর তাঁর ‘বেরেলে কি বরফি’ আর ‘শুভ মঙ্গল সাবধান’ সফল। এবার তিনি বাজিমাত করেছেন ‘আন্ধাধুন’ আর ‘বাধাই হো’ দিয়ে। প্রথমটি থ্রিলার, যেখানে অন্ধ পিয়ানো বাদকের চরিত্রে আয়ুষ্মান জীবনের সেরা অভিনয় করেছেন বলে মনে করেন অনেক সমালোচক। অনুপমা চোপড়ার মতে, ভারতে এ ধরনের থ্রিলার নির্মিত হয়নি। এই সাফল্যের রেশ কাটতে না কাটতে একই মাসে মুক্তি পায় ‘বাধাই হো’; যা অভিনেতার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে ব্যবসাসফল ছবি। তবে এ ছবির সাফল্যের পর আরেকটা প্রশ্নও উঠেছে—শুধু মধ্যবিত্ত যুবকের চরিত্রই করে যাবেন আয়ুষ্মান? উত্তরে অভিনেতা বলেন, “আমি তো সবই করতে চাই। ‘আন্ধাধুন’-এ আমি কিন্তু মধ্যবিত্ত যুবক নই, একেবারেই অন্য চরিত্র। অনেকে ভাবে শুধু ইন্ডি ঘরানার ছবিই করব। আসলে তা নয়, আমি পুরোমাত্রায় বাণিজ্যিক ছবিও করতে চাই। কিন্তু সেখানেও কিছু না কিছু নতুনত্ব থাকতে হবে।”

আয়ুষ্মানের আরেক গুণ—আপাতদৃষ্টে খানিকটা ‘গোপনীয়’ চরিত্র করতেও তিনি স্বাচ্ছন্দ্য। যেমন ‘ভিকি ডোনার’-এ তিনি ছিলেন স্পাম ডোনার, তেমনি ‘শুভমঙ্গল সাবধান’-এ করেছেন যৌনজীবনে অক্ষম এক যুবকের চরিত্র। অভিনেতা বলেন, ক্যামেরার সামনে তিনি কোনো কিছু করতেই পরোয়া করেন না, সমকামী চরিত্র হলেও এক কথায় রাজি হয়ে যাবেন।

আয়ুষ্মান কোনো সিনেমা পরিবার থেকে আসেননি, সেই অর্থে বলিউডে তত যোগাযোগও নেই। তার পরও টানা দুই বছর বলিউডের অনেক বড় নামকে টপকে গেছেন। সাফল্যে মাথা ঘুরে যাবে না তো? ‘আমার চারপাশে অনেক মানুষ আছে, যারা সত্যিটা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। তারা আমার আয়না। তাই আমি জানি আমি কিছুই না,’ বলেন অভিনেতা।



মন্তব্য