kalerkantho


লাকি আলীর সফরনামা

হিন্দি গানের জগতে ৪০ বছর পার করে চুলে পাক ধরেছে। মনেপ্রাণে এখনো তরুণ লাকি আলীর জনপ্রিয় গানের মধ্যে আছে ‘ও সানাম’, ‘না তুম জানো না হাম’, ‘দেখা হ্যায় অ্যায়সে ভি’, ‘আ ভি যা’, ‘জানে কেয়া’ ইত্যাদি। সামনেই বের করছেন অষ্টম স্টুডিও অ্যালবাম, যেখানে গেয়েছেন নিজের মেয়ের সঙ্গে। লিখেছেন পার্থ সরকার

১১ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



লাকি আলীর সফরনামা

বলিউডে আপনার শুরু কিভাবে?

আমার বাবা মেহমুদ ছিলেন ওই সময়ের ব্যস্ত অভিনেতা-পরিচালক। ১৯৭৮ সালে তাঁর পরিচালনায় ‘এক বাপ ছে বেটে’ চলচ্চিত্রে ‘ওয়াকিং অল অ্যালোন’ গাওয়ার মাধ্যমে বলিউড প্লেব্যাকে অভিষেক। সেখানে অভিনয়ও করেছিলাম। এরপর দ্বিতীয় গান ‘দুশমন কা দুনিয়া’র ‘নেশা নেশা’। তবে ২০০০ সালের ‘কহো না পেয়ার হ্যায়’ ছবির ‘না তুম জানো না হাম’ই আমাকে জনপ্রিয়তার কাতারে বসিয়ে দেয়।

 

আপনার প্রথম অ্যালবাম সুনোহ তখন খুব জনপ্রিয় হয়েছিল।

আমার পপ ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল ১৯৯৬ সালে ‘সুনোহ’র মাধ্যমে। ভারতে তখন এমটিভির জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। ইন্ডিপপ ঘরানার গান জনপ্রিয় হচ্ছে দেদার। মিসরের পিরামিডের সামনে প্রথম মিউজিক ভিডিওর শুটিং করেছিলাম। ভাবতেই ভালো লাগে। তখন ভারতে পপগানের জয়জয়কার। সেই জোয়ার এখন নেই। তবে সেই সময়টা খুব মিস করি অন্য কারণে। তখন আমি চাইলেই যেখানে-সেখানে যার-তার সঙ্গে মিশে যেতাম। জীবনকে উপভোগ করতাম।

 

আপনাকে তো শুরু থেকে সবাই যাযাবর হিসেবে চেনে।

তখন জীবন ছিল অন্য রকম। যখন যেখানে ইচ্ছা হতো চলে যেতাম ব্যাগপ্যাক কাঁধে নিয়ে। সঙ্গে অবশ্যই গিটার। এত এত জায়গায় ঘুরেছি, যা অনেকে কল্পনাও করতে পারবে না। সেটা এখন কমে গেছে। ওই সময়ই গানের পাশাপাশি কৃষিকাজ, বনায়ন ইত্যাদি সামাজিক কাজের সঙ্গে যুক্ত হই নিজের আগ্রহ থেকে।

 

ক্যারিয়ার নিয়ে আপনি খুশি?

আমার বিশ্বাস হয় না যে গানের জগতে ৪০ বছর কাটিয়ে দিয়েছি। মনে হয়, এই তো সেদিন প্রথম অ্যালবাম ‘সুনোহ’র কাজ করলাম। তবে আমি খুশি যে এত বছরে অনেক গান করেছি। গানের সঙ্গে কখনো অবিচার করিনি, সর্বোচ্চ সম্মান দিয়ে কাজ করেছি। আমি আগেও গান গাইতাম, এখনো গাই। তবে আসল পার্থক্য হলো, এখন অনেক ধরনের মিউজিক্যাল ইনস্ট্রুমেন্ট এবং নিজের একটা স্টুডিও আছে। আমি আজও শিখছি। আমৃত্যু এই শেখা শেষ হবে বলে মনে হয় না।

 

সফরনামা ট্যুর শুরু করলেন মুম্বাই থেকে...

৬ অক্টোবরই শুরু করলাম কনসার্ট ট্যুর ‘সফরনামা’। নামটি নিয়েছি ২০১৫ সালে ‘তামাশা’ ছবিতে গাওয়া জনপ্রিয় গান থেকে। প্রথম কনসার্ট করলাম জন্মস্থান মুম্বাইয়ে। শৈশব-কৈশোরের অনেক স্মৃতি এই শহরকে ঘিরে। সেভাবে বসবাস না করলেও মুম্বাইয়ের সঙ্গে আমার খুব প্রেম। তাই শারীরিকভাবে না থাকলেও মুম্বাইতে আমি মানসিকভাবে সব সময় আছি, থাকব।

 

নতুন অ্যালবামের কাজ কত দূর? মেয়ের সঙ্গেও গান করেছেন।

ইসরায়েলের মিউজিশিয়ান এলিজার সংগীতায়োজনে নতুন অ্যালবামের কাজ শেষ। প্রথমবারের মতো মেয়ে তাসমিয়ার সঙ্গে গান করলাম। তাসমিয়ার গায়কি অসাধারণ। আমি ওর ভক্ত হয়ে গেছি। গানটিতে আমি আর তাসমিয়া গেয়েছি আরবি ও ইংরেজি অংশ। আর এলিজা ও তার মেয়ে গেয়েছে হিব্রু অংশ। সামনেই অ্যালবামটি আমেরিকা থেকে প্রকাশ পাবে।

 

মেয়ে কি বাবার গান গায়?

তাসমিয়া আমার গান জানে, পছন্দ করে, কিন্তু গায় না। ওর গানের নিজস্ব একটা ধরন আছে। গাওয়ার পাশাপাশি লেখে, ছবি আঁকে। আমার মতো খুব ভালো রান্না করে। সব মিলিয়ে পুরোদস্তুর শিল্পী।

 

এত বছরের ক্যারিয়ার, আফসোস আছে কোনো কিছু নিয়ে?

গান নিয়ে কোনো আফসোস নেই। মানুষের যে ভালোবাসা পেয়েছি তা অতুলনীয়। আমি নিজেকে খুব সৌভাগ্যবান মনে করি। তবে হ্যাঁ,  দুঃখবোধ আছে। বিভিন্ন সময় আমি অভিনয় করার চেষ্টা করেছিলাম। সেটা আমার জায়গা থেকে ভুল সিদ্ধান্ত ছিল।

আবার মাঝে মাঝে মনে হয়, অভিনয় না করলে একটা অধ্যায় হয়তো অজানাই থেকে যেত।

 

তথ্যসূত্র : ডিএনএ ইন্ডিয়া টাইমস অব ইন্ডিয়া, ইন্টারনেট

 

 



মন্তব্য