kalerkantho

পূজার ৬

গোয়েন্দা, কমেডি থেকে শিশুতোষ—এবার পূজায় ওপার বাংলায় মুক্তি পাচ্ছে নানা স্বাদের ছয় ছবি। সিনেমাগুলো নিয়ে লিখেছেন লতিফুল হক

১১ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



পূজার ৬

হইচই আনলিমিটেড

এক যে ছিল রাজা

ভাওয়াল রাজাকে নিয়ে ছবি। সেই চেনা রাজকুমার রমেন্দ্রনারায়ণের গল্প, যে মৃত্যুর ১০ বছর পরে ফিরে আসে! নিজের রাজত্ব দাবি করে। যা নিয়ে মামলা-মোকদ্দমাসহ নানা কিছু হয়। বিখ্যাত এই ঘটনা নিয়ে সিনেমা, টিভি সিরিয়াল—অনেক কিছুই হয়েছে। ফের কেন এটা ছবি করছেন সৃজিত মুখোপাধ্যায়? “আগে অনেক কিছুই হয়েছে, কিন্তু আমার মতো করে কেউ করেনি। আমি সত্য ঘটনা তুলে আনতে চেয়েছি। সেই সময় আসলে কী হয়েছিল, সেটা নিয়ে কেউ কাজ করেনি। মূলত পার্থ চ্যাটার্জির ‘আ প্রিন্সলি ইমপোস্টার’ পড়ার পর থেকেই এটা করতে চেয়েছি,” বলেন পরিচালক। ছবিতে ভাওয়াল রাজার চরিত্র করেছেন যিশু সেনগুপ্ত, যাকে নানা কারণে তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন চরিত্রগুলোর একটি বলছেন অভিনেতা, ‘কৌপীন পরে অনেক দৃশ্য করতে হয়েছে। শুধু পোশাকের জন্য নয়, এই চরিত্র করতে গিয়ে শারীরিক, মানসিক নানাভাবে আমাকে পরীক্ষা দিতে হয়েছে।’ ছবিতে আছেন জয়া আহসানও। ভাওয়াল রাজার বোন তিনি। তবে ছবির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আদালতের অংশটুকু, যেখানে দুই পক্ষের আইনজীবীর ভূমিকায় অঞ্জন দত্ত আর অপর্ণা সেন। বহুদিন পর একসঙ্গে এ দুই অভিনেতার কাজ দেখতে মুখিয়ে আছে দর্শক। ‘এক যে ছিল রাজা’র শুটিং হয়েছে মুর্শিদাবাদ, জয়সলমীর, বেনারস ও গ্যাংটকে।

 

ব্যোমকেশ গোত্র

টানা দুই সফল ‘ব্যোমকেশ’ ছবির পর তৃতীয়টি ‘ব্যোমকেশ গোত্র’ নিয়ে হাজির হচ্ছেন অরিন্দম শীল। এবারেরটি তৈরি হয়েছে শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘রক্তের দাগ’ অবলম্বনে। ব্যোমকেশ-সত্যবতীর চরিত্রে আবির চ্যাটার্জি ও সোহিনী সরকার থাকলেও বদল এসেছে অজিতে। এই চরিত্রে আগে ঋত্বিক চক্রবর্তী ছিলেন, এবার করেছেন রাহুল ব্যানার্জি। ছবির গল্পকে পরিচালক নিয়ে ফেলেছেন মুসৌরিতে। ‘আমরা ব্যোমকেশকে একটা ট্র্যাভেললগের মতো করতে চাইছি। ভারতে ব্রিটিশদের হাতে গড়া যে শৈলশহরগুলো প্রায় আগের মতোই আছে, উত্তরাখণ্ডের মুসৌরি তার একটা। এ জন্যই ওখানে যাওয়া। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অসাধারণ, দর্শক চোখ ফেরাতে পারবেন না,’ বলছেন পরিচালক। ছবির গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র করেছেন অঞ্জন দত্ত, যিনি নিজেই বেশ কয়েকটি ব্যোমকেশ ছবি পরিচালনা করেছেন। এ নিয়ে অঞ্জন-অরিন্দম দ্বন্দ্বও ছিল। অরিন্দম বলছেন, সব ভুলে তাঁরা এখন একদলে, ‘অঞ্জন বলেছেন আমি ওঁর চেয়ে বেটার ব্যোমকেশ করছি। এ জন্য উনি আর ব্যোমকেশ ছবি বানাবেন না। এমনকি আমার খুব প্রিয় কিন্তু স্বত্ব অঞ্জনদার কাছে আছে, সেই ‘দুর্গারহস্য’র স্বত্ব আমাকে দেবেন বলেছেন। অভিনেতা হিসেবে উনাকে আগেও নিতে চেয়েছি, নানা কারণে পারিনি। এবার সেটা হলো।’

মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি

বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় কিশোর উপন্যাসগুলোর একটা। শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের লেখা বহুল পঠিত এই উপন্যাসকে পর্দায় আনছেন গায়ক-পরিচালক অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু এমন জনপ্রিয় লেখা নিয়ে ছবি করার ‘ঝুঁকি’ তিনি নিতে গেলেন কেন? ‘হ্যারি পটার দেখার সময় ভাবছিলাম, বাংলা সাহিত্যে এত কিছু আছে, সেগুলো নিয়েও তো সিনেমা হতে পারে। শিবুকে বলতেই [পরিচালক শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, এই ছবির প্রযোজক] ও লাফিয়ে উঠল। এই লেখার চরিত্রগুলো বাঙালির ঘরের মানুষ হয়ে উঠেছে। গোয়েন্দা বদাচরণ বা ভজবাবুর কথা কি ভোলা যায়। সব মিলিয়ে এটা আমার জন্যও খুবই গুরুত্বপূর্ণ কাজ,’ বলছেন অনিন্দ্য। ছবিতে গোয়েন্দা বদাচরণ ও ভজবাবুর চরিত্র করেছেন ব্রাত্য বসু ও রজতাভ দত্ত। আরো আছেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, সন্ধ্যা রায়, আবির চ্যাটার্জি। ডাকাত সর্দারের চরিত্রে অভিনয়ের সঙ্গে সংগীত পরিচালনার দায়িত্ব সামলেছেন শিলাজিৎ।

 

কিশোরকণ্ঠী জুনিয়র

‘দৃষ্টিকোণ’-এর পর কৌশিক গাঙ্গুলি-প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় জুটির দ্বিতীয় ছবি। ছবির গল্প এক ‘কিশোরকণ্ঠী’কে নিয়ে, যে মঞ্চে কিশোর কুমারের গান গেয়ে জীবন চালায়। কিন্তু জয়সলমীরে একটা অনুষ্ঠানে গেলে অপহরণ করা হয় তাকে। এরপর কী হয় তাই নিয়ে ছবি। ছবির গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে আছেন রাজেশ শর্মা।

 

ভিলেন

বাবা যাদবের ‘ভিলেন’ পুরোপুরি বাণিজ্যিক ধারার সিনেমা। ছবিতে আছেন অঙ্কুশ হাজরা, মিমি চক্রবর্তী ও ঋতিকা সেন। একটি দক্ষিণী ছবির রিমেক ‘ভিলেন’। ছবির টার্গেট মূলত শহরের বাইরের দর্শক। প্রথম দিকে ভালো শুরু করলেও গেল কয়েক বছরে পিছিয়ে পড়েছিলেন অঙ্কুশ। এই ছবি দিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে চান তিনি।

 

হইচই আনলিমিটেড

প্রযোজক দেবের আরেকটি প্রয়াস। ‘কবীর’-এর পর অনিকেত চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে আরেকটি ছবি। ‘হইচই আনলিমিটেড’ কমেডি ঘরানার, তবে কোনো দক্ষিণী সিনেমার রিমেক নয়। প্রযোজক দেব গেল কয়েক বছরের মতোই জোর দিয়েছেন মৌলিক গল্পে। ছবিতে দেব ছাড়াও আছেন পূজা ব্যানার্জি, কৌশানী মুখার্জি, শাশ্বত চ্যাটার্জি, রজতাভ দত্ত। ছবির প্রায় পুরোটাই শুটিং হয়েছে উজবেকিস্তানে, যা বাংলা ছবির জন্য প্রথম। প্রযোজক হিসেবে দেব এখনো ততটা ব্যবসাসফল না হলেও তাঁর চেষ্টা প্রশংসিত হয়েছে। দেব বলছেন, ‘আমার ছবি ঠিকঠাক হল পায়নি। তার পরও ব্যবসা নিয়ে আমি খুশি। চারটি চার রকম ছবি করেছি। কারো ভালো না-ই লাগতে পারে, কিন্তু চেষ্টাটা কেউই ইগনোর করতে পারবে না।’



মন্তব্য