kalerkantho

প্রথম লালন

১৭ অক্টোবর লালন সাঁইয়ের মৃত্যুবার্ষিকী। দিনটি স্মরণ করে নিজেদের প্রথম রেকর্ড করা লালনের গানের গল্প শুনিয়েছেন কয়েকজন শিল্পী। লিখেছেন আতিফ আতাউর

১১ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



প্রথম লালন

সাঁইজির তিরোধান উপলক্ষেই কণ্ঠ দিয়েছিলাম

চন্দনা মজুমদার

আমার বয়স তখন খুবই কম। ফ্রক-সালোয়ার কামিজ পরে ঘুরে বেড়াই। আমার গুরু মরহুম মোকসেদ আলী সাঁইয়ের হাত ধরেই প্রথম সাঁইজির গানে কণ্ঠ দিয়েছিলাম। গানটি ছিল—‘মওলা বলে ডাক রসনা রে’। তখন ফরিদা পারভীন, মিনা বড়ুয়া, মোকসেদ আলী সাঁইদের সময়। আমি একেবারেই বাচ্চা। সাঁইজির তিরোধান দিবসে বিটিভিতে তাঁর গান নিয়ে একটি অনুষ্ঠান হবে। আমাকে সেখানে সুযোগ করে দেওয়ার জন্য নিয়ে গেলেন মোকসেদ আলী সাঁই। বিটিভির প্রযোজক আবু জাফর সিদ্দিকীকে ‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখি’ গেয়ে শোনালাম। তিনি পছন্দ করলেন। এরপর সেই অনুষ্ঠানে ‘মওলা বলে ডাক রসনা রে’ কণ্ঠ দিই। গাওয়ার সময় শাড়ি পরেছিলাম। তখন আমার সেকি আনন্দ! গানটি প্রচারের পর থেকেই আমার পরিচিতি আসতে থাকে।

 

প্রথম গানে সম্মানী পেয়েছিলাম ১৮০ টাকা

শফি মণ্ডল

লালন সাঁইজিকে নিয়ে এখন পর্যন্ত ছয়টি অ্যালবাম করেছি।  তবে প্রথম যে গানটি রেকর্ড করেছিলাম, সেটির কথা আলাদাভাবে মনে আছে। রাজশাহী বেতারে ‘সাঁই আমার কখন খেলে কোন খেলা’ গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছিলাম ১৯৮৩ সালে। প্রচারিত হয়েছিল ১৯ ফেব্রুয়ারি। তখন অল্প বয়স। মানুষের গান শোনার একমাত্র সম্বল রেডিও। রেডিওতে কারো গান প্রচার মানেই অনেক বড় ব্যাপার। প্রচারের পর বেশ ভালো সাড়া পেয়েছিলাম। এলাকায় অনেক নাম ছড়িয়েছিল। গানটির জন্য সম্মানী পেয়েছিলাম ১৮০ টাকা। সেটাই ওই সময়ে অনেক। তারও আগে ১৯৮২ সালের ডিসেম্বর বেতারে অডিশন দিয়েছিলাম। এক মাস পরই গান গাওয়ার ডাক পাই। সংগীতায়োজন করেছিলেন রাজশাহী বেতারের আবদুল আজিজ বাচ্চু।

 

প্রথম রেকর্ড করা গানটি জীবন বদলে দিয়েছে

বিউটি

আমার কণ্ঠে রেকর্ড করা সাঁইজির প্রথম গান ‘আমারে কি রাখবেন গুরু চরণের দাসী’। শোবিজে যাত্রা শুরু এই গান দিয়ে। ২০০৫ সালে ‘তোমাকেই খুঁজছে বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতার অডিশন রাউন্ডে গানটি গেয়ে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছিলাম। শুনে বিচারকরা কেঁদেছিলেন। পরে জানতে পেরেছি, যাঁরাই গানটি শুনেছেন, তাঁরা ক্ষণিকের জন্য অন্য জগতে হারিয়ে গেছেন, কেঁদেছেন। এটাই আমার বড় সার্থকতা। জীবনে প্রথম সাঁইজির গান রেকর্ড করা নিয়ে অনেকেই হয়তো দোটানায় ভুগতে পারেন। কিন্তু আমি কোনো কিছু না ভেবেই গানটি বেছে নিয়েছিলাম। তখন খুব ছোট ছিলাম। গানটির মানে বোঝারও বয়স হয়নি। বাবা ছিলেন গানের ওস্তাদ। প্রতিযোগিতায় আসার দুই দিন আগে গানটি তিনি শিখিয়ে দিয়েছিলেন। এই গান দিয়েই প্রতিযোগিতা শুরু করতে বলেছিলেন তিনি। বিচারক ও শ্রোতাদের ভালোবাসা দেখেই রেকর্ড করার জন্য এটি বেছে নিই। প্রথম রেকর্ড করা গানটিই আমার জীবন বদলে দিয়েছে।

 

আগেই প্রস্তুতি নিয়েছিলাম

রিংকু

লালনের গান গেয়েই বেড়ে উঠেছি। একটু বড় হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গাইতাম। আমার কণ্ঠে লালনের গান শুনে সবাই প্রশংসা করতেন। তখন থেকেই স্বপ্ন ছিল সাঁইজির গান নিয়ে অ্যালবাম করার। ২০০৬ সালে ‘তোমাকেই খুঁজছে বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতায় অংশ নিই। বিভিন্ন পর্ব পেরিয়ে মূল পর্বে এসে প্রথমবারের মতো লালন সাঁইজির ‘এলাহি আল্লাহ’ গানটি রেকর্ড করি। সংগীতায়োজন করেছিলেন সুমন কল্যাণ। অনেক সাড়া পেয়েছিলাম। প্রথম রেকর্ড করা গান বলেই আগে থেকে দীর্ঘ সময় নিয়ে প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। তত দিনে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গেয়ে ভয়টা কেটে গিয়েছিল। এরপর সাঁইজির গান নিয়ে বেশ কয়েকটি অ্যালবামও করেছি। কিন্তু প্রথম গানটির স্মৃতি এখনো উজ্জ্বল।

 

আত্মবিশ্বাস ছিল ভালো করব

সালমা

আমার বাড়িও সাঁইজির জন্মস্থান কুষ্টিয়ায়। ছোটবেলায় মানুষের মুখে মুখে তাঁর গান শুনেছি। সেখান থেকেই সাঁইজির গানের প্রতি ভালোবাসা। আমার কণ্ঠে রেকর্ড করা সাঁইজির প্রথম গান ‘পাবে সামান্যে কি তার দেখা’। ২০০৬ সালে গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছিলাম। সংগীতায়োজন করেছিলেন বেশ কয়েকজন। তত দিনে অনেক অনুষ্ঠানে গানটি করেছি। ‘তোমাকেই খুঁজছে বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতায়ও গেয়েছি। যার ফলে রেকর্ডিংয়ের সময় খুব একটা ভয় কাজ করেনি। গানটি শুনে অনেকেই প্রশংসা করেছিলেন। পরে সাঁইজির আরো অনেক গান রেকর্ড করেছি, অ্যালবাম করেছি। কিন্তু প্রথম গানটিতে কণ্ঠ দেওয়ার মুহূর্তটি এখনো চোখে ভাসছে। এই স্মৃতি কখনোই   ভোলার নয়।

 

 



মন্তব্য