kalerkantho


রুপালি পর্দায় চন্দ্র বিজয়

নিল আর্মস্ট্রংয়ের চাঁদে পা রাখার গল্প সবার জানা। কিন্তু ব্যক্তি নিল কতটা চেনা? চেনা-অচেনা নিলকে নিয়েই ‘ফার্স্ট ম্যান’। আগামীকাল মুক্তির অপেক্ষায় থাকা ছবিটি নিয়ে লিখেছেন হাসনাইন মাহমুদ

১১ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



রুপালি পর্দায় চন্দ্র বিজয়

নিল আমস্ট্রংয়ের জীবনী ও চন্দ্র বিজয়ের উপাখ্যান নিয়ে ‘ফার্স্ট ম্যান’। জেমস হ্যানসেনের নিল  আর্মস্ট্রংয়ের জীবনী অবলম্বনে তৈরি এই ছবিতে শুধু চন্দ্র বিজয়ী নন, পাশাপাশি উঠে এসেছে ব্যক্তি নিলের গল্পও। ডেমিয়েন শ্যাজেলের ছবিতে নিল আর্মস্ট্রং হয়েছেন রায়ান গসলিং। আরো দেখা যাবে ক্লেয়ার ফয়, জেসন ক্লার্ককে।

শুরুতে চলচ্চিত্রটি নির্মাণের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন অভিনেতা-পরিচালক ক্লিন্ট ইস্টউড। শিডিউলজনিত সমস্যায় তিনি সরে দাঁড়ালে অনেকটা বিপদেই পড়ে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান। অনেক অঙ্ক কষার পর পরিচালকের দায়িত্ব দেওয়া হয় তরুণ শ্যাজেলকে। ‘লা লা ল্যান্ড’ দিয়ে বিশ্ব কাঁপানো এই পরিচালকও নিজের মতো করে সাজান চলচ্চিত্রটি। নিল চরিত্রে নেন আগের ছবির প্রধান তারকা রায়ানকে। আগে মাত্র তিনটি সংগীতপ্রধান চলচ্চিত্র নির্মাণ করায় অনেকেই ভ্রু কুঁচকেছিলেন তাঁর পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার খবরে। কিন্তু সমালোচকদের উড়িয়ে দেন হাসতে হাসতে, “যে যা খুশি বলতে পারে। ‘লা লা ল্যান্ড’-এর সম্পূর্ণ বিপরীত কিছু করতে চেয়েছি।” নিল আর্মস্ট্রং চরিত্র করতে গিয়ে মধুর সমস্যায় পড়েছেন অভিনেতা গসলিং। এখন তাঁর দুই মেয়ে মনে করছে, বাবা অভিনেতা নন, বরং নভোচারী! হাসতে হাসতে অভিনেতা বলেন, ‘তাদের ভুলটা ভাঙানোর চেষ্টাও করিনি। ওরা মজা পাক না।’ তবে রায়ানের মতে, চলচ্চিত্রের সবচেয়ে কঠিন অংশ ছিল নিলের দুই ছেলের কাছে নিজেকে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ করা। কোনো কঠিন পরীক্ষার মধ্য দিয়েই যেতে হয়নি তাঁকে। নিলের ছেলে মার্ক আর্মস্ট্রং এর মধ্যেই স্বীকৃতি দিয়েছেন অভিনেতাকে, ‘বাবার চরিত্রকে রূপ দেওয়াটা খুবই কঠিন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন চুপচাপ। রায়ানের আগের কাজগুলো দেখে আমাদের মনে হয়েছে, সে-ই সেরা ব্যক্তি বাবাকে ফুটিয়ে তোলার জন্য।’

চলচ্চিত্রটি নিয়ে আমেরিকায় কিছু বিতর্কও হয়েছে। ১৯৬০-এর দশকের শেষের দিকে, শীতল যুদ্ধের সেই উত্তপ্ত সময়ে চন্দ্র বিজয় ছিল আমেরিকার জন্য সোভিয়েত ইউনিয়নকে পেছনে ফেলার এক মোক্ষম টেক্কা। কিন্তু এ চলচ্চিত্রে সেই আমেরিকার দেশপ্রেম অনেকাংশেই উপেক্ষিত থেকে গেছে বলে সমালোচকদের দাবি। অনেকে আবার একে দেখছেন ইতিবাচক হিসেবেই। তাঁদের মতে, চন্দ্র বিজয় শুধু আমেরিকার জনগণের নয়, বরং সমগ্র বিশ্বের মানুষের জন্য এক বিজয়। এরই মধ্যে চলচ্চিত্র সমালোচকদের প্রশংসায় ভাসছে চলচ্চিত্রটি। অস্কারেও চলচ্চিত্রটির জয়জয়কার নিয়ে বাজি ধরা শুরু করেছেন অনেকেই।



মন্তব্য