kalerkantho


সময় আসুক, মানুষ জানবে

পর পর দুই সপ্তাহে দুই ছবি—এ সপ্তাহে মুক্তি পেয়েছে ‘পবিত্র ভালোবাসা’, কাল মুক্তি পাবে ‘মেঘকন্যা’। সমসাময়িক আরো কিছু বিষয় নিয়ে ফেরদৌসের সঙ্গে কথা বলেছেন মীর রাকিব হাসান

১১ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



সময় আসুক, মানুষ জানবে

এ কে সোহেলের ‘পবিত্র ভালোবাসা’য় তাঁর সহশিল্পী মৌসুমী। ছবিটির প্রচারণায় দুজনই অনুপস্থিত, কেন? ফেরদৌস বলেন, “প্রচারণার স্টাইলটা আমার ভালো লাগেনি। পরিচালকের ‘খায়রুন সুন্দরী’ দারুণ ব্যবসা করেছিল। আমরা বেশ উৎসাহ নিয়েই ‘পবিত্র ভালোবাসা’ করি। কিন্তু মুক্তির আগে ছবির প্রচারণায় আমাদের তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। ফলে ছবিটি নিয়ে আমরাও তেমন উৎসাহ পাইনি। তবে ছবিটি ভালো।” আর ‘মেঘকন্যা’? ‘গল্পটা ভালো। কপি সিনেমা দেখতে দেখতে দর্শক ক্লান্ত, সে হিসেবে ছবিটা মানুষকে স্বস্তি দেবে। ফ্যামিলি ড্রামা। ভালো মেসেজও পাওয়া যাবে। প্রেম, ভালোবাসা তো আছেই। গানগুলোও সুন্দর। একটা কমার্শিয়াল সিনেমার সব উপাদানই আছে এখানে’—বললেন ফেরদৌস।

মিনহাজ অভির ‘মেঘকন্যা’য় ফেরদৌসের নায়িকা নিঝুম রুবিনা। প্রায় তিন বছর আগে শুটিং শেষ হয়। দেরিতে মুক্তি পাওয়ার কারণও জানালেন, ‘নতুন পরিচালক, নতুন প্রযোজক। নির্মাণের সময়ও কিছু সমস্যায় পড়তে হয়েছে। নায়িকাও নতুন। এ কারণে একটু দেরি হয়েছে। আগেও বেশ কয়েকবার মুক্তির ডেট পড়েছিল। কিছু মানুষের কাছে হলগুলো জিম্মি হয়ে আছে। ডিজিটাল মেশিনসহ আরো কিছু বিষয় আছে। এ সময়ে একজন নতুন পরিচালক বা প্রযোজককে সিনেমা মুক্তি দিতে বেশ ঝামেলায় পড়তে হয়। অবশেষে সিনেমাটি কাল মুক্তি পাচ্ছে, এটাই বড় কথা।’

ছবিতে দুই রকম ফেরদৌসকে পাওয়া যাবে—যুবক ও মধ্যবয়সী। যুবক বয়সের ফেরদৌস মেয়েদের সঙ্গে ফ্লার্ট করে বেড়ায়, কেউই তাকে সিরিয়াসলি নেয় না, সেও কাউকে সিরিয়াসলি নেয় না। একটা সময় সে সিরিয়াস হয় কিন্তু অন্যরা সিরিয়াস হয় না। লাইফে একটা জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়। গল্প চলে যায় ১৫ বছর পর। গল্পের পরের অংশটা অবশ্য বলতে চাইলেন না নায়ক।

এ সপ্তাহে চুক্তিবদ্ধ হলেন ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তার জীবনী নিয়ে আমিনুল ইসলামের ‘সেভ লাইফ’-এ। আগের মাসেই মহরত হলো দুটি ছবির—সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের উপন্যাস অবলম্বনে ‘গাঙচিল’ ও প্রয়াত মান্নার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান কৃতাঞ্জলির ‘জ্যাম’। দুটিরই পরিচালক নঈম ইমতিয়াজ নেয়ামূল।

অনেকেরই অভিযোগ, ভিন্ন ধারার ছবি ও পুরস্কার পাবেন এমন সব ছবি করতে গিয়ে বাণিজ্যিক ছবির সঙ্গে একটা দূরত্ব তৈরি হয়েছে ফেরদৌসের। ‘সত্যি বলতে বাণিজ্যিক ধারার যে সব ছবি হয় এখন, সেগুলোতে কমফোর্ট ফিল করি না। অবিশ্বাস্য গল্প। দেশের বাইরে নজর দিলেই দেখবেন, সামগ্রিকভাবে সিনেমার ভাষা বদলে গেছে। রিয়েলিস্টিক সিনেমাই এখন পৃথিবী জয় করছে। আর ‘সুপারম্যান’ টাইপ সিনেমা আমাদের এখানে নির্মাণ করা সম্ভব নয়, বাজেট বা টেকনিক্যাল কারণেই। বরং গল্পের দিকে মনোযোগ দিয়ে এগোলেই আমাদের জন্য ভালো। আর কে কী ফিল করে জানি না। আমি কমফোর্ট ফিল করি সাহিত্য কিংবা রিয়েলিস্টিক সিনেমা করতে। এর মধ্যে যতটুকু হিরোইজম বা ফিল্মিক করা যায়। জোর করে মানুষ হাসানো কিংবা একটা ঘুষি দিলাম ভিলেন আকাশে উড়ে গেল—এগুলো এখন আর মন টানে না’—অভিযোগের জবাবে বললেন।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বিদেশ সফর গিয়েছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে বলেন, ‘অসাধারণ অভিজ্ঞতা। জীবনের শ্রেষ্ঠ কিছু সময় কাটিয়ে এলাম। চারবার জাতীয় পুরস্কারসহ অনেক পেয়েছি, সবচেয়ে বড় পুরস্কার মনে হয়েছে এই সফরকেই।’ শোনা যাচ্ছে, জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেবেন? প্রশ্ন শেষ হওয়ার আগেই হাসতে শুরু করলেন, “আমরা অভিনেতারা তো প্রতিনিয়তই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। ছবি মুক্তি দেওয়া মানেই নির্বাচনে অংশ নেওয়া। আর জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ এ মুহূর্তে কিছু বলব না। সময় আসুক, মানুষ এমনিতেই জানবে।”



মন্তব্য