kalerkantho

এক যুগের মম

আগেও টুকটাক অভিনয় করেছেন, তবে তারকাখ্যাতি পেলেন ২০০৬ সালে লাক্স সুন্দরী প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হওয়ার পর। এক যুগের ক্যারিয়ার নিয়ে বলেছেন জাকিয়া বারী মম

১১ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



এক যুগের মম

ক্যামেরার সামনে প্রথম

ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানো নিয়ে কখনোই ভীতি ছিল না। পেশাদার অভিনেত্রী হওয়ার আগে থেকেই অভিনয়, নাচ, আবৃত্তি করতাম। বুঝে ওঠার আগেই আসলে ক্যামেরা-ভীতিটা কেটে যায়। ক্যামেরাকে সব সময়ই মনে হয়েছে বেস্টফ্রেন্ড। সুন্দরী প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হওয়ারও পাঁচ বছর আগে ক্যামেরার সামনে প্রথম অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছিলাম। মিনহাজুর রহমানের নাটক ‘মেহের নিগার’-এ। সহশিল্পী ছিলেন জাহিদ হাসান ভাই। সুযোগ পেয়েছিলাম আমার নৃত্যগুরু কবিরুল ইসলাম রতন স্যার, সাদিয়া ইসলাম মৌ আপা এবং জাহিদ ভাইয়ের মাধ্যমে। মৌ আপার নাচের দলের সদস্য ছিলাম, সে কারণেই সুযোগটা পেয়েছিলাম।

পেশাদার হয়ে ওঠা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগে ভর্তি হওয়া এবং লাক্স প্রতিযোগিতায় নাম লেখানো—দুটো প্রায় একই সময়ের ঘটনা। প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হওয়ার পরপরই পেশাদারি মনোভাব নিয়ে অভিনয় শুরু করি। সেবার বিজয়ীর জন্য আকর্ষণীয় পুরস্কার ছিল হুমায়ূন আহমেদের গল্পের ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ। ‘দারুচিনি দ্বীপ’-এ প্রথম পেশাদার অভিনেত্রী হলাম। পরিচালক তৌকীর আহমেদ ভাই, নায়ক রিয়াজ ভাই। শুটিংয়ের মুহূর্তগুলো কখনোই ভুলব না। শুটিং হয়েছিল সেন্টমার্টিনসে, আগে কখনো সেন্টমার্টিনস যাইনি। আমার কাছে পুরো বিষয়টা যেমন অ্যাডভেঞ্চারাস ছিল, তেমনি চ্যালেঞ্জেরও। প্রথম দৃশ্য ছিল রিয়াজ ভাইয়ের সঙ্গে আমার একটা ‘ব্যাক টু শট’। আমরা সমুদ্রের দিকে হেঁটে যাব। ক্যামেরা থাকবে আমাদের পেছনে। ৩৫ মিলিমিটার ক্যামেরায় শুট হয়েছিল। ওই সময় মনিটর থাকত না। ফলে বুঝতে পারিনি কেমন করেছি। যত দূর মনে পড়ে দুবার শট দিতে হয়েছিল। কাজটা আমার জন্য সহজ হয়েছিল তৌকীর ভাইয়ের জন্য। ‘দারুচিনি দ্বীপ’ মুক্তির আগে কোনো নাটক হাতে নিতে পারিনি। চুক্তিই ছিল এ রকম। ২০০৭ সালে ছবিটি মুক্তির প্রায় এক বছর পর নাটকে নিয়মিত হলাম।

টার্নিং পয়েন্ট

২০০৮ সালে কোরবানির ঈদে এনটিভিতে প্রচারিত হয়েছিল টেলিফিল্ম ‘স্বর্ণমায়া’। বিপাশা হায়াত আপুর রচনা, পরিচালনায় তৌকীর আহমেদ। আমি যে একজন অভিনয়শিল্পী, সেই সম্মানটা এনে দিয়েছিল এই টেলিফিল্ম। যাঁরাই দেখেছেন প্রশংসা করেছিলেন। একজন শিল্পীর জীবনে আসলে অনেক টার্নিং পয়েন্ট থাকে। একটাই ‘টার্নিং পয়েন্ট’ বললে ১২টা বছর ফিকে হয়ে যাবে। লাক্স প্রতিযোগিতা, দারুচিনি দ্বীপ, স্বর্ণমায়া তো আছেই, এনটিভিতে এজাজ মুন্নার ২০৪ পর্বের ধারাবাহিক ‘নীড়’ করেছি, ওটাও টার্নিং পয়েন্ট। প্রতিটা ভালো কাজই জীবনের এক একটা টার্নিং পয়েন্ট। পরবর্তী সময়ে শিহাব শাহীনের সঙ্গে ব্যাক টু ব্যাক কাজ করেছি। তাঁর পরিচালনায় নাটক ‘নীলপরি নীলাঞ্জনা’, ছবি ‘ছুঁয়ে দিলে মন’-এর কথাও বলব। আমি ভীষণ খুশি এমন একজন ট্যালেন্টড নির্মাতার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি।

শুধুই অভিনয়

আমি সত্যিই ভাগ্যবতী—সময়ের সেরা ডিরেক্টর, সহশিল্পীদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। কখনো ক্যারিয়ারগ্রাফের হিসাব করিনি। নাটক হোক বা চলচ্চিত্র, মন যা চেয়েছে, যেটা ভালো মনে হয়েছে সেটাই করেছি। অভিনয়টা ভালোবেসে করি, প্ল্যান করে নয়। বিনিময়ে দর্শকের ভালোবাসাই পেয়েছি। এ কারণে আমি কখনো ‘নেই’ হয়ে যাইনি। অভিনয়ের বাইরে অন্য কোনো কিছুতেই আগ্রহ পাই না।

সহশিল্পী

সমসাময়িক অভিনেতাদের সঙ্গেই বেশি কাজ। অপূর্ব, সজল ভাই, নিশো—এঁদের সঙ্গেই বেশি। অভিনেতা হিসেবে তিনজনই দুর্দান্ত। তিনজনই খুব ভালো বন্ধু।

অপ্রাপ্তি

ভালো চরিত্রের ক্ষুধা মিটে গেলে তো আর কাজই করতে পারব না। পাশের দেশ ভারতে গল্পকে প্রাধান্য দিয়ে একের পর এক সিনেমা হচ্ছে। অনেক বড় মার্কেট তাদের, অনেক বেশি পেশাদারও তারা। আমাদের এসবে কমতি আছে। আরো একযুগ পর যেন দেখতে পারি আমার ঝুলিতে অসাধারণ ১০টি কাজ আছে। জানি না পূর্ণ হবে কি না। একটা সময় ভালো নাচতাম। নাচ নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল। ভালো গাইতামও। এখনো আড়ালে থেকে গান করার চেষ্টা করি। সেটা অনেকেরই অগোচরে রয়ে আছে। ভালো আঁকতে পারতাম। সেট ডিজাইনিংও পারতাম বেশ। উত্তম গুহের স্টুডেন্ট ছিলাম। অভিনয়ের ব্যস্ততায় এসবে মনোযোগ দিতে পারিনি।



মন্তব্য