kalerkantho


স্বর্ণের সন্ধানে

ওয়েস্টার্ন ডার্ক কমেডি ‘দ্য সিস্টার্স ব্রাদার্স’। ভেনিস চলচ্চিত্র উত্সবে এই ছবির জন্য সেরা পরিচালক হয়েছেন জ্যাক অদিয়ার। আগামীকাল মুক্তির অপেক্ষায় থাকা ছবিটি নিয়ে লিখেছেন হাসনাইন মাহমুদ

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



স্বর্ণের সন্ধানে

কানাডিয়ান ঔপন্যাসিক প্যাট্রিক ডিউইটের ওয়েস্টার্নধর্মী উপন্যাস ‘দ্য সিস্টার্স ব্রাদার্স’ প্রকাশিত হয় ২০১১ সালে। হলিউডের কমেডি তারকা জন সি রাইলির চোখ পড়ে সেই অখ্যাত ঔপন্যাসিকের বইটির দিকে। বইটি শেষ করে তিনি এতটাই মুগ্ধ হন, নিজেকে কল্পনা করতে শুরু করেন উপন্যাসের এক চরিত্র হিসেবে। যেই ভাবা, সেই কাজ। সোজা চলে গেলেন লেখকের কাছে, কিনে ফেলেন স্বত্ব। চলচ্চিত্রটির গল্পের সময়কাল সেই ঊনবিংশ শতাব্দীর অস্থির আমেরিকা। ভাগ্যের খোঁজে মানুষের ঢল নামছে দেশটিতে, ঘটছে নানা অপরাধ। সেই উত্তাল সময়ে আরেকটি উত্তেজনা তৈরি হতো সোনার খনি নিয়ে। হুট করে খবর পাওয়া গেল এক রসায়নবিদ নাকি সোনা খুঁজে পাওয়ার সূত্র আবিষ্কার করে ফেলেছেন। সিস্টার্স ব্রাদার্স নামে পরিচিত হিটম্যান ভ্রাতৃদ্বয়কে দায়িত্ব দেওয়া হয় সেই রসায়নবিদকে ধরে নিয়ে আসার। তাদের সঙ্গে যোগ দেয় এক গোয়েন্দাও। এই হলো গল্প। তারকাবহুল এ চলচ্চিত্রে জন সি রাইলির পাশাপাশি আছেন ওয়াকিন ফিনিক্স, জ্যাক গিলেনহল ও রিজ আহমেদ।

গ্রাঁপ্রি-জয়ী ফরাসি পরিচালক জ্যাক অদিয়ারের এটাই প্রথম হলিউড চলচ্চিত্র। ছবিটি পরিচালনার জন্য অদিয়ারকে নির্বাচন করার পেছনের মানুষটি জন সি রাইলির স্ত্রী। আগে ইউরোপীয় অনেক প্রখ্যাত পরিচালকই হলিউডে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন। তাই অনেকের সংশয়ও ছিল এই সমালোচকপ্রিয় পরিচালককে নিয়ে। এটি অভিনেতা ও প্রযোজক জন সি রাইলিও জানতেন। তাই তিনি পরিচালককে নির্মাণের পূর্ণ স্বাধীনতা দেন। ফলটাও হাতেনাতে, ভেনিস চলচ্চিত্র উত্সবে শ্রেষ্ঠ পরিচালকের খেতাব সিলভার লায়ন ঘরে তুলেছেন অদিয়ার।

এ চলচ্চিত্র দিয়েই প্রথম প্রযোজনায় নাম লিখিয়েছেন জন সি রাইলি। উপন্যাসটির প্রতি মুগ্ধতা আর এলাই সিস্টার চরিত্রে অভিনয়ের বাসনাই তাঁকে এই নতুন পথে যাত্রা শুরু করতে অনুপ্রাণিত করেছে। ২০১৫ সালে ফরাসি ওয়েস্টার্নধর্মী চলচ্চিত্র ‘লা কাউবয়েজ’-এ কাজ করেছিলেন রাইলি। এ কারণেই ফরাসি নির্মাতার সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা ছিল। ফলে জ্যাক অদিয়ারের সঙ্গে কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেছেন। চলচ্চিত্রটির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ জন সি রাইলি ও ওয়াকিন  ফিনিক্সের পর্দার রসায়ন। ফিনিক্সের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে রাইলি বলেন, ‘তার গভীর চিন্তা ও দর্শন চলচ্চিত্রটিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।’ মজার ব্যাপার, এই দুই নন্দিত তারকাই আগে কিংবদন্তি গায়ক জনি ক্যাশের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন দুটি আলাদা চলচ্চিত্রে। যদিও জন সি রাইলির করা চরিত্রটি ছিল প্যারোডি।

প্রশংসিত চলচ্চিত্র ‘নাইটক্রলার’-এর পর আবারও পর্দায় একত্রে জ্যাক গিলেনহাল ও পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত অভিনেতা রিজ আহমেদ। ছবির অন্যতম প্রধান চরিত্র সেই সোনার খোঁজ পাওয়া রসায়নবিদের ভূমিকায় অভিনয় করছেন রিজ। ক্রমেই হলিউডের অন্যতম প্রতিভাবান অভিনেতা হিসেবে নাম তৈরি করা রিজ সম্পর্কে জ্যাক গিলেনহাল বলেন, ‘তাঁর সঙ্গে আবারও কাজ করার অভিজ্ঞতা দারুণ। আমরা পর্দায় একে অপরের প্রয়োজনটা কিভাবে যেন বুঝে যাই।’



মন্তব্য