kalerkantho


তারার বন্ধু তারা

একে অপরের আয়না

পরিচয় অনেক দিনের হলেও তাঁদের বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে গত দু-তিন বছরে। মেহের আফরোজ শাওন ও সোহানা সাবার এই বন্ধুত্বের গল্প শোনাচ্ছেন মীর রাকিব হাসান

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



একে অপরের আয়না

গত বছর টানা তিন দিন ধরে উদ্যাপন করেছেন নিজেদের জন্মদিন

বয়সে সাবার চার-পাঁচ বছরের বড় শাওন। দুজনের প্রথম পরিচয় কাজের মাধ্যমেই। হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস ‘প্রিয়তমেষু’ অবলম্বনে ছবি বানিয়েছেন মোরশেদুল ইসলাম। এতে অভিনয় করেছিলেন সাবা। হুমায়ূন আহমেদ-শাওন খুব পছন্দ করেছিলেন তাঁর অভিনয়। পরে শাওনের পরিচালনায় ধারাবাহিক ‘একলা পাখি’তে অভিনয় করেন সাবা। ‘তখন থেকেই ওকে আমার ভালো লাগত। তবে আমরা ঘনিষ্ঠ হয়েছি গত দুই-তিন বছরে’—বললেন শাওন।

সাবা বলেন, ‘লাইফের একটা অধ্যায় পার করে আসার পর গত তিন বছরে একটা বিশাল পরিবর্তন হয়েছে আমার, অনেক ধরনের সার্কেল হয়েছে। তাদের বেশির ভাগই বয়সে আমার বড়। তাদের ভালবাসা বলি কিংবা সাপোর্ট বলি, সেটা আমার জীবনে আরো ভালো কিছু ভাবতে বা নিজেকে গোছাতে সাহায্য করছে।’

দুজনের সবচেয়ে বড় মিল জন্মদিন—১২ অক্টোবর দুজনেরই জন্মদিন। ফলে রাশিও এক। এ কারণে তাঁদের ভাবনাগুলোও অনেক সময় মিলে যায়। ‘মানুষের জন্মতারিখও যে একটা ফ্যাক্টর সেটা এখন বুঝতে পারছি। আগে এতটা বিশ্বাস করতাম না। যখন আমরা কথা বলি, কোনো বিষয়ে আলোচনা করি, দেখা যায় অনেক কিছুই আমাদের মেলে’—বললেন সাবা।

শাওন যোগ করলেন, ‘ও অনেক আবেগী মেয়ে। এটা ওর যেমন দোষ, তেমনি গুণও। আর ও তো আমার কাছে পিচ্চি একটা মেয়ে। সন্তানের মতো ওকে ভালোবাসি, ধমকও দিই।’

স্বীকার করলেন সাবাও, ‘অসম্ভব আদর করে আমাকে। ছোট বোনসুলভ ভালোবাসা তো পাই-ই, বন্ধু হয়েও তাকে পাশে পাই। আমার এখন যে বয়স ও সময়, এখন গয়না বন্ধক রাখার চেয়ে মনের কথা বন্ধক রাখা অনেক বেশি দরকারি। সবার কাছে আবেগ প্রকাশ করতে পছন্দ করি না, মনের বন্ধ কুঠুরির চাবি যে দু-একজনের কাছে থাকে, তার মধ্যে শাওন আপুও আছে। আমরা আসলেই দুজন দুজনার অনেক কাছের মানুষ।’

দুজন মিলে অনেক মজাও করেন। পরিচিতদের ফেসবুক ওয়ালে গিয়ে মজার ছলে ঝগড়া বাধান। এমনও হয়, কোনো একটা জায়গায় দাওয়াত আছে, একজন আরেকজনকে বলে রাখেন, ‘এই তুইও যাচ্ছিস। আমাকে কল দিস’ কিংবা ‘আপু তুমিও যাচ্ছ, আমাকেও নিও।’

দুজনের মধ্যে আরেকটা মিল আছে, লোক-দেখানো কিছুতে বিশ্বাস নেই কারোই। সম্পর্কের রসায়নটা বেশ গুছিয়ে বললেন সাবা, ‘অনেক কেয়ারিং শাওন আপু। আমার সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে শতভাগ সৎ মানুষ। তার দিকে তাকিয়ে আমার পুরোটা দেখতে পাই, আমার দিকে তাকিয়ে সেও আমার পুরোটা দেখতে পায়। একে অপরের আয়না বলা যেতে পারে। তাকে কোনো কিছু বোঝাতে গেলে পুরো বাক্য শেষ করতে হয় না, অর্ধেক বললেই পুরোটা বুঝতে পারে। তার আরেকটা ভালো দিক, আমাকে কখনো জাজ করে না। যেটা আসলে সব সম্পর্কের ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ। যতই গভীর বন্ধুত্ব হোক না কেন, একজন যেন অন্যজনের সব কিছু নিজের মনে না করে, সবই জানাতে হবে, সব সিদ্ধান্তই জিজ্ঞেস করে করে নিতে হবে—এটা আমি কিছুতেই মানতে পারি না। সেই স্পেসটা ও দেয়, আমিও দিই।’

সাবার ছেলে স্বরবর্ণ শাওনকে ‘শাওন মা’ বলে ডাকে। এ নিয়ে শাওনের ছোট ছেলে নিনিত বেশ খেপে যায়। সে বলে, ‘তোমার দুই ছেলে আছে, তার পরও আরেকটি ছেলে দরকার!’ আর তা নিয়ে বেশ মজা হয় শাওন-সাবার। খুব বেশি বাকি নেই তাদের জন্মদিনের। শাওন আছেন নিউ ইয়র্কে। চলে আসবেন অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহেই। শাওন বলেন, ‘গত বছর রাত ১২টায় আমরা একসঙ্গে কেক কেটেছিলাম। এক দিন নয়, পরপর তিন দিন একসঙ্গে কেক কেটেছি, সেলিব্রেট করেছি। ও হুট করে আমার জন্মদিনে কেক নিয়ে হাজির! আপু আমারও তো জন্মদিন। সেই থেকে দুজন ঠিক করলাম, এখন থেকে একসঙ্গেই কেক কাটব।’



মন্তব্য