kalerkantho


২৫৭ টাকা নিয়ে ঢাকা এসেছিলাম

ঢালিউডের ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ বলা হয় তাঁকে। চাউর আছে, যে পরিমাণ ছবিতে তিনি অভিনয় করেন তার তিন গুণ ফিরিয়ে দেন। ‘ঢাকা অ্যাটাক’-এর মতো সফল ছবি উপহার দেওয়ার পরও চুপচাপ এই অভিনেতা। আরিফিন শুভর সঙ্গে কথা বলেছেন সুদীপ কুমার দীপ

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০




২৫৭ টাকা নিয়ে ঢাকা এসেছিলাম

‘ঢাকা অ্যাটাক’-এর মতো আলোচিত ও ব্যবসাসফল ছবি উপহার দেওয়ার পরও আপনাকে সেভাবে পাওয়া যাচ্ছে না...

‘সেভাবে পাওয়া’ বলতে কী বোঝাচ্ছেন? হাতে অনেক ছবি, সারাক্ষণ ক্যামেরার সামনে থাকা, মিডিয়া কাভারেজে থাকা—যদি এসব বুঝিয়ে থাকেন তাহলে তো হলো না! আমার ফিল্মি ক্যারিয়ার ১০ বছরের। এই ১০ বছরে কয়টা ছবি করেছি, একটা একটা করে গুনে বলতে পারব। শুধু আমি নই, আমার ভক্তরাও পারবে ছবিগুলোর নাম বলতে। তার মানে ছবির সংখ্যা নয়, মানের দিকে চোখ দিয়েছি সব সময়। ‘ঢাকা অ্যাটাক’-এর পর ‘একটি সিনেমার গল্প’ ছাড়া করার মতো ছবি খুব একটা পাইনি। তাই স্ক্রিনেও নিয়মিত থাকা সম্ভব হয়নি।

 

অনেকে অভিযোগের সুরে আপনাকে ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ বলেন। খুব খুঁতখুঁতে নাকি আপনি?

কাজের বেলায় একটুও ছাড় দিতে রাজি নই। অনেক বড় বড় পরিচালক আমার কাছে ছবির প্রস্তাব নিয়ে আসেন। নাম বলব না, কারণ সবাইকে ‘স্যার’ সম্বোধন করি। নাম বললে তাঁরা অসম্মানিত হবেন। খুব মনোযোগসহকারে তাঁদের গল্প শুনি। ছবির চরিত্র বোঝার চেষ্টা করি। আমাকে কেন কাস্ট করতে চান সেটাও জানতে চাই। রেস্টুরেন্টের বিলটাও কিন্তু আমি দিই! বিশ্বাস করেন, শেষ পর্যন্ত আমার কোনো প্রশ্নেরই উত্তর মনের মতো করে পাই না। শাকিব ভাইকে দর্শক যেভাবে দেখে অভ্যস্ত আমাকে কেন সেভাবেই দেখবে দর্শক! শাকিব ভাই যে ধরনের গল্পে অভিনয় করেন আমার ছবির গল্প তেমন হলে দর্শক কেন ছবিটা দেখতে যাবে? একটু পরিবর্তন আনতে বললেই আমাকে পণ্ডিত মনে করেন। অন্যান্য ইন্ডাস্ট্রির দিকে চেয়ে দেখুন, টম ক্রুজের নিজস্ব একটা স্টাইল আছে কাজ করার, আমির খান, এমনকি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়েরও আছে। আমি একটা নিজস্ব স্টাইল তৈরি করতে চাইলে দোষটা কী!

 

‘আমাকে ভালো গল্প দেন, ভালো প্রেজেন্টেশন দেন, পারিশ্রমিক নিয়ে বাধবে না’—এই কথা কি এখনো বলেন প্রযোজক-পরিচালকদের?

সব সময়ই। আমি এমন এক পরিবারের সন্তান, ছোটবেলায় এক টাকা খরচ করলে বলা হতো এক শ পয়সা খরচ করেছ। সেই আমি ২৫৭ টাকা নিয়ে পালিয়ে এসেছিলাম ঢাকায়। অনেক কষ্ট করেছি, ধৈর্যের পরীক্ষা দিয়েছি। অভিনয় না করে অন্য কিছু করলে এত দিনে কোটিপতি হয়ে যেতাম। কিন্তু আমি চলচ্চিত্রকে ভালোবেসেছি। এখন সময় এসেছে আমার সেরাটা দেওয়ার। ভালো কাজের জন্য মুখিয়ে আছি। আর সেই ভালো কাজ তো টাকার অভাবে বন্ধ থাকতে পারে না!

 

নতুন ছবি গোলাম সোহরাব দোদুলের ‘সাপলুডু’ আর নঈম ইমতিয়াজ নেয়ামুলের ‘জ্যাম’-এ নতুন কী চমক পাবে দর্শক?

গল্প বলতে চাই না। এটুকু বলতে চাই, এক মাস ধরে ‘সাপলুডু’র জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছি। প্রথমবারের মতো থ্রিলার ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ পেলাম। অন্যদিকে ‘জ্যাম’ একদম অন্য ধরনের ছবি। নিজেকে মেলে ধরার জন্য আমি এমন ছবিই খুঁজছিলাম।

 

অরিন্দম শীলের ‘বালিঘর’-এর কী খবর?

প্রায় এক বছর ধরে ঝুলে আছে। মনে হচ্ছে ছবিটা আর হবে না। দুই দেশের এত এত তারকার শিডিউল বারবার মেলানোও সম্ভব নয়। তা ছাড়া যৌথ প্রযোজনার যে নতুন নীতিমালা তৈরি হয়েছে সেটা মেনে অন্তত ‘বালিঘর’ করা যাবে বলে মনে হয় না।

 

‘ওয়ারিশ’, ‘ছায়াছবি’, ‘মন বোঝে না’, ‘জেদি’ কিংবা ‘মনফড়িং’—অনেক ছবিই কিন্তু হতে হতেও হয়নি। ভাগ্যকে দোষ দেন কখনো?

প্রথম থেকেই আমার সঙ্গে এমন হয়। একটা সময় র্যাম্পে কিংবা বিজ্ঞাপনে আমিই সবচেয়ে বেশি ডাক পেতাম, আবার রিজেক্টেডও হতাম। তবে এতে ভাগ্যকে দোষ দেওয়ার কিছু নেই। কারণ ভাগ্যই তো আবার ‘ছুঁয়ে দিলে মন’, ‘পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেমকাহিনী’, ‘অগ্নি’, ‘ঢাকা অ্যাটাক’-এর মতো ছবি এনে দিয়েছে।

 

রঞ্জন ঘোষের ‘আহার’-এর পর কলকাতার আর কোনো ছবির প্রস্তাব পেয়েছেন?

ডিসেম্বর থেকে শিডিউল চেয়েছিলেন সেখানকার এক বড় পরিচালক। কিন্তু এই সময়টা আমি ‘সাপলুডু’ আর ‘জ্যাম’ করব। যদি ওদের ছবিটা করতে যাই তাহলে দেশের একটি ছবি থেকে সরে দাঁড়াতে হবে। আমি সেটা চাইনি। আগে দেশের ছবিকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত বলেই মনে করেছি। ‘আহার’-এর শুটিং-ডাবিং শেষ। সামনের মাসেই মুক্তি পেতে পারে।

 

দীর্ঘদিন দেশের বাইরে ছিলেন। কোথায় কোথায় গিয়েছিলেন?

মূলত ‘ঢাকা অ্যাটাক’ ছবির প্রমোশনে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে ইউরোপের প্রায় সব দেশ ঘুরেছি। মাঝখানে দুবাই গিয়েছিলাম একটা ব্যক্তিগত কাজে। ছোট কিছু অনুষ্ঠানেও অংশ নিয়েছি।

 

ঢালিউডের কোন দিকটা আপনার কাছে সবচেয়ে বেশি খারাপ লাগে?

ঠিক খারাপ লাগা নয়, দুঃখ বলতে পারেন। আমাদের এখানে একজন শিল্পীকেও সঠিকভাবে কাজে লাগানো হয় না, সব কিছু চাপিয়ে দেওয়া হয়। একজন অভিনেত্রী তাঁর পুরো জীবনটা দিয়ে গেলেন ইন্ডাস্ট্রির জন্য। কী দিলাম আমরা তাঁকে? অথচ কলকাতায় মাত্র পাঁচ বছর কাজ করে দেখুন তাঁর অর্জন! জয়া আহসানের কথা বলছি। ‘বিসর্জন’ দেখার পর রীতিমতো হীনমন্যতায় ভুগেছি। এমন একজন অভিনেত্রীকে চিনতে পারলাম না আমরা! আমি নিজেও তো তাঁর সঙ্গে অভিনয় করেছি। আমিও কি চিনেছি? এই চিনে নেওয়ার চোখ আগে তৈরি না হলে দুঃখ লাগাটা রয়েই যাবে।

 

আপনি যেভাবে বেছে বেছে কাজ করছেন, আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন না? এত কম কাজ করে কি টিকে থাকা সম্ভব?

আমাকে রাখার দায়িত্ব ইন্ডাস্ট্রির। এখনো লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি। যখন পারব না তখন অন্য পেশায় চলে যেতে হবে। আমারও তো পরিবার আছে।

 



মন্তব্য