kalerkantho


আজকের জন্য ধন্যবাদ

‘ডেথ ক্যাব ফর কিউটি’র প্রথম অ্যালবাম ‘সামথিং অ্যাবাউট দি এরোপ্লেন’ প্রকাশ পায় ১৯৯৮ সালে। নবম স্টুডিও অ্যালবাম ‘থ্যাংক ইউ ফর টুডে’ প্রকাশ পেল কিছুদিন আগে। দুই সপ্তাহের মাথায় অ্যালবামটি জায়গা করে নিয়েছে বিলবোর্ডের শীর্ষ রক অ্যালবামের তালিকায়। লিখেছেন পার্থ সরকার

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



আজকের জন্য ধন্যবাদ

ব্যান্ডের অন্যতম সদস্য ও মিউজিক প্রডিউসার ক্রিস ওয়ালা ব্যান্ড ছেড়ে দেওয়ার পর অনেকটাই বদলে গেছে ‘ডেথ ক্যাব ফর কিউটি’র শব্দ ও গানের ধরন। কেউ কেউ পুরনো ব্যান্ডকে খুঁজে না পেয়ে মর্মাহত। তবে এই পরিবর্তন পছন্দ করা মানুষের সংখ্যাটাই বেশি। এ বিষয়ে ব্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য বেন গিবার্ড বলেছেন, ‘বদলানো তো ভালো। আমরা যদি বছরের পর বছর একটা জায়গায় আটকে থাকতাম, সেটা নিয়ে বরং সমালোচনা হতে পারত। আমরা শুধু বদলেছি তা-ই নয়, বদলটা হয়েছে ভালোর দিকে।’

অবশ্য বদলের এই ব্যাপারটা বেনের চেয়ে ভালো আর কে-ই বা বুঝবে! ১৯৯৭ সালে যখন ব্যান্ড শুরু করেন, তখন তিনি ছিলেন ২০ বছরের টগবগে যুবক। আর এই বেন গিবার্ড হূদয়ভাঙা নিঃসঙ্গ মানুষ। নায়িকা স্ত্রীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হলো বছর দুয়েক। আবেগ-অনুভূতির জায়গা থেকে অনেক পরিণত। গানে যে সেই ছাপ পড়বে সেটাই স্বাভাবিক। তার ওপর দলের দুই অপেক্ষাকৃত নতুন সদস্য ডেভ ডিপার ও জ্যাক রায়ের মিউজিকও এখানটায় বেশ ভালো একটা অবদান রেখেছে।

এ নিয়ে সবচেয়ে আরামে আছেন সম্ভবত বেন গিবার্ড। ব্যান্ডের ক্রিয়েটিভ নেতার জায়গা থেকে গুরুত্বপূর্ণ সব সিদ্ধান্ত বেন এখন একাই নেন, আগে যেটা ক্রিস ওয়ালার সঙ্গে আলোচনা করে নিতে হতো। ‘এই অ্যালবামে আমি এমন অনেক সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যা ক্রিস থাকলে হয়তো নিতে পারতাম না। পরীক্ষামূলকভাবে কিছু গান করেছি, সেটা ক্রিস হয়তো রেকর্ডও করত না। মিউজিক প্রডিউসার এবং দলের শুরুর দিকের সদস্য হিসেবে ওর এই জায়গাটা ছিল। সত্যি বলতে কি, ব্যান্ডে এই জিনিসটা আমি খুব উপভোগ করছি।’ তবে ক্রিস ওয়ালা না থেকে যে খুব ভালো হচ্ছে সেটা বলেননি বেন। ‘গত ২২ বছরে ক্রিস ব্যান্ডের জন্য অনেক করেছে। সৃষ্টি, ত্যাগ—সব কিছুর জন্য ব্যান্ড ওর কাছে কৃতজ্ঞ। এই নতুন সেটআপও আগের চেয়ে কম যায় না। সেটা তো এই অ্যালবাম দিয়েই প্রমাণ হলো।’

এত বদলের মধ্যেও মূল জায়গায় না বদলানোর আহ্বান করেছেন বেন। অ্যালবামরে প্রথম গান ‘গোল্ড রাশ’-এর মূল কথাটাই হলো বদলে যেয়ো না সিয়াটল। শহরটাকে গত দুই দশকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন বেন গিবার্ড ও ব্যান্ডের অন্য সদস্যরা। এখান থেকেই ব্যান্ডের আগের অ্যালবামগুলোর কাজ করেছেন। তাই শহরটার প্রতি অন্য রকম এক মায়া কাজ করত সবার। কিন্তু শহরটা আর আগের মতো নেই। চোখের সামনে বদলে গেছে, বদলে গেছে মানুষগুলোও। ল্যাম্পপোস্টের বাতিগুলোকে বেন বলছেন—বদলে যেয়ো না বন্ধু, আলো দিয়ো আগের মতো।

অ্যালবামের নাম কেন ‘থ্যাংক ইউ ফর টুডে’? এ নিয়েও মুখ খুলেছেন বেন। মূলত প্রথম দিকের দুই সদস্য বেইসিস্ট নিক হ্যামার এবং ড্রামার জেসন ম্যাকগ্রেগরের জন্যই এ নাম দেওয়া। বহু চড়াই-উতরাই পেরিয়ে নাজুক অবস্থায়ও ব্যান্ডকে ছেড়ে যাননি এ দুই সদস্য। আস্থা রেখেছেন বেন গিবার্ডের ওপর। সে কারণেই এ অ্যালবামের নাম ‘থ্যাংক ইউ ফর টুডে’। বেন জানালেন, ‘এটা অনেকটা ট্রিবিউটের মতো। শুধু নিক আর জেসন নয়, আমরা আমাদের শ্রোতাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। সবচেয়ে বড় ধন্যবাদটা তো ওদেরই প্রাপ্য।’

 

 



মন্তব্য