kalerkantho


ন্যানিসর প্রশ্ন

ক্যারিয়ারের এক যুগ পার করেছেন। গত তিন মাসে চলচ্চিত্রের ছয়-সাতটি গানে কণ্ঠ দিলেও অডিওতে গাওয়া হয়নি। আরো অনেক কিছু নিয়ে কথা বলেছেন সংগীতশিল্পী নাজমুন মুনিরা ন্যানিস। শুনেছেন রবিউল ইসলাম জীবন

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



ন্যানিসর প্রশ্ন

‘অনেকেই বলে—ন্যানিস তো এখন ঢাকায় থাকে না, বাড়িতেই থাকে। ও তো এখন গানটান করে না। এটা ভুল কথা। ময়মনসিংহে আমার পরিবার থাকে। সেখানে আমার অনেক কাজ। সেগুলো করতে আমি যাব না? আমার প্রশ্ন, যারা সরকারি চাকরি করে, সপ্তাহে সপ্তাহে তারা বাড়ি যায় না? তার মানে কি তাদের চাকরি নাই?’ বলছিলেন ন্যানিস। মানুষের এমন ধারণা আর বলাবলির কারণে কেউ কেউ সত্যিই ধরে নেন, গান থেকে দূরে সরে গেছেন এই গায়িকা! অথচ ন্যানিসর স্বপ্নের পুরোটা জুড়েই গান। আগের চেয়ে কাজ কমেছে এটা স্বীকার করেন তিনি। রোজার ঈদের পর থেকে এ পর্যন্ত চলচ্চিত্রের ছয়-সাতটি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। এগুলোর সুরকার-সংগীত পরিচালক হিসেবে রয়েছেন আলী আকরাম শুভ, ইমরান ও আহমেদ হুমায়ূন। তবে এই সময়টায় অডিওতে কোনো গানেই কণ্ঠ দেওয়া হয়নি। যেখানে সমসাময়িক শিল্পীরা একের পর এক গান করে ভিডিও আকারে বের করছেন, সেখানে ন্যানিসর কোনো খবর নাই? ‘এখন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলোর আগ্রহ ভিডিওর দিকে। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই আমি শুধু অডিওটাকে গুরুত্ব দিয়ে আসছি। আমার গানগুলোতে দেখবেন ভিডিওতে আমার উপস্থিতি নেই বললেই চলে। অনেকে হয়তো ভিডিওতে অভিনয়ও করছে, আমি তা থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করেছি সব সময়। আরেকটা বিষয় হলো, আগে অ্যালবাম হতো। যার ফলে গানও বেশি হতো। আমিও বেশি ডাক পেতাম। এখন সবাই সিঙ্গলের দিকে ঝুঁকছে। সে ক্ষেত্রে গানের সংখ্যাটা কমে যাওয়াও স্বাভাবিক।’ খানিক বিরতি নিয়ে আবার বলতে শুরু করেন, ‘অডিওর শিল্পী হিসেবে আমার পরিচয় হোক এটা কখনোই চাইনি। সব সময়ই চেয়েছি মানুষ আমাকে প্লেব্যাক শিল্পী হিসেবে চিনুক। কয়টা কনসার্ট করলাম, কয়টা রেকর্ডিং করলাম, এর চেয়ে ফিল্মে কয়টা গান গাইলাম সেটা আমার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ফিল্মের গান করেই আমার এই নাম, যশ, খ্যাতি। অডিওতে গান করে হয়তো অনেক টাকাও কামিয়েছি। কিন্তু দিনশেষে চলচ্চিত্রের গানেই আমি ভরসা খুঁজেছি।’ সঙ্গে এও জানালেন, চলচ্চিত্রে এ পর্যন্ত তাঁর গাওয়া জনিপ্রয় গান প্রায় ২০টি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘হূদয়ের কথা’, ‘দ্বিধা’, ‘হাওয়ায় হাওয়ায়’, ‘আমি তোমার মনের ভেতর’, ‘পাগল তোর জন্য রে’, ‘পৃথিবীর যত সুখ’, ‘চিঠি’, ‘জ্বলে জ্বলে জোনাকি’, ‘কোনো মানে নেই তো’ প্রভৃতি।

গানের ডাক পড়লেই ঢাকায় চলে আসেন। বাকি সময় থাকেন ময়মনসিংহে। ঘর-সংসার সামলানোর পাশাপাশি ন্যানিসর ব্যস্ততা নানা সামাজিক কাজ নিয়ে। মায়ের নামে সেখানে দিয়েছেন ‘জোছনা কমিউনিটি সেন্টার’। এটির দেখাশোনায় সময় দিতে হয়। এলাকার তরুণদের খেলাধুলায় মনোযোগী করার জন্য দিয়েছেন ‘ময়মনসিংহ সিটি ক্লাব’। ‘বৃহত্তর ময়মনসিংহের ছেলেপেলেরা এই ক্লাবের হয়ে খেলাধুলা করে। পাশাপাশি ক্লাবের হয়ে আমরা নানা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করি, বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমে অংশ নিই’—বলছিলেন ন্যানিস। এলাকায় সাক্ষরতার হার বাড়ানোর জন্য একটি নৈশ স্কুল দেওয়ার কথাও ভাবছেন এই গায়িকা, ‘যারা দিনের বেলা স্কুল করতে পারছে না, তারা রাতের বেলা এখানে বিনা মূল্যে পড়ালেখা করবে।’ বিনা মূল্যে রক্ত পরীক্ষা থেকে শুরু করে আরো কিছু কাজও করেন বলেও জানালেন তিনি। এসব কাজ করছেন নিজের ফাউন্ডেশন থেকে। ফাউন্ডেশনের নাম রেজিস্ট্রির কাজ চলছে এখন। এর বাইরে নিজের একটি খামার আছে। সেখানেও সময় দিতে হয়। তবে ন্যানিসর ইদানীংকার সময়টা খুব একটা ভালো যাচ্ছে না! তাঁর ছোট ভাই শাহরিয়ার আমান সানির বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন সানির স্ত্রী সামিউন্নাহার শানু। মামলায় ন্যানিসকে আসামি করা হয়েছে ভাইকে উসকানি দেওয়ার অভিযোগ এনে। এই ঘটনায় মনের ওপর ঝড় বয়ে যাচ্ছে ন্যানিসর। তবে এমন দুঃসময়ে পাশেও পেয়েছেন অনেককে। গীতিকার-সুরকার প্রিন্স মাহমুদ নিজের ফেসবুক ওয়ালে লিখেছেন, ‘ন্যানিসর মতো শিল্পী প্রতিদিন জন্ম নেয় না। ও নিজেকে চেনে না। অত্যন্ত সাধারণ জীবন যাপন করে। মামলা-মোকদ্দমা এসবে ওকে জড়িয়ে কোনো রকম হয়রানির চেষ্টা কেউ করবেন না দয়া করে।’



মন্তব্য