kalerkantho

পপির যত কথা

জন্মদিনে উপহার পেলেন নতুন ছবি—‘কাট পিছ’। এই ছবি নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। এসবের জবাব দিয়েছেন সাদিকা পারভীন পপি। লিখেছেন মীর রাকিব হাসান। ছবি তুলেছেন দীপু খান

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



পপির যত কথা

আজ বিয়ে করলাম, দুদিন পর ডিভোর্স—এসব আমাকে দিয়ে হবে না।

১০ সেপ্টেম্বর ছিল পপির জন্মদিন। এ বছর ২১টি কেক কাটতে হয়েছে তাঁকে। এত এত উপহার তো ছিলই, উপহার হিসেবে পেলেন একটি ছবিও—বুলবুল বিশ্বাসের ‘কাট পিছ’। ১১ সেপ্টেম্বর ছবির পোস্টার বের হতেই সমলোচনা। এক দশক আগে অশালীন ছবিতে কাট পিসের রমরমা বাণিজ্য ছিল। সেই সময়ের নায়ক-নায়িকা-নির্মাতাদের প্রায় সবাই বলতে গেলে এখন নির্বাসনে। এক দশক পর পপি আসছেন সেই ‘কাট পিছ’ নিয়েই! কিন্তু নামের সঙ্গে ছবির যোগসূত্রটা কী? কেন সমালোচনা? ‘আমার সিনেমাগুলো দেখলে বুঝবেন, ছবিতে শোপিস হিসেবে কখনো কাজ করিনি। অনেক নারীপ্রধান সিনেমাও করেছি। বক্তব্যধর্মী সিনেমা করেছি। এমন সিনেমায় কাজ করার চেষ্টা করি, যেখানে একটা বক্তব্য থাকে। সেই ভাবনা থেকেই এ ছবিটি হাতে নিয়েছি। এক নায়িকার জীবনী নিয়ে গল্প। দর্শকদের কথা দিচ্ছি, পরিবারের সবাইকে নিয়ে দেখার মতোই ছবি হবে এটি। পরিচালক যদি ঠিকমতো বানাতে পারেন, আশা করছি ভালো কিছুই হবে।’

দর্শকদের আস্থা রাখতে বললেন পপি। আরো পরিষ্কার করে বললেন, “প্রত্যেক অভিনয়শিল্পীই নতুন নতুন চরিত্র চায়, পুরনো ইমেজটা ভাঙতে চায়। ‘কুলি’ এক টাইপের ছবি, ‘আমার ঘর আমার বেহেশত’ আরেক টাইপের ছবি। তিনবার জাতীয় পুরস্কারও পেয়েছি। চরিত্রগুলো একটা থেকে আরেকটা আলাদা ছিল বলেই আমি প্রশংসিত, পুরস্কিত ও দর্শকনন্দিত হতে পেরেছি। আমি মনে করি ‘কাট পিছ’ও আমাকে নতুন ডাইমেনশন দেবে। দর্শক কিন্তু আমাকে সেই একই ধারার রোমান্টিক চরিত্রে আর দেখতে চায় না।”

সিঁথিতে সিঁদুর, কপালে লাল টিপ, এলোমেলো চুলে কিছুদিন আগে পপির দেখা মিলেছিল। সেজেছেন শরত্চন্দ্রের পার্বতী। আরিফুর জামান আরিফের ‘কাঠগড়ায় শরত্চন্দ্র’ ছবিতে পার্বতীরূপে দেখা যাবে তাঁকে। পপি বলেন, ‘স্বপ্নের একটা চরিত্র পার্বতী। অনেক দিনের স্বপ্ন পূরণ হলো। এই চরিত্রটা করার জন্য আসলে সব অভিনেত্রীই মুখিয়ে থাকেন।’

বিখ্যাত সব নারীর বায়োপিক করতে চান পপি, করতে চান শরত্চন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাসের জনপ্রিয় নারী চরিত্রগুলো। ‘আমি কখনোই নিজেকে নম্বরি নায়িকা ভাবিনি। আমার এক নম্বর হতে হবে, কিংবা পাঁচ নম্বরে চলে গেলে দুঃখ পাব—এমনটা হয় না আমার’—বলেন পপি।

নতুন অভিনেত্রীদের অনেকেই ভালো করছেন, তাঁদের শুভ কামনা জানালেন পপি। তবে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের ইন্ডাস্ট্রির মানসিকতা আর কবে বদলাবে? পৃথিবীর কোথাও বলা হয় না উনি সিনিয়র আর্টিস্ট বা জুনিয়র আর্টিস্ট। আর্টিস্ট মানে আর্টিস্ট। এখানে কেন নামের আগে সিনিয়র-জুনিয়র লাগানো হয়? হলিউডে কি বলা হয় সিনিয়র অভিনেতা টম ক্রুজ কিংবা সিনিয়র ব্র্যাড পিট? নাকি শাহরুখ, সালমানদের বলা হয়! জুনিয়র আলিয়া ভাট বলা হয় কখনো? আমাদের এখানেই শুধু বলা হয়—ও

সিনিয়র হয়ে গেছে, ও জুনিয়র! এটা খুবই আপত্তিকর ও দুঃখজনক।’

এফডিসির তত্ত্বাবধানে শুরু হয়েছে ‘নতুন মুখের সন্ধানে’ কার্যক্রম। বললেন এ বিষয়েও, ‘আমাদের কি শিল্পীর অভাব! প্রচুর শিল্পী আছেন, তাঁদেরই তো যথাযথ ব্যবহার করতে পারছে না। আরো নতুন শিল্পী দিয়ে কী হবে? নতুন যাঁরা আসছেন, দু-চার দিন কাজ করে পরে হতাশ হয়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন। এতে ইন্ডাস্ট্রির কী বেনিফিট হচ্ছে? এই কয়েক বছরের দেখায় মনে হচ্ছে, নায়িকা হলেই ভালো পাত্র মিলছে। নায়িকা তকমার এই একটা বেনিফিট।’

কথায় কথায় সেই পুরনো প্রশ্ন আবার, বিয়ে নিয়ে কী ভাবছেন? ‘সঠিক মানুষটার অপেক্ষায় আছি। আজ বিয়ে করলাম, দুদিন পর ডিভোর্স—এসব আমাকে দিয়ে হবে না’—বললেন পপি।

সংবাদমাধ্যমের ওপরও বেশ চটে আছেন পপি, “কদিন পরই বিভিন্ন পত্রিকায় শিরোনাম ‘ফিরছেন পপি’। এর মানে কী? আমি কি প্রতিবছর অবসরে যাই? কবে ঘোষণা দিয়েছি? কাজ কম-বেশি হতেই পারে। একজন শিল্পী তো গণহারে কাজ করবেন না। আর শিল্পীর তো কোনো অবসর নেই। ৭০-৮০ বছর বয়সেও মনমতো চরিত্র পেলে অভিনয় করতে পারেন। অবসরে যাওয়ার কোনো ব্যাপার এখানে নেই।’



মন্তব্য