kalerkantho


এবার সন্ন্যাসিনীর বেশে

ট্রেলার দেখেই মানুষ এতটা ভয় পেয়েছিল যে তৈরি হয়েছিল বিতর্ক। বাধ্য হয়ে সরাতে হয় ভিডিও। ট্রেলারেই এ অবস্থা, পুরো ছবি যে দর্শকদের গা হিম করে দেবে তা বলাই বাহুল্য। আগামীকাল মুক্তি পাচ্ছে ‘দ্য কনজুরিং’ সিরিজের পঞ্চম ছবি ‘দ্য নান’। লিখেছেন হাসনাইন মাহমুদ

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



এবার সন্ন্যাসিনীর বেশে

ঘটনার শুরু ‘দ্য নান’-এর একটি ভিডিও ক্লিপ দিয়ে। একের পর এক অভিযোগে ভরে গিয়েছিল ইউটিউবের বার্তাবাক্স। উপায় না দেখে ভিডিওটি সরিয়ে নিতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। অভিযোগটাও বেশ গুরুতর—‘দ্য নান’-এর ক্লিপটি এতটাই ভয়ংকর যে অতি সাহসীদের হূদয়ও কেঁপে উঠেছিল। পিলে চমকে দেওয়া সেই চলচ্চিত্র ‘দ্য নান’ বিশ্বজুড়ে মুক্তি পাচ্ছে ৭ সেপ্টেম্বর, হ্যালোউইনের দিনেই!

এবারের গল্পটা ভ্যাটিকানের এক যাজক ও তার নারী শিষ্যকে নিয়ে। রোমানিয়ায় যাদের পাঠানো হয় এক সন্ন্যাসিনীর আত্মহত্যা তদন্তে। সেই তদন্তে গিয়েই তাদের মুখোমুখি হতে হয় এক ভয়ংকর প্রেতাত্মার, প্রতিহিংসাই যার একমাত্র লক্ষ্য। একটা সাধারণ তদন্ত পরিণত হয় প্রেতাত্মার প্রতিহিংসা থেকে বাঁচার লড়াইয়ে। চলচ্চিত্রটিতে প্রেতাত্মা চরিত্র করেছেন বনি অ্যারনস। এ ছাড়া প্রধান দুই চরিত্রে আছেন ডেমিয়েন বিচার ও টাইসা ফারমিগা। মজার ব্যাপার, টাইসা ফারমিগা ‘দ্য কনজুরিং’ সিরিজের প্রধান দুটি চলচ্চিত্রের কেন্দ্রীয় চরিত্র করা ভেরা ফারমিগার ছোট বোন।

ভয়ংকরদর্শী এই সন্ন্যাসিনী প্রেতাত্মাকে প্রথম দেখা যায় ‘দ্য কনজুরিং ২’ চলচ্চিত্রে। তার ব্যাপক জনপ্রিয়তার জন্য দাবি ওঠে শুধু সেই প্রেতাত্মাকে কেন্দ্র করেই চলচ্চিত্র নির্মাণের। পরে ‘অ্যানাবেল ক্রিয়েশন’ চলচ্চিত্রেও দেখা যায় তাঁকে। ‘দ্য নান’-এর কাহিনির সময়কাল ‘অ্যানাবেল ক্রিয়েশন’-এর সময়কালেরও বেশ আগে। এখন পর্যন্ত ‘দ্য কনজুরিং’ সিরিজের সময়রেখায় সবচেয়ে প্রাচীন চলচ্চিত্র ‘দ্য নান’।

চলচ্চিত্রটির পুরো চিত্রায়ণ হয়েছে রোমানিয়ায়। মজার ব্যাপার হচ্ছে, পুরো ইউরোপের সবচেয়ে সমৃদ্ধ ভৌতিক উপকথাগুলো প্রচারিত রয়েছে এই রোমানিয়ায়। আধিভৌতিক গল্পের অন্যতম প্রধান প্রতিনিধি ব্রাম স্টোকারের কাউন্ট ড্রাকুলার ভয়ংকর প্রাসাদও ছিল রোমানিয়ার ট্রানসিলভানিয়ায়। চলচ্চিত্রটির কাহিনির সময়কাল পঞ্চাশের দশক হলেও চিত্রায়ণ হয়েছিল পঞ্চদশ শতকের পরিত্যক্ত প্রাসাদগুলোতে। ‘নান’ চিত্রায়ণের সময় থেকেই ভৌতিক কর্মকাণ্ড শুরু হয়ে যায়। শুটিংয়েই আধিভৌতিক অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছেন বলে দাবি করছেন ছবির কলাকুশলীরা। পরিচালক করিন হার্ডির দুর্নাম রয়েছে চিত্রায়ণের আগে ভৌতিক অবস্থা সৃষ্টি করে অভিনেতাদের মনস্তত্ত্বের ওপর প্রভাব বিস্তার করার। কিন্তু এবার প্রাসাদগুলোতে এতই আধিভৌতিক সব পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল যে কৃত্রিম উপায়ের আশ্রয় নেওয়ার দরকার হয়নি। অনেক কলাকুশলীই চাপা গর্জন, কান্না আর দীর্ঘশ্বাসের শব্দ শুনেছেন, দেখেছেন অদ্ভুত সব হাত-পায়ের ছাপ তৈরি হতে। কয়েকজন দাবি করেছেন, তাঁরা মধ্যযুগের সৈনিকের পোশাক পরা দুজনকে দেখেছেন হাওয়ায় মিলিয়ে যেতে! পরিচালক করিন কার্ডি মজা করে বলেন, ‘তারা মনে হয় নজর রাখছিল আমি ঠিকঠাক সিনেমা বানাতে পারছি কি না।’



মন্তব্য