kalerkantho


সালমানের কথা মনে হলে...

সালমান শাহর ২২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। এত দিন পরও তাঁকে ভোলেনি দর্শক। সহশিল্পীরা এখনো বলেন তাঁর কথা। সালমানের কথা মনে হলে সবার আগে কোন স্মৃতি ভেসে ওঠে? জানালেন তাঁর দুই সহকর্মী—ডলি জহুর ও শাবনূর

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



সালমানের কথা মনে হলে...

 

চাওয়া থেকে পাওয়া’য় ডলি জহুর ও সালমান শাহ

 

মা, তুমি এত দেরি করলে কেন?

[সালমানের বেশ কয়েকটি ছবির সহশিল্পী ডলি জহুর। উল্লেখযোগ্য ছবি—‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘বিচার হবে’, ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’, ‘আনন্দ অশ্রু’ ও ‘প্রেম পিয়াসী’। প্যাকেজ নাটক ‘নয়ন’-এও ছিলেন]

সালমানকে তো ছোটবেলা থেকেই দেখে এসেছি। ওর মা-বাবার সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক ছিল। তারকা হওয়ার আগেরই তো অনেক স্মৃতি! তবে সবার আগে যেটা মনে পড়ে সেটা ওদের বাসার একটা ঘটনা। এক ঘরোয়া অনুষ্ঠানে আমাকে দাওয়াত দিয়েছিলেন সালমানের মা। আমি তাঁকে আপা ডাকি। বাসায় গিয়ে দেখি অনেক মানুষ। হঠাৎ কোথা থেকে দৌড়ে এসে সালমান বলল, ‘মা, তুমি এত দেরি করলে কেন? আরো আগে আসতে পারলে না!’

ওর কণ্ঠে অভিমান। ছেলের এমন কাণ্ড দেখে সবার সামনেই সালমানের মা বলে বসলেন, ‘হায়রে কপাল! সন্তান জন্ম দিলাম আমি, কষ্ট সহ্য করলাম আমি। আর মা হলো ডলি!’ উপস্থিত সবাই হেসে উঠলেন তাঁর কথায়।

সালমানকে নিয়ে আরেকটি স্মৃতির কথা মনে পড়লেই হাসি পায়। একবার এক ছবির শেষ দৃশ্যের শুটিং চলছিল। সালমানের হাতে-পায়ে রক্ত লাগানো। সেই সময় ছবির প্রযোজক স্পটে হাজির। তাঁর পরণে কোট-প্যান্ট-টাই। সালমান দৌড়ে গিয়ে তাঁকে জড়িয়ে ধরল, ‘আরে ভাই! আপনার ছবির শুটিং আর আপনি এত দেরি করে এলেন? শুটিং হবে কি করে!’ বলে পিঠও চাপড়ে দিতে লাগল। প্রযোজক তো খুশিতে আটখান। এত বড় তারকা কি না তাঁর আসার অপেক্ষায় বসে আছে! বেচারা তখনো বোঝেননি সালমানের দুষ্টামি, প্রযোজকের কোট-প্যান্টে রং লাগানোটাই ছিল ওর মূল টার্গেট। ঘটনা বোঝার পর মুখটা কালো হয়ে গেল বেচারার!

‘তোমাকে চাই’ ছবিতে শাবনূর ও সালমান শাহ

 

নিজের পকেট থেকে টাকা বের করে দিল

[সালমানের সর্বাধিক ছবির নায়িকা শাবনূর। সাড়ে তিন বছরের ক্যারিয়ারে ২৭টি ছবি করেছেন সালমান, ১৫টিরই নায়িকা শাবনূর]

 

সালমানের কথা মনে পড়লে একেক সময় একেকটা স্মৃতি চোখের সামনে ভেসে ওঠে। কোনোটিরই গুরুত্ব কম নয়। কোনটা রেখে কোনটার কথা বলব! প্রথম দেখা হওয়ার কথাই বলি। এহতেশাম দাদুর সঙ্গে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছবির শুটিংয়ে গেলাম, গিয়ে দেখি মৌসুমী আপু আর সালমান একটি গানের শুটিং করছে। প্রথমবার দেখেই মনে হয়েছিল, এত স্মার্ট নায়ক! কথা বলার ইচ্ছা হলেও সেদিন পারিনি।

আরেক দিন শুটিংয়ে এলেন আমার মা। চেয়ার না থাকায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে শুটিং দেখছিলেন, আমি খেয়াল করিনি। কিন্তু সালমানের নজর এড়ায়নি। প্রডাকশন বয়কে ডেকে এনে নিজের পকেট থেকে টাকা দিয়ে পাঠাল দোকানে, মায়ের জন্য নতুন চেয়ার কিনে আনিয়েছে। আরেকটি স্মৃতি খুব মনে পড়ে। গানের শুটিং পরদিন। আমির হোসেন বাবু সালমানকে নাচের মুদ্রা তুলে দিয়েছেন আগেই। কিন্তু কোনোভাবেই সালমান সেটা মনমতো করতে পারছে না। পরে আমার কাছে চুপিচুপি এসে বলল, ‘পিচ্চি, নাচটা এত কঠিন! আমারে একটু তুলে দে তো!’ ওর ওই সহজ-সরল চেহারাটা আজও ভোলার নয়। কোনো কিছু আদায় করে নেওয়ার বেলায় ভীষণ পটু ছিল।

 

 



মন্তব্য