kalerkantho


প্রবাসেও সুরের চন্দন

দেড় যুগ ধরে কানাডায় বসবাস করছেন উইনিং ব্যান্ডের ভোকাল চন্দন জামান আলী। প্রবাসেও চালিয়ে যাচ্ছেন সংগীতসাধনা। সামনে আসছেন নতুন গান নিয়ে। লিখেছেন রবিউল ইসলাম জীবন

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



প্রবাসেও সুরের চন্দন

মাঝে বাংলাদেশে এলে গানবাংলা টিভির ‘উইন্ড অব চেঞ্জ’ অনুষ্ঠানের জন্য নিজের ব্যান্ড উইনিংয়ের ‘হূদয়জুড়ে’ গানটিতে নতুন করে কণ্ঠ দেন চন্দন। মাস আড়াই আগে সে গানটি ইউটিউবে প্রকাশের পর চারদিক থেকে একের পর এক প্রশংসা পেতে থাকেন চন্দন। নিজের লেখা ও সুর করা গানটি যে এত বছর পরও মানুষ শুনছে, মনে রাখছে, তা দেখে অনুপ্রাণিত হন গায়ক। নতুন করে গানটি রেকর্ডিংয়ের সময়ই চন্দনের সঙ্গে দেখা হয় ফুয়াদ আল মুক্তাদিরের। সে সময় দুজন মিলে পরিকল্পনা করেন কিছু একটা করার। তারই অংশ হিসেবে এবার উইনিংয়ের ‘ইচ্ছে করে’ গানটি ফুয়াদের সংগীতায়োজনে নতুন করে করলেন চন্দন। এরই মধ্যে ফুয়াদের নিউ জার্সির স্টুডিওতে গিয়ে গানটিতে ভয়েস দিয়েছেন। চন্দন বলেন, ‘নতুন প্রজন্মের মাঝে গানটি ছড়িয়ে দিতেই এই চিন্তা। আমার বিশ্বাস, এর ফলে গানটি নতুন করে শ্রোতাদের মাঝে পরিচিত হবে।’ ফুয়াদ জানিয়েছেন, গানটির ভিডিও করা হবে চলচ্চিত্রের মতো করে; যাতে একটি গল্প তুলে ধরা হবে। ভিডিওর কাজ শেষ হলেই দর্শক-শ্রোতাদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। আরো কয়েকটি নতুন গানের খবরও জানিয়েছেন চন্দন। এর মধ্যে ‘তোমার জন্য’ এবং ‘বাংলাদেশ’ শিরোনামে দুটি গান পুরোপুরি তৈরি। সজীব আহমেদ রিয়াজের কথায় এগুলোর সুর-সংগীতও করেছেন চন্দন নিজেই। ফুয়াদের সুর-সংগীতে করেছেন ‘কিছু হয় আনমনে’ শিরোনামের আরেকটি গান। কাজ করছেন আরো একাধিক গান নিয়ে। গানগুলো পর্যায়ক্রমে একটি একটি করে প্রকাশ করবেন। ‘নতুন গান তৈরির মধ্যে একটা শান্তি আছে। আমি এখানে টিডি ইনস্যুরেন্স নামে একটি কম্পানির অ্যাডভাইজার হিসেবে কাজ করছি। কাজের ফাঁকে ফাঁকে সময় বের করেই গানগুলো তৈরি করছি। সব কিছুর সমন্বয় করে এভাবে গান রেকর্ডিং করা খুব কঠিন। তার পরও করছি ভালোবাসা থেকে’—বলছিলেন চন্দন। 

গত ১৮ বছরে দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন শহরে ৬০-৭০টির মতো শো করেছেন চন্দন। এসব শোতে ছুটে আসেন শহরগুলোতে থাকা প্রবাসী বাঙালিরা। ‘প্রতিবছর এখানে অন্তত তিন-চারটি শো করছি। এখানে আমার একটি সেটআপ আছে। তাদের নিয়েই শো করতে যাই। কখনো কখনো সে শহর থেকেও কাউকে বাজাতে নিই। শোগুলোতে গেলে মনে হয় বাংলাদেশেই আছি! এখানে কারো কাছে আমি চন্দন, কারো কাছে উইনিং। মজার মজার ঘটনাও ঘটে।’

২০০৩ সালে ‘প্রবাসে উইনিং’ নামে একটি ব্যান্ডও গড়েছিলেন চন্দন। পরে অবশ্য দেশে উইনিংয়ের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে বন্ধ করে দেন। এখন দেশে এলে উইনিংকে নিয়েই বিভিন্ন টিভি লাইভে অংশ নেন। বলেন, ‘দেশের ভক্তদের অনেক বেশি মিস করি। তাই বারবার দেশে আসি এবং ব্যান্ডের সঙ্গে নানা অনুষ্ঠানে অংশ নিই।’ ২০১১ সালে উইনিং সদস্যদের পুনর্মিলনীর সময় প্রকাশ পায় ব্যান্ডের সর্বশেষ অ্যালবাম ‘হূদয় ভরা ভালোবাসা’। এরপর আর কোনো অ্যালবাম নেই। চন্দন জানিয়েছেন, সময়-সুযোগ বুঝে আবারও নতুন অ্যালবাম প্রকাশ করবেন তাঁরা।

 



মন্তব্য