kalerkantho


বুড়ো ব্যোমকেশ!

গেল কয়েক বছরে টিভি, ওয়েব, চলচ্চিত্র মিলিয়ে অনেকবারই দর্শকদের যুবা ব্যোমকেশের সঙ্গে মোলাকাত হয়ে গেছে। এবার আসছে বুড়ো ব্যোমকেশ। আগামীকাল মুক্তির অপেক্ষায় থাকা দেবালয় ভট্টাচার্যের ‘বিদায় ব্যোমকেশ’ নিয়ে লিখেছেন খালিদ জামিল

১৯ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



বুড়ো ব্যোমকেশ!

অঞ্জন দত্তর হাত ধরে ‘ব্যোমকেশ’ বড় পর্দায় আসার পরই জনপ্রিয় হয়। অঞ্জন দত্তর ‘ব্যোমকেশ’ প্রথমে ছিলেন আবির চট্টোপাধ্যায়। শরদিন্দুর এই জনপ্রিয় চরিত্রে অভিনেতার জনপ্রিয়তা দেখে অরিন্দম শীলও নিজের ব্যোমকেশে নেন আবিরকে। চারদিকটা যখন বড্ড ব্যোমকেশময়, তখন তার থেকে একটু আলাদা স্বাদ দিতেই ‘বিদায় ব্যোমকেশ’, যেখানে দেখা মিলবে আশি বছরের বৃদ্ধ ব্যোমকেশকে [আগে ‘শজারুর কাঁটা’য় একবারই বৃদ্ধ ব্যোমকেশকে দেখা গিয়েছিল]। গল্পে ব্যোমকেশ থাকলেও এই কাহিনি শরদিন্দুর নয়, পরিচালকের একেবারেই নিজস্ব। কিন্তু বাঙালির এত জনপ্রিয় চরিত্রকে বুড়ো হিসেবে কেন দেখাতে চাইলেন পরিচালক? ‘দর্শক যে এত ব্যোমকেশের ছবি দেখছে, সেটা কিন্তু গল্পের জন্য নয়, চরিত্রটার জন্য। আর ব্যোমকেশকে বরাবর আমার সাংসারিক মনে হয়। মনে হলো, সবার বয়স বাড়লে তারই বা বাড়বে না কেন। একটা ব্যোমকেশের ছবি দেখতে দেখতেই গল্পটা মাথায় আসে। আমি নিজে গোয়েন্দা গল্পের পোকা। এভাবেই ছবিটা,’ বলেন দেবালয়। কিন্তু বুড়ো ব্যোমকেশ চরিত্রেও কেন সেই আবিরকেই নিতে হলো? পরিচালক বলছেন, নিজের আর প্রযোজনা সংস্থার পছন্দেই এটা হয়েছে, ‘সত্যি বলতে শুরুতে ভেবেছিলাম এটা ছোট স্কেলে করব। প্রস্থেটিক করার বাজেট ও ঝামেলা নেওয়ার সাধ্য ছিল না। কিন্তু প্রযোজনা সংস্থার সাহায্যে সেটা হয়েছে।’

‘বিদায় ব্যোমকেশ’-এর ট্রেলার মুক্তির পরই অল ইন্ডিয়া ট্রেন্ডিংয়ে ষষ্ঠ হয়ে আলোচনায় আসে। ছবির গল্পটা এমন—বুড়ো ব্যোমকেশ গোয়েন্দাগিরি ছেড়ে পুরো সংসারী। হঠাৎ তার ছেলে নিখোঁজ হয়। কিছুতেই পাত্তা পাওয়া যায় না। পেরিয়ে যায় দুই বছর। নাতি সাত্যকী বারবার দাদুকে খোটা দিতে থাকে, ‘তুমি কিসের গোয়েন্দা? নিজের ছেলেকেই খুঁজে বের করতে পারো না।’ এটা তাতিয়ে দেয় ব্যোমকেশকে। মাঠে নামে সে। দাদু ও নাতি দুই চরিত্রই করেছেন আবির। সত্যবতী চরিত্রে আছেন সোহিনী সরকার।

ছবিতে তরুণ ব্যোমকেশকে যে একেবারে দেখা যাবে না তা নয়। ফ্ল্যাশব্যাক থাকবে।

পরিচালক বলছেন, ‘ব্যোমক্যাশকে একটু ভিন্নভাবে এবার হাজির করতে চেয়েছি। শেষ বয়সে ওকে বড় একটা চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছি। দর্শকদের মাঝে তাই ওকে নিয়ে বেশ আগ্রহ তৈরি হয়েছে।’ যে চ্যালেঞ্জ নিয়ে আনন্দিত আবিরও, ‘বাইরে স্পিন অফ ছবি তৈরির চল থাকলেও বাংলায় সেভাবে কিন্তু হয় না। ব্যোমকেশকে নিয়ে নতুন চিন্তাভাবনা ভালো লেগেছে। এটা আমার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। আমি নিশ্চিত, দর্শক ছবিটি দেখলে নতুন কিছুর স্বাদ পাবে।’

ছবিটি পরিচালক দেবালয়ের জন্যও কম চ্যালেঞ্জের নয়। কারণ আগের ছবি ‘রোগা হওয়ার সহজ উপায়’ বক্স অফিসে ব্যর্থ হওয়ায় হতাশ হয়ে স্বেচ্ছাবিরতিতে গিয়েছিলেন। এরপর টিভি সিরিয়াল, ওয়েব সিরিজ করেছেন, কিন্তু বড় পর্দায় আসেননি। ‘বিদায় ব্যোমকেশ’ দিয়ে ফের আসছেন দেবালয়, ‘তিন বছর আগে প্রথম ছবি ভালো না করায় একটু চিন্তিত হয়ে পড়েছিলাম। কিভাবে গল্প বলব, সেটা ঠিক করতে একটু সময়ের দরকার ছিল।’

‘বিদায় ব্যোমকেশ’-এ আবির-সোহিনী ছাড়াও আছেন রাহুল ব্যানার্জি, জয় সেনগুপ্ত প্রমুখ। এ ছাড়া অভিনয় করেছেন পরিচালক অরিন্দম শীল, যিনি নিজেও নিয়মিত ‘ব্যোমকেশ’ বানান।



মন্তব্য