kalerkantho


এপারের শম্পা ওপারে

প্রায় দুই বছর পর ৬ জুলাই মুক্তি পেল তাঁর ছবি ‘চিরদিনের এক অন্য প্রেমের গল্প’। তা-ও আবার দেশের বাইরে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে। শম্পা হাসনাইনকে নিয়ে লিখেছেন আতিফ আতাউর

১৯ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০




এপারের শম্পা ওপারে

আগেও কলকাতায় গিয়েছেন বেশ কয়েকবার। তবে ছবি মুক্তির সময় প্রচারণায় গিয়ে অবাকই হলেন। কেন? ‘এয়ারপোর্ট থেকে বেরিয়েই আমার চোখ কপালে! ভিনদেশের রাস্তার পাশে বিলবোর্ড-পোস্টারে আমার বড় বড় ছবি। অভাবনীয় এই দৃশ্য দেখে অবাক হব না?’—ভ্রু নাচিয়ে পাল্টা প্রশ্ন করলেন শম্পা।

ছবির কলাকুশলীদের সঙ্গে কলকাতা, হুগলিসহ পশ্চিমবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলা চষে বেড়িয়েছেন। সঙ্গে ছিলেন শম্পার স্বামী মডেল-অভিনেতা সাখাওয়াত সাগরও। ঢু মেরেছেন বেশ কয়েকটি প্রেক্ষাগৃহেও। কেমন ছিল সেই অভিজ্ঞতা? ‘একেবারেই অন্য রকম। বাংলাদেশে ছবি মুক্তির সঙ্গে সঙ্গেই হলে হুমড়ি খেয়ে পড়ে না দর্শক। ছবিটা সম্পর্কে আগে  জানতে চায়, বুঝতে চায়। তারপর সিদ্ধান্ত নেয় দেখবে কি দেখবে না। কিন্তু ওখানকার দর্শক অন্য রকম। হলে নতুন ছবি এলেই ওরা লাইন ধরে দাঁড়িয়ে যায়। দেখার পর ভালোমন্দ বিচার করে। তবে সিটি বাজানো, হাততালি দেওয়ার বিষয়ে এখানকার দর্শকের সঙ্গে ওদের মিল আছে’, বললেন শম্পা।

প্রথমবারের মতো ভিনদেশে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এ কারণে শুরু থেকেই ছিলেন ভীষণ সিরিয়াস, ‘মনপ্রাণ উজাড় করে অভিনয় করেছি, যাতে ওরা বলতে না পারে বাংলাদেশের মেয়েটি কাজে আন্তরিক নয়। সকাল ৮টায় শুটিং থাকলে আধাঘণ্টা আগেই স্পটে হাজির হয়েছি।’

সুযোগ পেলেন কিভাবে এই ছবিতে? ‘ওরাই আমাকে খুঁজে বের করেছে। পরিচালক রঞ্জন মল্লিক তাঁর ছবির গল্পের সঙ্গে মিল রেখে নায়িকা খুঁজছিলেন। ইউটিউবে আমার নাটক দেখে পছন্দ করেন এবং আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। আমারও পছন্দ হলো সব কিছু।’

ছবিতে শম্পার নায়ক সমদর্শী দত্ত। শুটিংয়ে যাওয়ার আগে সমদর্শীর বেশ কয়েকটি ছবি দেখে নিয়েছেন শম্পা, যাতে শুটিংয়ে গিয়ে কোনো সমস্যা না হয়।

দুই বছর আগে পর পর দুই সপ্তাহে দুই ছবি মুক্তি পায় শম্পার—‘গ্যাংস্টার রিটার্নস’ ও ‘লাভ ইউ প্রিয়া’। দীর্ঘদিন সেন্সরে আটকে আছে ‘এক্সকিউজ মি’। শুটিং করছেন ‘শ্রাবণ তোমাকে’র।

২০০৯ সালে ‘সুপার হিরো সুপার হিরোইন’ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে পরিচিতি পান। ৯ বছরে শম্পার ছবি মুক্তি পেয়েছে মাত্র পাঁচটি। শম্পা বলেন, ‘সময়ের তুলনায় সংখ্যাটা অবশ্যই কম। আমি নিজের সঙ্গে কম্প্রোমাইজ করতে পারিনি। যেনতেন কাজ করলে হয়তো সংখ্যা বাড়ত। তাতে লাভ কিছু হতো বলে আমার মনে হয় না। সব সময় অভিনয় করতে চেয়েছি এবং অবশ্যই ভালো অভিনয়।’

একটা সময় ভেবেছিলেন ছোটপর্দায় মুখ দেখাবেন না, বড়পর্দা নিয়েই পড়ে থাকবেন। পছন্দমতো ছবি না পাওয়ায় মত বদলালেন, সঙ্গে মায়ের প্রচ্ছন্ন উসকানিও ছিল। মা প্রায়ই বলতেন, ‘তুমি না অভিনয় করো! টেলিভিশনে তো দেখি না’, বললেন শম্পা।

এখন সপ্তাহের প্রায় দিনই টিভিতে মেয়ের দেখা পান মা। এনটিভি ও এশিয়ান টিভির দুটি অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করছেন। সামনেই করবেন দেশ টিভি ও বাংলা টিভির আরো দুটি অনুষ্ঠান। এখন ব্যস্ত সময় কাটছে ঈদের নাটকের শুটিংয়ে।

ভালোবেসে বিয়ে করেছেন অভিনেতা সাগরকে। শোবিজ দম্পতিদের সংসারজীবনের এই দুঃসময়ে কেমন চলছে আপনাদের জীবন? ‘মাশাল্লাহ অনেক ভালো। অর্ধেক জীবন মা-বাবা আমাকে যেভাবে আগলে রেখেছিলেন, সেভাবেই ও এখন আগলে রাখছে আমাকে। আমি সৌভাগ্যবান, ওর মতো একজনকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পেয়েছি। কাজের ক্ষেত্রেও সব সময় সমর্থন দেয়। আমরা একসঙ্গে কয়েকটি ছবিও করেছি।’



মন্তব্য