kalerkantho

অন্য আগুন

গান, অভিনয়, উপস্থাপনা—সবখানেই আছেন খান আসিফুর রহমান আগুন। সম্প্রতি খুলেছেন গিটার শেখার স্কুল। তাঁর বর্তমান সময়ের গল্প শুনেছেন মীর রাকিব হাসান। ছবি তুলেছেন মোহাম্মদ আসাদ

১৯ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



অন্য আগুন

একটুখানি বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে ঢাকাবাসী। এটা প্রায় সবারই জানা। সরকারও নানা সময়ে নিয়েছে নানা উদ্যোগ। কিন্তু সমাধান মেলেনি। আগুন একটু চেষ্টা করে দেখতে চান। ঢাকা শহরের আটকে থাকা ড্রেনগুলো খুলে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে ল্যাবএইড। তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন আগুন। ‘ঢাকা শহরের জলাবদ্ধতা অনেক সময় গ্রামের চেয়েও ভয়াবহ। ময়লা, নোংরা পানি—সব মিলেমিশে একাকার। আমরা যারা গাড়িতে চড়ি, তারাই বের হতে পারি না। চিন্তা করে দেখুন, যারা রাস্তায় বা বস্তিতে থাকে, তাদের কী অবস্থা হয়! কতজন ভাবে এসব নিয়ে! ভাবলেও কিছু করতে পারি না। আমি সুযোগ পেয়েছি কিছু একটা করার। স্টেট ইউনিভার্সিটির প্রায় ১০০ শিক্ষার্থী নিয়ে আমরা এ মাসেই ধানমণ্ডি এরিয়ার ড্রেনগুলো পর্যবেক্ষণ করব এবং এগুলো সুরক্ষার ব্যবস্থা করব’—বললেন আগুন।

মাসখানেক আগে কলাবাগানের এনকে টাওয়ারে চালু করেছেন গিটার শেখার স্কুল ‘শ্রুতি’। এখনো খুব বেশি শিক্ষার্থীর সমাগম হয়নি। প্রচার-প্রচারণা চালাবেন আরো। ‘শ্রুতি’তে এখন শুধুই গিটার শেখানো হয়। গানও শেখানো হবে সামনে। আগুন বলেন, ‘গান-বাজনাটাকে প্রফেশনালি নিতেই হবে এমন নয়। হাতে নেশাদ্রব্য না নিয়ে গিটার নাও। নিজের নেশাটা গানে করো। একটা সময় তো ঘরে ঘরে হারমোনিয়াম বাজত, নিয়মিত রেওয়াজ চলত। এটাই বাঙালির সংস্কৃতি। কিন্তু আমরা এসব বেমালুম ভুলে যাচ্ছি। মানুষের মনে সুরের ছোঁয়া থাকলে অনেক অন্যায়-অপরাধমূলক কাজ থেকে দূরে থাকা যায়।’

আগুনের গানবিষয়ক যাবতীয় ব্যস্ততা স্টেজ শো নিয়ে। আজ কানাডা তো কাল কোরিয়া। এ মাসের বাকি দিনগুলোতে তাঁকে আরো দুইবার দেশের বাইরে যেতে হবে। আর রেকর্ডিং? “ফাহমিদা নবী আমার সুরে গাইলেন ‘সাদা মেঘের ঘুড়ি’। একটা সিনেমার গানে কণ্ঠ দিলাম, নামটা মনে নেই। রিসেন্ট কাজ এগুলোই”—বললেন আগুন। কাজের সংখ্যা তো তুলনামূলক কমই বলা যায়। স্বীকার করলেন আগুন, ‘একটা জেনারেশন গ্যাপ যাচ্ছে। নতুনরা খুবই ভালো করছে। এদের অনেকের সঙ্গেই আমার ভালো সম্পর্ক। কিন্তু কোথায় যেন গানটা করা হচ্ছে না। তা ছাড়া প্ল্যান করে আমি কখনো কিছু করি না। এই মূহূর্তে স্টেজ শো নিয়ে বেশি মাথা ঘামাচ্ছি। স্টেজে পারফরম করে রেকর্ডিং খুব একটা হয়ও না।’

ইদানীং অভিনয়েও কম দেখা যাচ্ছে। ‘ওই যে বললাম জেনারেশন গ্যাপ। মানুষ হয়তো আমাকে ভুলে যেতে শুরু করেছে বা আমার বিকল্প তৈরি হয়েছে। তাই আমাকে না ডাকলেও চলে।’

উপস্থাপনায় সব সময়ই নতুন কিছু দেওয়ার চেষ্টা করেন আগুন। শুরু করেছিলেন বিটিভিতে। এখন স্যাটেলাইট চ্যানেলের বেশ কিছু অনুষ্ঠান করছেন। ‘বেশির ভাগই বিশেষ দিবসের বিশেষ অনুষ্ঠান। উপস্থাপনায়ও অ্যাক্টিং বেইজড কিছু করার চেষ্টা করি। কখনো আমাকে দেখে হয়তো মনে হবে জোকার আবার কখনো খুব সিরিয়াস। একবার ন্যানিস ও সালমাকে নিয়ে লাইভ অনুষ্ঠান করছিলাম। ওই অনুষ্ঠানের দুই সপ্তাহ আগে থেকেই আমি গোঁফ রেখে দিয়েছিলাম, যাতে দর্শক আমাকে ভিন্ন লুকে দেখতে পায়। গানের ফাঁকে ফাঁকে দর্শকের কাছ থেকে আমার গোঁফ বিষয়ক কথা বলছিলাম। কেউ কেউ বলেছেন, খুব মানিয়েছে। অনেকেই বলেছেন, দেখতে ভীষণ খারাপ লাগছে। নাট্যকার-পরিচালক জিনাত হাকিম ভাবি ফোন করে বললেন—আগুন, গোঁফে তোমাকে খুব খারাপ দেখাচ্ছে। পরের অনুষ্ঠানে তুমি আর গোঁফ রাখবে না। আমি তাত্ক্ষণিক পকেট থেকে রেজর বের করে বললাম, এখনই একটা ব্রেক নিয়ে নিচ্ছি এবং ব্রেকের পর আমাকে আপনারা দেখবেন গোঁফহীন অবস্থায়। খুব মজা হয়েছিল সেদিন। আসলে এভাবেই আমি দর্শকদের আনন্দ দেওয়ার চেষ্টা করি এবং ভিন্ন ধরনের কিছু করার চেষ্টা করি।’

একসময় পত্রিকায় টুকটাক লিখতেন। লেখালেখিটা কি ছেড়েই দিলেন? ‘সাধারণত ব্যঙ্গাত্মক কলাম লিখতাম, সামাজিক বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে। এখন লেখালেখি থেকে দূরে আছি। মঞ্চে পারফরম করার সময় কথাচ্ছলে মেসেজ পৌঁছে দেওয়াটাই আমার এই মুহূর্তে বেটার মনে হচ্ছে। যেহেতু শিক্ষিত ও ভালো পাঠক-শ্রোতা আমরা দিন দিন হারাচ্ছি, তাই সরাসরি তাদের কাছে মেসেজ পৌঁছে দেওয়াটাই বেশি উপযোগী বলে মনে করি।’



মন্তব্য