kalerkantho


প্রযোজক নওশীন

এক-দুজনকে প্রধান চরিত্রে রেখে অন্যদের নিয়ে কম বাজেটে বানিয়ে ফেলব— এমনটা আমরা চাইনি

১৯ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



প্রযোজক নওশীন

স্বামী আদনান ফারুক হিল্লোলকে সঙ্গে নিয়ে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘কেবিন ব্যাগ এন্টারটেনমেন্ট’ গড়ে তুলেছেন নওশীন নাহরিন মৌ। বড় বাজেট ও স্টার কাস্ট নিয়ে প্রথমবারের মতো তৈরি করলেন মেগাধারাবাহিক ‘নিউ ইয়র্ক থেকে বলছি’। প্রচার শুরু হয়েছে দীপ্ত টিভিতে। প্রযোজক নওশীনকে নিয়ে লিখেছেন ইসমাত মুমু। ছবি তুলেছেন সুমন হোসাইন

 

ধারাবাহিক নাটক এখন কে দেখে? সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশ্নটা তুলেছেন অনেকেই। এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে নেমেছেন নওশীনও। উত্তরে যা খুঁজে পেয়েছেন, সেখান থেকেই বানালেন নতুন এই মেগাধারাবাহিক। রচনা রূপান্তর, পরিচালনায় রহমতুল্লাহ তুহিন।

ধারাবাহিকের গল্পের কিছুটা বললেন নওশীন—‘মাজেদ সাহেব স্বপ্ন দেখেন, মেয়ে মিরা দেশে ফিরে এসে অসুস্থ মা পারভিনকে আধুনিক চিকিত্সার জন্য নিয়ে যাবে আমেরিকায়। বাস্তবতা ভিন্ন, আমেরিকায়  দেনায় জর্জরিত মিরা। মা-বাবার কাছ থেকে লুকিয়ে রাখে বিষয়টা। অবশেষে দেশে ফিরতে বাধ্য হয়। অন্যদিকে আমেরিকায় যাওয়ার পর ইভানা চেষ্টা করছে প্রেমিক ইন্তুকেও সেখানে নিতে। নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য নিউ ইয়র্কের ক্যাবচালক কৌশিককে কন্ট্রাক্ট বিয়ে করে ইভানা। চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও ইভানাকে কিছুতেই ডিভোর্স দেয় না কৌশিক। ইন্তু সিদ্ধান্ত নেয়, কফি শপ বেচে চলে যাবে নিউ ইয়র্কে। বাধা হয়ে দাঁড়ায় ইন্তুর মা রেহানা, তিল তিল করে গড়ে তোলা কফি শপ কিছুতেই বিক্রি করতে দেবে না সে। একদল নিউ ইয়র্ক প্রবাসী বাংলাদেশি এবং ঢাকায় রেখে যাওয়া তাদের প্রিয়জনের পথচলার গল্প নিয়ে এই ধারাবাহিক। বেশির ভাগ অংশের শুটিংই হয়েছে নিউ ইয়র্কে।’

গল্প ও লোকেশনের পাশাপাশি এই ধারাবাহিকের বড় আকর্ষণ একঝাঁক তারকা অভিনয়শিল্পী। কে নেই—রাইসুল ইসলাম আসাদ, শহীদুজ্জামান সেলিম, টনি ডায়েস, ওয়াহিদা মল্লিক জলি, ইন্তেখাব দিনার, রিচি সোলায়মান, তারিন, হিল্লোল, সাবেরি আলম,  নওশীন, নাফিসা জাহান, কল্যাণ, জেনি, ঈশানা প্রমুখ। নওশীন বলেন, ‘দায়সারাভাবে সিরিয়াল বানাতে চাইনি। প্রতিটি চরিত্রেই দক্ষ ও নামি শিল্পীদের নিয়েছি। এক-দুজনকে প্রধান চরিত্রে রেখে অন্যদের নিয়ে কম বাজেটে বানিয়ে ফেলব—এমনটা আমরা চাইনি।’

‘নিউ ইয়র্ক থেকে বলছি’র কৃতিত্ব দীপ্ত টিভিকে দিতে চান নওশীন, ‘আমরা আসলে পুরোপুরি প্রডিউসার নই। দীপ্ত টিভির সঙ্গে সহায়তা করছি মাত্র। প্রজেক্টটা আমাদের দিয়েছে ওরা, আমরা এজেন্সি হিসেবে কাজটা করেছি। স্টোরি, কাস্টিং দিয়েছি আমরা, সেগুলোর অনুমোদন দিয়েছে চ্যানেল। এরপর আমরা শুটিং করে নিয়ে এসেছি।’

এত এত তারকা নিয়ে ভিনদেশে শুটিংয়ে অভিজ্ঞতা কেমন? ‘দারুণ! কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি। কারণ আমরা যাঁদের সঙ্গে কাজ করেছি, সবাই প্রফেশনাল অভিনয়শিল্পী, অভিনয়কে ভালোবাসেন। টনি ডায়েস ভাই আমেরিকায় থাকেন, তিনিও অভিনয় করেছেন। যথেষ্ট সহযোগিতা করেছেন। সিনিয়র আর্টিস্টদের পছন্দমতো সব কিছু আয়োজন করতেও খুব একটা সমস্যায় পড়তে হয়নি। যথার্থভাবে কাজটা করতে পেরেছি, এ কারণে আমি অত্যন্ত খুশি’—বললেন নওশীন।

১০৪ পর্বের ধারাবাহিকটির প্রচার শুরু হয়েছে ৩০ জুন। শনি থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিট ও রাত ৯টা ৩০ মিনিটে প্রচারিত হয় এটি।

নিজের প্রযোজিত ধারাবাহিকে তো অভিনয় করেছেনই, প্রচারিত হচ্ছে তাঁর আরো বেশ কয়েকটি ধারাবাহিক। এর মধ্যে রয়েছে ‘ঘরে বাইরে’, ‘ভলিউমটা কমান’, ‘ভালবাসা কারে কয়’, ‘প্রিয় পরিবার’ ও ‘কমেডি ৪২০’। একক নাটকে খুব কমই দেখা যায় তাঁকে। সর্বশেষ অভিনয় করলেন রিদম খান শাহীনের ‘চিলেকোঠার সংসার’-এ। মাঝখানে এক মাস খুব বেশি অভিনয় করতে পারেননি। পুরো বিশ্বকাপের সময়টা মাছরাঙায় উপস্থাপনা করেছেন ‘কিক অফ’। বিশ্বকাপ শেষ, এবার নেমে পড়বেন অভিনয়ে।



মন্তব্য