kalerkantho


মাঠে যোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকলে খেলা জমে না

ঈদে বাংলাদেশ ও ভারতে একযোগে মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল জয়দীপ মুখার্জির ‘ভাইজান এলো রে’। ভারতে মুক্তি পেলেও নানা জটিলতায় মুক্তি পায়নি বাংলাদেশে। অবশেষে আগামীকাল মুক্তি পেতে যাচ্ছে শাকিব খান অভিনীত ছবিটি। এই ছবির সূত্র ধরে ‘ভাইজান’ বলেছেন ঢালিউড-টালিগঞ্জের কথা, নিজের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান, সহশিল্পী ও শত্রু-মিত্রের কথা। লিখেছেন সুদীপ কুমার দীপ

১৯ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



মাঠে যোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকলে খেলা জমে না

ঈদে ‘ভাইজান এলো রে’ ভারতে মুক্তি পেয়েছিল, প্রায় এক মাস পর মুক্তি পাচ্ছে বাংলাদেশে। ছবিটি সুবিধা করতে পারবে এখানে? কী মনে হয় আপনার?

অবশ্যই পারবে। ভক্তরা আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছে ছবিটির জন্য। ভারতে মুক্তি পেলেও ছবি তো আর পাইরেটেড হয়নি যে দর্শকরা এর মধ্যে দেখে ফেলেছে! আমার বিশ্বাস, ছবিটি দারুণ ব্যবসা করবে।

 

আগামীকাল জিতের ‘সুলতান’ও কিন্তু মুক্তি পাওয়ার কথা!

মাঠে যোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকলে খেলা জমে না। এর আগে জিতের ‘বাদশা’র সঙ্গে আমার ‘শিকারি’ এবং ‘বস ২’-এর সঙ্গে ‘নবাব’ মুক্তি পেয়েছিল। আমি কিন্তু প্রমাণ দিয়েছি, বাংলাদেশে শাকিব খানের অবস্থান কতটা শক্ত।

 

তাহলে টালিগঞ্জে আপনার অবস্থান ততটা পোক্ত নয়?

এই ঈদে কলকাতায়ও ‘ভাইজান এলো রে’র মাধ্যমে প্রমাণ হয়ে গেছে, শাকিব শুধু বাংলাদেশের নয়, দুই বাংলার। ভারতের আসাম ও কলকাতায় দারুণ ব্যবসা করেছে ছবিটি। সেখানকার প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া ছবিটিকে হিটের তকমাও দিয়েছে। প্রযোজক অশোক ধানুকা এক সাক্ষাত্কারে বলেছেন, তিনি যতটুকু আশা করেছিলেন তার দ্বিগুণ পেয়েছেন। আর সে কারণেই আমার সঙ্গে নতুন করে চুক্তি করেছেন। শ্রী ভেঙ্কটেশ ফিল্মসও আমাকে নিয়ে ছবি নির্মাণ করছে। আমার সঙ্গে বেশ কিছু বিষয়ে তারাও চুক্তি করতে চায়। এতেই কি প্রমাণ হয় না বাংলাদেশের মতো সেখানেও আমি সুপারস্টার!

 

মাঝখানে দেশীয় প্রযোজনায় নির্মিত আপনার ছবিগুলোতে ভারতীয় কলাকুশলীরা প্রাধান্য পেতেন। এখন আবার বাংলাদেশের কলাকুশলীদের নিচ্ছেন। বিষয়টা কী?

দেশীয় কলাকুশলীদের কখনোই ছোট করে দেখিনি। সব সময় চেয়েছি, তাঁরাও কাজ করুন। কিন্তু নিজেদের স্বার্থে কেউ কেউ রটিয়েছে, আমি নাকি দেশি টেকনিশিয়ানদের ক্ষেত্রে ‘না’ করি। ‘ক্যাপ্টেন খান’, ‘চিটাগাংইয়া পোয়া নোয়াখাইল্লা মাইয়া’তেও তো বাংলাদেশের চিত্রগ্রাহক, কোরিওগ্রাফার, সংগীত পরিচালক কাজ করেছেন। আমি তো কোনো নাক গলাইনি! শুধু চেয়েছি, সবাই যেন তাঁর সেরাটা দেন।

 

বেশ আগেই নিজের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে নতুন ছবির ঘোষণা দিয়েছিলেন। কত দূর কী হলো?

হিমেল আশরাফকে দিয়ে ‘প্রিয়তমা’র ঘোষণা দিয়েছিলাম। গল্প নিয়ে কাজ চলছে। আরো একটি ছবির পরিকল্পনা করেছি, শিগগিরই জানাব। তবে বলে রাখি, রিমেক ছবির পেছনে টাকা লগ্নি করব না। কারো কাছে যদি ভালো স্ক্রিপ্ট থাকে, গল্প ভাবনা থাকে, আমার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।

 

অপু বিশ্বাসের পর এখন শবনম বুবলির সঙ্গেও একের পর এক ছবিতে অভিনয় করছেন। একই জুটি বারবার পর্দায় এলে...

আমার নায়িকা কে হবেন তা নির্ধারণের দায়িত্ব প্রযোজক-পরিচালকের। আমি হয়তো কয়েকজনের নাম প্রস্তাব করি। বুবলির সঙ্গে গত দুই বছরে ছয়টি ছবি করেছি, সবই হিট। হয়তো সে কারণেই আমার সঙ্গে বুবলিকে দেখতে চান প্রযোজক। তবে হ্যাঁ, একই জুটি বারবার পর্দায় দেখলে দর্শক যে বিরক্ত হয়, সেদিকে আমারও খেয়াল আছে।

 

অমিতাভ রেজার ‘রিকশা গার্ল’ নিয়ে কী বলবেন?

প্রথম ছবি ‘আয়নাবাজি’তেই তিনি বাজিমাত করেছেন। এমন মেধাবী পরিচালকদের আরো বেশি সিনেমা নির্মাণ করা উচিত। তিনি যখন আমাকে প্রস্তাব দিলেন, সঙ্গে সঙ্গে গ্রহণ করেছি।

 

রোজার ঈদে ‘সুপার হিরো’র মুক্তি পাওয়া নিয়েও জটিলতা তৈরি হয়েছিল। কোরবানির ঈদে এমন কিছুর আশঙ্কা করছেন? কোন কোন ছবি মুক্তি পাবে?

আমার শত্রুর অভাব নেই। তারা সব সময় ওত পেতে থাকে। কিভাবে আমার ভক্তদের বঞ্চিত করা যায়, তার সমস্ত ছক এঁকে রাখে তারা। ‘ক্যাপ্টেন খান’ ও ‘নোলক’ মুক্তি পাওয়ার কথা। দুটিই দেশীয় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের। দেখি, এবার কোন দোষ খুঁজে বের করে তারা।

 

ভক্তদের অভিযোগ, আপনি চাইলেই ছবির মান আরো ভালো করতে পারেন। কিন্তু সেদিকে আপনার নজর কম!

কে বলল! পাঁচ বছর ধরে সিনেমার গান হিট হচ্ছে। সংলাপও হিট হচ্ছে। বাজেট বেড়েছে। ছবির কালার, গল্প বলার ধরন বদলেছে। আমার ‘শিকারি’, ‘নবাব’, ‘হিরো দ্য সুপারস্টার’ বিভিন্ন দেশে মুক্তি পেয়েছে। ‘সুপার হিরো’ও ইউরোপ-অস্ট্রেলিয়ায় মুক্তির প্রক্রিয়া চলছে। এর পরও বলবেন, সিনেমার মান বাড়ানোর দিকে আমার নজর নেই?



মন্তব্য