kalerkantho

একই পথে

২৪ মে, ২০১৮ ০০:০০



একই পথে

বিজন চন্দ্র মিস্ত্রীঅনিন্দিতা চৌধুরী—দুজনই নজরুলসংগীত শিল্পী। নজরুলের জন্মদিন উপলক্ষে একই প্রতিষ্ঠান থেকে অ্যালবাম করেছেন। সামনে একসঙ্গে অ্যালবাম করার ইচ্ছা তাঁদের। লিখেছেন আতিফ আতাউর। ছবি তুলেছেন মোহাম্মদ আসাদ

 

‘নয়নের নীড়ে’ অনিন্দিতা চৌধুরীর প্রথম একক অ্যালবাম। আগে বেশ কয়েকটি মিক্সড অ্যালবামে গাইলেও একক অ্যালবামটা করা হয়ে উঠছিল না। বললেন, ‘আমি কোনো কিছুতেই তাড়াহুড়া পছন্দ করি না। ইচ্ছা করলে আরো চার-পাঁচ বছর আগেই একক অ্যালবাম বের করতে পারতাম। কিন্তু তাতে হয়তো কম্প্রোমাইজ করতে হতো। সেটা চাইনি। এ জন্যই এত দেরি।’ পক্ষান্তরে ‘বনে বনে লাগল দোল’ বিজন চন্দ্র মিস্ত্রীর চতুর্থ একক। আগে তাঁর তিনটি অ্যালবাম বের হয়েছে—২০০৪ সালে ‘ঠাঁই যেন পাই চরণে’ এবং ২০১২ সালে ‘মাটির প্রতিমা’ ও ‘শক্তিময়ী মা’। বেশ কিছু মিক্সড অ্যালবামেও গেয়েছেন। 

অনিন্দিতা বলেন, ‘শ্রোতাদের নজরুলের মৌলিক সুরে পছন্দের গানগুলো শোনাতে কলকাতা থেকে কয়েক বছর আগে অ্যালবামটির সংগীতায়োজন করে এনেছিলাম। কাজটি করেছিলেন   ভারতের অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে ঢাকায় রেকর্ডিং করি। বেঙ্গল ফাউন্ডেশন অ্যালবামটি প্রকাশ করার প্রস্তাব দেয়। পরে তারাই সব  ব্যবস্থা করেছে।’ বিজনও বললেন প্রায় একই কথা, ‘বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের অনেক প্রজেক্ট আছে। নজরুলের গানও সেই প্রজেক্টের অন্তর্ভুক্ত। নজরুলের জন্মজয়ন্তী সামনে তারা অ্যালবামটি করার উদ্যোগ নেয়।’ অবশ্য এক বছর আগে নিজ উদ্যোগেই অ্যালবামটি করতে চেয়েছিলেন বিজন। সে জন্য ভারতের হারমোনি স্টুডিও থেকে অম্লান হালদারের সংগীতায়োজনে কাজও করে এনেছিলেন। তবে প্রকাশ করতে পারেননি।

অনিন্দিতার অ্যালবামে গান রয়েছে আটটি—‘জনম জনম’, ‘আয় মরুপারের হাওয়া’, ‘রুমঝুম রুমঝুম’, ‘বুলবুলি নীরব নার্গিস বনে’, ‘মোর ঘুমঘোরে এলে মনোহর’, ‘তুমি যতই দহ না’, ‘প্রিয় যাই যাই বলো না’ এবং ‘আমার যাবার সময় হলো’।

বিজন অ্যালবাম সাজিয়েছেন ১০টি গান নিয়ে—‘আমার আপনার চেয়ে’, ‘কুহু কুহু কুহু কোয়েলিয়া’, ‘তুমি যতই দহ না’, ‘হে প্রিয় আমারে দেব না’, ‘চেয়ো না সুনয়না’, ‘আমার বিফল পূজাঞ্জলি’, ‘ফুল-ফাগুনের এলো মরশুম’, ‘কেন উচাটন মন পরান’, ‘এ কোন মধুর শরাব দিলে’ ও ‘তুমি আরেকটি দিন থাকো’।

বেঙ্গল ফাউন্ডেশন একই দিন দুজনের অ্যালবাম প্রকাশনা অনুষ্ঠান করলেও বিষয়টি আগে থেকে জানতেন না কেউই। ‘কথা ছিল নজরুলের জন্মজয়ন্তীর দিন অথাৎ ২৫ মে অ্যালবামটির প্রকাশনা অনুষ্ঠান করার। কিন্তু রোজা শুরু হয়ে যাওয়ায় কাজটি আগেভাগেই সেরে নেওয়া হয়। মোড়ক উন্মোচনের সময়টা আমরা দুজনেই বেশ উপভোগ করেছি’—বলছিলেন বিজন। আরো বলেন, ‘অনেক আগে থেকেই অনিন্দিতার গান শুনছি। দারুণ গায়কি তাঁর।’

অনিন্দিতাও বিজনকে চিনেছেন তাঁর গান শুনেই। প্রকাশনার দিন নিজেদের অ্যালবামের গান ছাড়াও আরো বেশ কয়েকটি গান একসঙ্গে গেয়ে শুনিয়েছেন আগত শ্রোতাদের। দুজনের দ্বৈত পরিবেশনা শ্রোতাদের প্রশংসাও কুড়িয়েছে। তাহলে কি একসঙ্গে অ্যালবাম করার ইচ্ছা আছে? দুজনেরই এক উত্তর, ‘করলে তো মন্দ হয় না। কেউ যদি উদ্যোগ নেয় তাহলে দারুণ হবে। দুজন একই অ্যালবামে গাইলে শ্রোতারাও বৈচিত্র্য খুঁজে পাবেন।’

বর্তমান ব্যস্ততা কী নিয়ে? অনিন্দিতা বলেন, ‘গান নিয়েই আছি। নিজে নিয়মিত চর্চা করি। বাসায় বেশ কিছু ছেলে-মেয়েকে  শেখাই। সামনে নতুন আরেকটি অ্যালবামের রেকর্ডিং করব। এখন গান বাছাই করছি। সঙ্গে নিয়মিত টেলিভিশন ও বেতারের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গাইছি।’

বিজন বললেন, ‘নজরুলের বেশ কিছু গান অনেক দিন আগে বাছাই করে রেখেছি। সেগুলো নিয়ে অ্যালবাম করার পরিকল্পনা আছে। ১৮ বছর ধরে ছায়ানটে শিক্ষকতা করছি। বুয়েটের একটি সংগীত কোর্সে ক্লাস নিচ্ছি। সেদিকেও সময় দিতে হচ্ছে।’

সংগীত নিয়ে স্বপ্ন কী? ‘ভালো গান করে যেতে চাই। একটি ভালো গানের জন্য কোনো শ্রোতা যদি আমাদের মনে রাখেন সেটাই হবে  বড় পাওয়া। শুদ্ধ নজরুলসংগীতের প্রচার ও প্রসারে কাজ করতে     চাই’—বলেন তাঁরা।

 



মন্তব্য