kalerkantho


কী অনায়াস কী সহজাত

বয়স ২৫ পার হয়নি, এর মধ্যেই অস্কারে তিনবার মনোনয়ন পাওয়া হয়ে গেছে। একের পর এক নন-গ্ল্যামারার্স চরিত্রে অভিনয় করে সমালোচকদের প্রিয় পাত্রী বনে গেছেন সার্শা রোনান। ‘অন চেসিল বিচ’ মুক্তি উপলক্ষে তাঁকে নিয়ে লিখেছেন খালিদ জামিল

১৭ মে, ২০১৮ ০০:০০



কী অনায়াস কী সহজাত

২০১০ সালে মুক্তি পাওয়া পিটার ওয়্যরের ‘দ্য ওয়ে ব্যাক’ যাদের দেখা আছে তারা সার্শা রোনানকে চিনবেন ভালোভাবেই। এক পোলিশ এতিমের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন তিনি। ছবিটি ১৯৪০ সালের একটি সত্য ঘটনা অবলম্বনে, যেখানে সাইবেরিয়ার একটি কারাগার থেকে কয়েকজন কয়েদি পালিয়ে চার হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ভারত পৌঁছায়। পথে তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল সেই পোলিশ শিশু। এই ভূমিকায় দুর্দান্ত অভিনয়ের জন্য সার্শা জিতেছিলেন ক্যারিয়ারের চতুর্থ আইরিশ ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন অ্যাওয়ার্ড।

যুক্তরাজ্য আর যুক্তরাষ্ট্রের ছবিতে সমানভাবে দেখা যায় অভিনেত্রীকে। অনেকে তাঁর জাতীয়তা নিয়েও ধন্দে পড়ে যান। ঘটনা হলো পরিবার আইরিশ হলেও সার্শা রোনানের জন্ম নিউ ইয়র্কে। সেই সুবাদে নাগরিকত্ব মিলেছে আমেরিকারও। অভিনয়ের শুরুটা অবশ্য আয়ারল্যান্ডের পাবলিক সার্ভিস ব্রডকাস্টারসের মেডিক্যাল ড্রামা ‘দ্য ক্লিনিক’ দিয়ে।

চলচ্চিত্রে সবচেয়ে মর্যাদার পুরস্কার অস্কারের মঞ্চে ১৩ বছর বয়স থেকে পরিচিত তাঁর।  প্রথমবার সেরা পার্শ্বচরিত্রের জন্য মনোনয়ন পেয়েছিলেন ‘অ্যানটোনমেন্ট’ ছবিতে অভিনয় করে। সবচেয়ে কম বয়সে এই মনোনয়ন যাঁরা পেয়েছেন তাঁদের মধ্যে সার্শার অবস্থান সাত নম্বরে। এই অর্জনের পেছনে অবশ্য পরিচালক জো রাইটের অবদান অনেক বেশি বলেই মনে করেন অভিনেত্রী, ‘কোনো দৃশ্য বা সংলাপ নিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়লে তিনি এমনভাবে ব্যাপারটা বুঝিয়ে দিতেন, আর কোনো জড়তাই থাকত না।’ ‘অ্যানটোনমেন্ট’র আট বছর পর ‘ব্রুকলিন’ ছবির জন্য পান সেরা অভিনেত্রীর মনোনয়ন। এ বছর ‘লেডি বার্ড’ জন্যও স্রেফ মনোনয়ন নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে। এ মনোনয়ের মাধ্যমে আরেকটি রেকর্ডেও অংশীদার হয়েছেন তিনি। ২৪ বছরের আগে তিনবার অস্কার মনোনীত দ্বিতীয় অভিনেত্রী তিনি। তবে সার্শার কাজের যা ধরন অস্কার তাঁর থেকে খুব বেশিদিন মুখ ফিরিয়ে রাখতে পারবে বলে মনে হয় না। এ বয়সেই নন-গ্ল্যামারার্স যেকোনো চরিত্র করে নিজেই পুরো ছবিকে টেনে নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা রাখেন, যা তাকে সমালোচকদের প্রিয় পাত্রীতে পরিণত করেছে। কেবল সমালোচকরাই নন, তাঁর পাঁড় ভক্ত খোদ তারকা অভিনেতারাও। এই তো কিছুদিন আগেই নিজের অভিনয়ের উন্নতির জন্য সার্শাকে কৃতিত্ব দিয়েছেন রায়ান গসলিং! যেকোনো চরিত্রেই অনায়াসে ঢুকে পড়ার জন্য বিশেষ খ্যাতি সার্শার। অভিনেত্রী নিজে এ জন্য পরিশ্রমের ভূমিকা দেখেন, ‘যে চরিত্রে কাজ করবেন সেটার মধ্যেই নিজেকে ঢুকিয়ে ফেলতে হবে। ভুলে যেতে হবে নিজের আসল পরিচয়। কারণ এটা আমার পেশা। যার ধরনটাই এমন যে নিজেকে ভুলে চরিত্রকে আপন করে নিতে হয়।’ চরিত্রের প্রয়োজনে নিজেকে নানাভাবেই পরিবর্তন করেছেন তিনি। এই যেমন ‘দ্য হোস্ট’-এর ‘ওয়ান্ডা’ চরিত্রের জন্য নিজের গলার স্বর আর কথা বলার ধরনে পরিবর্তন এনেছিলেন।

ভালো কাজের জন্য অনেক বড় সুযোগও ফিরিয়ে দিয়েছেন অবলীলায়। ২০১২ সালের ব্লকবাস্টার ‘দ্য হবিট : অ্যান আনএক্সপেক্টেড জার্নি’ ছবির প্রস্তাব পেয়েও করেননি।

সার্শার নতুন ছবি ‘অন চেসিল বিচ’ মুক্তি পাচ্ছে আগামীকাল। ডোমিনিক কুক পরিচালিত ব্রিটিশ চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছে ২০০৭ সালে বুকার মনোনীত উপন্যাস অবলম্বনে।



মন্তব্য