kalerkantho


আমরা আর্কাইভের জন্য আন্দোলন করেছি

মোরশেদুল ইসলাম
চলচ্চিত্র নির্মাতা, ফিল্ম আর্কাইভ বিশেষজ্ঞ কমিটির সদস্য

১৭ মে, ২০১৮ ০০:০০



আমরা আর্কাইভের জন্য আন্দোলন করেছি

অনেক চড়াই উতরাইয়ের ভেতর দিয়ে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ আজকের অবস্থানে এসেছে। আমরা চলচ্চিত্রকর্মীরা আর্কাইভের জন্য আন্দোলন করেছি। আর্কাইভ গড়ে ওঠার পেছনে চলচ্চিত্র সংসদকর্মীদের অনেক অবদান। ফিল্ম আর্কাইভ গঠনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সরকারকে বোঝাতে হয়েছে। কারণ এটাকে সরকার সব সময় অবহেলার চোখে দেখেছে। আর্কাইভ গড়ে তোলার পেছনে আব্দুর রউফ সাহেবের অবদান বেশি ছিল। তিনি নিজ হাতে আর্কাইভ গড়ে তুলেছেন। ফিল্ম অ্যাপ্রিসিয়েশন কোর্স চালু করেছিলেন তিনি। আলমগীর কবির, বাদল রহমানরা ক্লাস নিয়েছেন। আমি, তারেক মাসুদ, তানভীর মোকাম্মেলসহ অনেকেই সেই কোর্সের ছাত্র। সৈয়দ হাসান ইমাম, আলমগীর কবির, বাদল রহমান—তাঁরাও বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছেন। আব্দুর রউফের পর যাঁরা আর্কাইভের দায়িত্ব নিয়েছিলেন তাঁরা ভালোভাবে দায়িত্ব পালন করেননি। প্রথম দিকের সংগ্রহ অনেক ভালো ছিল। এর পেছনে সৈয়দ আব্দুল আহাদের অবদান সবচেয়ে বেশি। কিন্তু সঠিক তাপমাত্রায় সংরক্ষণ না করায় অনেক ছবি নষ্ট হয়ে যায়। এ কারণে তখন আমরা আবার আন্দোলন করি। এ সময় তারেক মাসুদও ফিল্ম আর্কাইভের জন্য নানা চেষ্টা ও তৎপরতা চালিয়েছেন। সবাই মিলে আমরা মানববন্ধন করেছি। অবশেষে এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর আর্কাইভের অবস্থার উন্নতি হলো। সরকার জায়গা দিয়েছে, স্থাপনা গড়ে দিয়েছে। আধুনিক অনেক যন্ত্রপাতি থাকায় এখন সুন্দরভাবে ছবি সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে। ডিজি হিসেবে দায়িত্ব পেয়ে ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন ভালো ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি গবেষণা কার্যক্রম চালু করেন।

বিশ্বের আর দশটা আর্কাইভের মতোই সক্ষমতা অর্জন করেছে বাংলাদেশের ফিল্ম আর্কাইভ। এখন ফিল্মের সংগ্রহ বাড়াতে হবে। এখানে দক্ষ জনবলের অভাব রয়েছে। টেকনিশিয়ানদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে দিতে হবে।



মন্তব্য