kalerkantho


শোবিজের নতুন তারা

১৭ মে, ২০১৮ ০০:০০



শোবিজের নতুন তারা

প্রায় ১২ হাজার প্রতিযোগীকে টপকে হলেন ‘লাক্স সুপারস্টার ২০১৮’ বিজয়ী। মিম মানতাশার স্বপ্নজয়ের গল্প ও শোবিজ ভাবনা শুনেছেন ইসমাত মুমু

 

পাবনার আদর্শ গার্লস স্কুল থেকে মাধ্যমিক ও মহিলা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে ভর্তি হলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে। এখন আছেন শেষ বর্ষে। বাবা অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলী। তিন বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে মানতাশা তৃতীয়। ভাইটা সবার ছোট। পাবনার মেয়ে হলেও বাবার চাকরির কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে থেকেছেন। বর্তমানে সপরিবারে থাকেন ঢাকার মোহাম্মদপুরে।

শোবিজ নিয়ে ছোটবেলায় কোনো স্বপ্ন দেখেননি। স্বপ্ন দেখতেন একটাই—মহাকাশচারী হবেন। আগ্রহ ছিল আঁকাআঁকিতেও। ‘আঁকতে খুব ভালো লাগত। একসময় ভাবলাম পেশাদার আঁকিয়ে হব। সেটা ভেবেই চারুকলা অনুষদে ভর্তি হয়েছিলাম। এখন সামনে নতুন দিগন্ত—শোবিজ। এখানে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। তবে ছবি আঁকার প্রতি ভালো লাগাটা চিরকালই থাকবে’—বললেন মানতাশা।

তাহলে ‘লাক্স সুপারস্টার’ প্রতিযোগিতায় যুক্ত হলেন কিভাবে? বলেন, ‘সত্যি বলতে আগে কখনো ফটোশুটও করিনি। পড়াশোনা নিয়েই ছিল যত ব্যস্ততা। একটা সময়ে মনে হলো নিজেকে আরো বেশি করে জানি। আবিষ্কার করলাম, মনের এক কোণে অভিনয়ের বাসনা জমেছে। কখন যে সেটা বড় হয়ে গেছে বুঝতে পারিনি। বোনদেরও আগ্রহ ছিল। এভাবেই নাম লেখানো। পারব কি না জানি না, তবে নিজেকে একটা চান্স দেওয়া প্রয়োজন মনে করেছি।’

এসব ক্ষেত্রে অনেক সময়ই মা-বাবার সমর্থন পান না অনেকে, শুরুতে মানতাশাও পাননি। কয়েকটি পর্ব ভালো করার পর থেকে সবার সমর্থন পেতে শুরু করলেন। ‘বিশ্বাসটা তখন বাড়ছিল। সবাই ভাবছিলেন, আমি হয়তো কিছু একটা করে দেখাতে পারব। সবচেয়ে বেশি প্রেরণা পেয়েছি আমার বড় আপুর কাছ থেকে, বন্ধুদের কাছ থেকে। তারা আমাকে বলত, তুমি পারবে মানতাশা, তোমার যোগ্যতা রয়েছে। আমি তাদের সে বিশ্বাসটাকেই কাজে লাগাতে চেয়েছি’—বললেন মানতাশা।

প্রতিযোগিতায় নাম লেখানোর পর মানতাশা ঢুকে গেলেন নতুন এক রাজ্যে। সব কিছুই তাঁর জন্য নতুন। প্রথম দিনের ফটোশুট থেকে ফাইনাল পর্যন্ত প্রতিটা ধাপেই নিত্যনতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে। মানতাশা বলেন, ‘শোবিজে ক্যারিয়ার গড়ার পূর্ণ দীক্ষা পেয়েছি এখানে। এমন দীক্ষা পেলে এবং চেষ্টা থাকলে অন্যরাও পারবে শোবিজে জায়গা করে নিতে।’

যেদিন মানতাশার সঙ্গে কথা হচ্ছিল, সেদিনই ক্যাম্প ছেড়ে বাসায় ফিরবেন। চোখে-মুখে আনন্দের বন্যা বয়ে যাচ্ছিল তাঁর, ‘সবার জন্য খুশির সংবাদ নিয়ে যাচ্ছি, ভাবতেই আনন্দে শরীর অবশ হয়ে আসছে। প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার পর থেকে পুরোটা সময় এই ক্যাম্পে ছিলাম। আজ সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে যাব। ভাবছি বাসায় গিয়ে কী করব—হৈচৈ, আড্ডা, গল্প হবে নিশ্চয়ই। ভীষণ ভালো লাগছে।’

মুকুট জিতে নিয়ে অনেক বড় কিছু হয়ে গেছেন তা মনে করেন না মানতাশা। বলেন, ‘একদম আগের মতোই আছি। এই মুকুট শুধু মূল সাফল্যের মঞ্চ তৈরি করে দিয়েছে। আমার আরো অনেক জানতে হবে, শিখতে হবে, অনেক কিছু করতে হবে। দায়িত্বটা অনেক বেড়ে গেছে এখন। সবার এক্সপেকটেশনের জায়গাটা অনেক বেড়ে গেছে। তাদের এই আশা পূরণ করতে পারব কি না সেটাই এখন চিন্তার বিষয়। শুধু আমি নই, আরো অনেক প্রতিভাবান মেয়ে ছিল এবারের আসরে। সবাই সামনে ভালো করবে—এটা প্রত্যাশা করি।’

মডেলিং, নাটক, সিনেমা—নিজেকে কোন মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত করতে চান? ‘অভিনয় করতে চাই, সেটা হতে পারে নাটকে কিংবা সিনেমায়। মডেলিংও করব।’

এরই মধ্যে একটি নাটকে অভিনয়ের ঘোষণা দিয়েছেন। চ্যানেল আইয়ের ঈদের নাটকে থাকবেন মানতাশার ‘তাহসান স্যার’। ‘ব্যাপারটা অনেক ভালো লাগছে, আবার ভয়ও করছে। একই সঙ্গে নার্ভাসও। তিনি আমার জাজ ছিলেন, এখন আমার সহশিল্পী হবেন, জানি না কী হয়। তবে তাঁর কাছ থেকে অনেক কিছু শিখব আশা করছি।’

অবসরে ছবি আঁকতে ভালো লাগে, সিনেমা দেখতেও। এনিমেশন মুভি তাঁর বেশি পছন্দের।



মন্তব্য