kalerkantho


দুই বাংলার গানের জুটি

একজন বাংলাদেশের জনপ্রিয় গায়িকা দিলশাদ নাহার কণা, আরেকজন পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় গায়ক-সুরকার আকাশ সেন। অল্প সময়ের মধ্যেই দুজন মিলে বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন। ব্যতিক্রমী এই গানের জুটি নিয়ে লিখেছেন ইসমাত মুমু

১৯ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



দুই বাংলার গানের জুটি

১৫ এপ্রিল কণার জন্মদিন। জন্মদিনের ঘরোয়া আয়োজনে ব্যস্ত। এর মধ্যেই কথা হলো তাঁর সঙ্গে। আকাশ আছেন কলকাতায়। অনলাইনেই আলোচনায় যোগ দিলেন। শুরুতেই কণাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানালেন আকাশ, ‘দীর্ঘজীবী হোক কণা। আরো ভালো ভালো গান করুক।’ আকাশকে ধন্যবাদ দিতে ভুললেন না কণা। জন্মদিনের পাট চুকিয়ে কথা ওঠে গানে তাঁদের জুটি নিয়ে। প্রথম পরিচয়ের ঘটনা স্মরণ করে আকাশ বলেন, “ঢাকায় প্রথমবার যখন যাই, তখনই আলাপ আমাদের। বাংলাদেশের গহীন ভাইয়ের সঙ্গে পরিচয় ছিল। তাঁর অফিসেই কণার সঙ্গে প্রথম দেখা। কথায় কথায় ও জানাল, কোথায় যেন সে আমার করা ‘রোমিও জুলিয়েট’ ছবির ‘সোহাগ চাঁনবদনি’ গানটা লাইভে গেয়েছে। এটা শুনে আমার খুবই ভালো লেগেছে। পরে একসঙ্গে আমরা অনেক গান করেছি।”

প্রথম আলাপেই একসঙ্গে গান করার প্রস্তাব দেন কণা। আকাশও বেশ উচ্ছ্বসিত কণার সঙ্গে গান করার জন্য। দুজনের প্রথম গান ‘রেশমি চুড়ি’। ‘সেদিনই এই গানের সুর শোনালাম। এটা আমার জন্য স্পেশাল একটা। এর আগে অডিওতে আমার কোনো গান হয়নি। বাংলাদেশে তো নয়ই। আর কণার মতো এমন পপুলার একজন গায়িকা সেই সুযোগটা আমাকে দেয়। এটা আমার জন্য বেশ বড় একটা পাওয়া ছিল। দুজনে মিলে সুন্দর একটি গান প্রডিউস করলাম। গানটি শুধু বাংলাদেশেই নয়, ভারতের বিভিন্ন চ্যানেলেও প্রচারিত হয়েছে। ইউটিউবে এক কোটি ৪৬ হাজার বার দেখা হয়েছে গানটি। অনেকে বিভিন্ন আয়োজনে গানটির সঙ্গে নাচে। গানটি অনেক দিন টিকবে আমার মনে হয়’—বললেন আকাশ।

‘রেশমি চুড়ি’র পর আরো বেশ কিছু গান জনপ্রিয় হয়েছে এই জুটির। নাজির মাহমুদের সুরে ‘ইচ্ছেগুলো’ ও ‘তুমি আমার জীবন’। ‘দ্বিতীয়বার যখন ঢাকায় যাই, তখন গান দুটি করেছি। নাজির মাহমুদ খুবই গুণী সুরকার। তাঁর নাম আগেই শুনেছিলাম। হঠাৎ করেই গানগুলো গাওয়া। সময়ও পেয়েছি খুব কম। তবে গান দুটি বেশ জনপ্রিয় হয়েছে’—বললেন আকাশ।

এই মিউজিশিয়ান ও গায়কের সঙ্গে গান করতে দারুণ স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন কণা, ‘ওর সবচেয়ে ভালো যে দিকটা, মেলোডি বেশ ভালো বোঝে। ওর সুরের মধ্যে এমন কিছু ব্যাপার থাকে, যা এই সময়কার শ্রোতারা বেশ পছন্দ করে।’

গানের বাইরে দুজনের সম্পর্ক কেমন? আকাশ বলেন, ‘আমি মনে করি কণা আমার খুব ভালো বন্ধু। কোথায় যেন আমাদের খুব মেলে। শ্রোতা হিসেবেও আমাদের মিল আছে। ওর কাছে যেটা ভালো গান, আমার কাছেও সেটা ভালো গান মনে হয়। আর সবচেয়ে বড় কথা, ওর আর আমার গানগুলো দর্শক-শ্রোতা খুব আপন করে নিয়েছে। আমার কাছে মনে হয় এটা লাক ফ্যাক্টর। অনেক সময় অনেক ভালো দুজন কণ্ঠশিল্পীও জুটি হয়ে এত ভালো গান দিতে পারে না, যেটা আমরা পেরেছি।’

আকাশের সুরে যৌথ প্রযোজনার ছবি ‘নবাব’-এর গান ‘ও ডিজে’ দুজনে একসঙ্গে গেয়েছেন। সেটা তো সুপারডুপার হিট। ‘রক্ত’ ছবির ‘ডানাকাটা পরী’ গানটিও তাঁদের একসঙ্গে গাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সে সময় কণা ভীষণ ব্যস্ত ছিলেন। আকাশ যোগাযোগও করেছিলেন গানটি গাওয়ার জন্য। তবে শেষমেশ হয়নি। এ নিয়ে আকাশের এখনো আফসোস রয়েছে। পরে মুম্বাইয়ের কণিকা কাপুরকে দিয়ে গানটি গাওয়ানো হয়।

বাংলাদেশে খুব অল্প সময়ের জন্যই আসেন আকাশ। যে কাজেই আসেন না কেন, একটা সময় আলাদা করে রাখেন পোশাক কেনার জন্য। কারণ এখানকার পোশাক তাঁর ভীষণ প্রিয়। তবে গানের বাইরে কণার সঙ্গে খুব একটা আড্ডা হয় না। সেটা দুজনই স্বীকার করলেন। ‘বাংলাদেশের ব্যস্ততম সিঙ্গারদের একজন কণা। তাই কাজের বাইরে খুব একটা দেখা হয় না। তবে কোনো রেকর্ডিং থাকলে সেই এক-দু ঘণ্টা খুব আনন্দ করে কাটাই আমরা। কণার উপস্থিতি যেকোনো আড্ডাই মুখর করে দিতে পারে’—বললেন আকাশ।

এখন পর্যন্ত দুজনের বেশির ভাগ গান রেকর্ড হয়েছে কলকাতায়। ‘হেইলা দুইলা নাচ’, ‘ইচ্ছেগুলো’, ‘ভালবাসা দাও’, ‘ছটফট করে’ গানগুলোর রেকর্ড হয়েছে বাংলাদেশে। বাংলাদেশে এসে আকাশ যেমন কেনাকাটায় ব্যস্ত হয়ে ওঠেন, তেমনি কলকাতা গেলে কণাও কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় কাটান। কণা বলেন, ‘ওদের বাংলা আর আমাদের বাংলার মধ্যে একটু পার্থক্য আছে। যখন ওরা আমাদের বাংলা বলার চেষ্টা করে, তখন খুব মজা লাগে। আবার আমরা যখন ওদেরটা বলতে চাই, তখন ওরা আবার খুব মজা নেয়। এ রকম তো চলেই। গান রেকর্ডিংয়ের সময় এটা বেশ আনন্দের।’


মন্তব্য